Featuredসিলেট থেকে

বিমান দুর্ঘটনায় ওসমানী বিমান বন্দরে নিহত ৫ জন

শীর্ষবিন্দু নিউজ: সিলেট এম এ জি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এবিসি এয়ারলাইনস ডেস ৮ বিমানটি দুর্ঘটনা কবলিত হয়েছে। এতে বিমানের যাত্রীসহ ৫জন নিহত ও অন্তত ২৫জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত দু’জনকে বিমানের জরুরী ফ্লাইটে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে। বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। এটি বাস্তব কোন ঘটনা নয়, বিমানবন্দরে অগ্নিনির্বাপন মহড়ার একটি চিত্র। বুধবার বিমানবন্দরে যে কোন দুর্ঘটনা ঘটলে বিমানের যাত্রীদের উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপনে নিয়মিত প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এই মহড়া অনুষ্ঠিত হয়।

মহড়ার চিত্র: ঠিক সাড়ে ১১টা। বিমানবন্দরের কন্ট্রোল রুম থেকে ইমার্জেন্সি সিগন্যাল শুরু। কিছুক্ষণের মধ্যে সাইরেন বেজে উঠলো। অবতরণ করার সময় ইঞ্জিনে আগুন লেগে এবিসি এয়ারলাইন্সের ডেস এইট বিমানটি পড়ে গেছে। বিমান দুর্ঘটনার পরপরই বিমান বন্দরের নিজস্ব ফায়ার ব্রিগেড দল আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। বিমানবন্দরের ইমার্জেন্সি টেলিফোন পেয়ে তাদের সহযোগিতায় শহর থেকে ছুটে আসে ফায়ার সার্ভিস এর দু’টি টিম। চারটি দমকল টিম মিলে প্রায় ২০ মিনিট চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

একই সময়ে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল হাসপাতাল, সিভিল সার্জন অফিসসহ স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকের ডাক্তার ও সেবিকারা ছুটে আসেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) ৯ ও সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কয়েকটি টিম ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। চলে উদ্ধার অভিযান। একই সাথে আহতদের মধ্যে সিরিয়াস, ক্যাজুয়েল, মাইনর সহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে চিহ্নিত করে তাদেরকে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। সাধারণ আহতদের উপস্থিত চিকিৎসা দেয়া হয়।

সমাপনী অনুষ্ঠান: বুধবার সকাল সাড়ে এগারটায় এ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। দুপুর ১২টায় মহড়া শেষে সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মাহমুদ হোসেন। তিনি বলেন, একটি বিমান দুর্ঘটনায় মানুষের জীবন ঘনিষ্টভাবে জড়িত থাকে। তাই এই মহড়া বিমানবন্দর সংশ্লিষ্টদের জন্য খুবই প্রয়োজনীয় ছিলো। প্রতি দু’বছর পরপর হওয়ার কথা থাকলেও সিলেটে এটাই প্রথম মহড়া। আগামীতে প্রতিবছর এধরণের মহড়া হওয়া প্রয়োজন।

তিনি আরো বলেন, সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক মান বৃদ্ধিতেও এই মহড়া প্রয়োজন ছিলো। এই মহড়ার মধ্য দিয়ে বিমানবন্দরে কর্তব্যরতদের কাজের মান আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী দু’চার বছরের মধ্যে এই বিমানবন্দরের গুরুত্ব অনেক বেড়ে যাবে। পুরো বাংলাদেশের জন্য বিমানবন্দরটি গর্বের বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।

সিলেট বিমান ওসমানী বিমানবন্দরের পরিচালক হাফিজ আহমদের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জালালাবাদ ক্যান্টনম্যান্ট, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ, বাংলাদেশ বিমানবাহিনী, র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৯), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সিলেট অঞ্চল, সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল হাসপাতাল, সিভিল সার্জন সিলেট, ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স, সিলেট ক্যাডেট কলেজ, সিভিল এ্যাভিয়েশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গত সোমবার বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে মহড়া উপলক্ষে রিহার্সেল ও প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

আরও দেখুন...

Close
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close