অর্থনীতি

সংশোধিত এডিপিতে বরাদ্দ ৬০ হাজার কোটি টাকা

শীর্ষবিন্দু নিউজ: সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (আরএডিপি) আকার ৬০ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার শেরে বাংলা নগরে পরিকল্পনা কমিশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে বলে সভা শেষে জানান পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সভার সার-সংক্ষেপ উপস্থাপন করেন পরিকল্পনামন্ত্রী।

মন্ত্রী জানান, প্রকল্পের চাহিদা মোতাবেক সংশোধিত এডিপির আকার ধরা হয়েছে ৬০ হাজার কোটি টাকা। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ৫৫ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, সেখান থেকে ৫ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে ৬০ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ৫ হাজার কোটি টাকা আসবে সরকারি খাত থেকে। প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আরএডিপির চূড়ান্ত আকার নির্ধারণ করা হয় বলে জানান পরিকল্পনামন্ত্রী।

আ হ ম মোস্তফা কামাল বলেন, এনইসি’র সভায় ২০১৩-১৪ অর্থবছরের সংশোধিত এডিপি’র জন্য ৬০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দকৃত এ অর্থ গত অর্থবছরের তুলনায় ৭ হাজার ৬৩৪ কোটি টাকা বেশি। এ অর্থবছরে ১ হাজার ২৫৪টি উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য সংশোধিত এডিপি’তে এ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ২০১৩-১৪ অর্থ বছরের সংশোধিত এডিপিতে বরাদ্দসহ অন্তর্ভুক্ত মোট ১ হাজার ২৫৪টি প্রকল্পের মধ্যে ২০২টি প্রকল্প নতুনভাবে অনুমোদিত। এই ১ হাজার ২৫৪টি প্রকল্পের মধ্যে ১ হাজার ৪৯টি বিনিয়োগ প্রকল্প, ১৭৪টি কারিগরি সহায়তা প্রকল্প এবং ৩১টি জেডিসিএফ অর্থায়িত প্রকল্প। নতুন অনুমোদিত ২০২টি প্রকল্পের মধ্যে বিনিয়োগ প্রকল্প ১৪৯টি। বাকী ৪৩টি’র মধ্যে ৪২টি কারিগরি সহায়তা প্রকল্প এবং একটি জেডিসিএফ অর্থায়িত প্রকল্প।

এ বছরের সংশোধিত এডিপিতে বরাদ্দবিহীনভাবে সংযুক্ত অননুমোদিত নতুন ৫৫৭টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এছাড়া, সংশোধিত এডিপিতে বৈদেশিক সাহায্য প্রাপ্তির সুবিধার্থে বরাদ্দ ব্যতিরেকে প্রতিফলিত ৩০৪টি প্রকল্পেরও অনুমোদন দেওয়া হয়। এ অর্থবছরে ২৩৬টি প্রকল্প সমাপ্ত হবে বলেও সভায় আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, পরিকল্পনামন্ত্রীর অনুমোদনক্রমে পরিকল্পনা কমিশনের কার্যক্রম বিভাগ ২০১৩-১৪ অর্থ বছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির কোনো উন্নয়ন সহায়তা খাতে এবং কোনো সেক্টর/প্রকল্পের অব্যয়িত সাশ্রয়যোগ্য অর্থ থাকলে প্রয়োজনীয়তার নিরিখে উক্ত অর্থ একই সেক্টরভুক্ত অথবা আন্তঃসেক্টরের মধ্যে যে কোনো প্রকল্পের অনুকূলে পুনঃনির্ধারণ/পুনঃবরাদ্দের এখতিয়ার রাখবে।

বর্তমান সরকারের প্রথম এনইসি সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, এডিপি প্রণয়ন ও তার সংশোধন একটি চলমান প্রক্রিয়া। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের ডিজিটাল দেশ হিসেবে গড়ার লক্ষে আরএডিপি প্রণয়ন করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন, অধিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সরবরাহ বৃদ্ধি। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সবার জন্য মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতকরণ, স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ, নারীর ক্ষমতায়ন, অপরাধ দমন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির প্রসার ইত্যাদি বিষয়ের ওপর এ বছরের আরএডিপিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে গুণগত মান নিশ্চিতকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী।

