বানিজ্য

সহসাই বৃদ্ধি হচ্ছে না জ্বালানি তেল মজুদ ক্ষমতা

শীর্ষবিন্দু নিউজ: কন্সট্রাকশন অব থ্রি পোল স্ট্রোরেজ ট্যাংক ১০০০ মেট্রিক টন ইচ অ্যাট মেইন ইন্সটালেশন অব চিটাগাং শীর্ষক প্রকল্পের কাজ চলছে। এক হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ৩টি স্টোরেজ ট্যাংক নির্মাণের কাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ হচ্ছে না। এর ফলে নির্মাণাধীন ও নির্মিতব্য বিদ্যুৎ  উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে জ্বালানি সরবরাহে সংকট সৃষ্টি হবে। এতে করে সহসাই হচ্ছে না বিদ্যু‍ৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে জ্বালানি সরবরাহের লক্ষে ডিজেল ও ফার্নেস অয়েল মজুদ ক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ।

জানা যায়, প্রকল্পটির মোট ব্যয় ২৭ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে জিওবি ২৩ কোটি ৩৪ লাখ এবং প্রকল্প সাহায্য ৪ কোটি ১১ লাখ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন(বিপিসি)’র আওতাধীন মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড। প্রকল্পের কাজ জানুয়ারি ২০১২ থেকে ডিসেম্বর ২০১৩ সাল নাগাদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনও অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাকি রয়েছে বলে পরিকল্পনা কমিশন জানিয়েছে।

পরিকল্পনা সূত্র জানায় প্রস্তাবিত ডিপিপি’তে প্রকল্পের বাস্তবায়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ২৭ কোটি টাকা। যা মূল অনুমোদিত ডিপিপি থেকে ৪৬ লাখ টাকা কম। তবে ব্যয় কমলেও বর্ধিত করা হয়েছে জানুয়ারি ২০১২ থেকে জুন ২০১৪ সাল নাগাদ। মূলত ২০১৩-১৪ অর্থবছরে আরএডিপিতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ প্রাপ্তি এবং বরাদ্দকৃত অর্থ ছাড়করণের জন্য জুন ২০১৪ সাল নাগাদ সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের এক  প্রতিনিধি বলেন, মূল অনুমোদিত ডিপিপি অন্যান্য বিল্ডিং ও অবকাঠামো খাতে ৮ কোটি ৫৩ লাখ সংস্থান রাখা হয়েছে। প্রস্তাবিত আরএডিপিতে এ খাতে মোট ব্যয় অপরিবর্তিত থাকা সত্ত্বেও জিওবি অংশে ৬ লাখ ৮৩ হাজার টাকা এবং কোম্পানির নিজস্ব অংশে ৬ লাখ টাকা হ্রাস করা যৌক্তিক হয়নি। উল্লেখিত খাতে মূল ডিপিপি’র ন্যায় জিওবি অংশে ৫ কোটি ৪৬ লাখ টাকা এবং কোম্পানির নিজস্ব অংশে ২ কোটি ৮৮ হাজার টাকা সংস্থান করা যায় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ আশরাফউজ্জামান বাংলানিউজকে জানান, পুনঃদরপত্র আহ্বান করার কারণে প্রস্তাবিত প্রথম সংশোধিত ডিপিপিতে শুধু প্রচার ও বিজ্ঞাপন বাবদ ১ লাখ ৬২২ হাজার টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া সম্মানি বাবদ ৪৮ হাজার টাকা, প্রাইজ কন্টিনজেন্সি বাবদ ৩৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয় বেড়েছে এবং ফিজিক্যাল বাবদ ৯ লাখ ২৩ হাজার টাকা ব্যয় কমেছে। বার বার প্রকল্পের ব্যয় হ্রাস বৃদ্ধি ও মেয়াদ বৃদ্ধির কারণেই প্রকল্পের কাজে তেমন কোনো গতি নেই। এবং নির্দিষ্ট মেয়াদে প্রকল্পের বাস্তবায়ন হবে না বলে জানা গেছে।

২০১৩-১৪ অর্থ বছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে প্রকল্পটির অনুকূলে ১০ কোটি বরাদ্দ রয়েছে। ২০১২-১৩ অর্থ বছরে আরএডিপিতে প্রকল্পটির অনুকূলে ৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা বরাদ্দ ছিল। দুই অর্থবছরে মোট ১৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, ২০১৩-১৪ অর্থ বছরের আরএডিপিতে প্রকল্পটির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ৩ থেকে ৪ মাস স্বাভাবিক পরিবহন ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার কারণে কিছু আনুষঙ্গিক কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করা যায়নি।

মেয়াদ বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি জানান ২০১৩-১৪ অর্থবছরে আরেএডিপিতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ প্রাপ্তি এবং বরাদ্দকৃত অর্থ ছাড়করণের জন্য জুন ২০১৪ সাল নাগাদ সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে। মূলত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের ব্যয় হ্রাস বা বৃদ্ধির কারণে প্রকল্পের অগ্রগতি আশাব্যাঞ্জক নয়। বরাদ্দকৃত অর্থ ইতোমধ্যে ব্যয়িত অর্থের তুলনায় কম হাওয়ায় ঠিকাদারদের বিল বাবদ ১৭ কোটি ৭৯ লাখ টাকা ব্রিজ ফাইনান্সিংয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close