সভায় অর্থমন্ত্রী জানান, পদ্মা সেতুর টাকা অন্য খাতে ব্যবহার করা হবে না। এ খাতের টাকা অপরিবর্তিত থাকবে। এ সময় তিনি বলেন, সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্যে বাংলাদেশের অর্থনীতি মন্দার কবলে পরেনি। এ জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ট নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। এনইসি’র সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রকল্প বাস্তবায়ন যাতে সঠিক ও দ্রুততার সঙ্গে হয় সেজন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন।

এ সময় তিনি যেসব প্রকল্প এ বছর শেষ করে ফেলা যাবে তা আগামী বছরের জন্য রেখে না দেওয়ার নির্দেশ দেন। বর্ধিত ৫ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাজেট ঘাটতি ৫ শতাংশ রেখেই এই বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। এতে প্রতিফলিত হয় আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থা স্থিতিশীল। আমাদের উন্নয়নের একটা ধারাবাহিকতা রয়েছে। সংশোধিত এডিপিতে সরকারি-বেসরকারি অংশিদারিত্বের ভিত্তিতে ৪৬টি প্রকল্পকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ধীরগতি সম্পন্ন প্রকল্প হতে বরাদ্দ হ্রাস করে দ্রুত বাস্তবায়ন গতিসম্পন্ন প্রকল্পে প্রয়োজন অনুসারে বরাদ্দ প্রদান করা হবে।

সভা শেষে পরিকল্পনা কমিশনের কার্যক্রম বিভাগ জানিয়েছে, এবারের সংশোধিত এডিপি বরাদ্দের ক্ষেত্রে দারিদ্র বিমোচনের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে কৃষি, কৃষিভিত্তিক শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ক্ষয়ক্ষতি পুনর্বাসন সংক্রান্ত প্রকল্পে বরাদ্দ প্রদানে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বকে স্বাগত জানানো হয়েছে। অঞ্চলভিত্তিক সুষম উন্নয়নের লক্ষ্যে এবারের সংশোধিত এডিপিতে বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে।

এছাড়া, সভায় ২০১৩-১৪ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা হয়। সভায় জানানো হয়, এ অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বাস্তবায়ন হার ৩৮ শতাংশ। প্রকৃত অর্থে প্রকল্পগুলো শেষ হওয়ার পরেও পেমেন্ট বাকি থাকায় সমাপ্ত হওয়া এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হারে দেখানো হয় না বলে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বাস্তবায়ন হার কম মনে হয়। সংশোধিত এডিপি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রসার, জনগণের অধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য সেবার মানোন্নয়ন, মানব সম্পদ উন্নয়ন, খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ম্ভরতা অর্জন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, দারিদ্র্য বিমোচন ইত্যাদির মাধ্যমে সার্বিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পরিকল্পনা মন্ত্রী জানান, এডিপির প্রস্তাবিত আকার ছিল ৬৫ হাজার কোটি টাকা। তারপর সংশোধিত এডিপিতে অর্থ মন্ত্রণালয় ৫৪ হাজার কোটি টাকার মধ্যে সীমা বেঁধে দিয়েছিল। তারপর ১ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে ৫৫ হাজার কোটি টাকা করা হয়। তিনি বলেন, প্রত্যেকটি মন্ত্রণালয়ের দাবি ছিল বিভিন্ন প্রকল্পের বাড়তি ব্যয় বরাদ্দ রাখা। এ বছরের এডিপি বাস্তবায়ন খারাপ হয়নি। এখন পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়েছে ৩৮ শতাংশ। তবে বছর শেষে বাস্তবায়নের হার বেড়ে যাবে। কেননা এ সময় কাজ শেষ হওয়া প্রকল্পে অর্থছাড়ের গতি বেড়ে যায়। চলতি অর্থবছরে পদ্মা সেতুর বরাদ্দ ব্যয় করা হবে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, পদ্মা সেতুর ২ হাজার ১০০ কোটি টাকার বরাদ্দ এ বছরই ব্যয় করা হবে। কেননা আমরা পদ্মা সেতুকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন করবো। দেশের মানুষ অচিরেই পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন দেখবে। প্রকল্প চাহিদা মোতাবেক বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

আরও দেখুন...

Close
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close