জাতীয়

গণজাগরণ মঞ্চ থেকে অব্যাহতি: বিস্মিত ইমরান

শীর্ষবিন্দু নিউজ: সাম্প্রতিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে বিতর্কিত হয়ে পড়ায় গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্রের পদ থেকে ডা. ইমরান এইচ সরকারকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হলো। তার কোনো বক্তব্য এখন থেকে আর গণজাগরণ মঞ্চের বক্তব্য বলে বিবেচিত হবে না। শনিবার বেলা সাড়ে বারোটার দিকে রাজধানীর শাহবাগে  গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী ও সংগঠকবৃন্দ’র ব্যানারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এ ঘোষণা দেয় ইমরানবিরোধী গণজাগরণ মঞ্চের একাংশ।

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এ সিদ্ধান্তে বিস্মিত হয়েছেন ইমরান এইচ সরকার। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের মঞ্চের মুখপাত্রের পদ থেকে আমাকে সরানোর অধিকার নেই। গণজাগরণ মঞ্চ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে শুরু হয়েছিল। এটা একটি নিরপেক্ষ প্লাটফর্ম। তিনি সকল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

আয়োজিত ইমরানবিরোধী সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, অচিরেই গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি মুখপাত্র প্যানেল গঠন করা হবে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিজেকে গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক বলে দাবি করা সংস্কৃতিকর্মী কামাল পাশা। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, গৌরব ৭১ এর সভাপতি আজাদ আবুল কালাম, সাধারণ সম্পাদক এফ এম শাহীন, অপরাজেয় বাংলা’র সভাপতি এইচ রহমান নিলু প্রমুখ।

ইমরানকে কিভাবে অব্যাহতি দেওয়া হলো জানতে চাইলে কামাল পাশা বলেন, তিনি যেভাবে মুখপাত্র হয়েছিলেন, সেভাবেই তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। শুরু থেকেই আমরা ছিলাম, শুরুর দিকে বিভিন্ন মিডিয়াতে আমরা ইন্টারভিউ দিয়েছি। পরে শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য একজনকে কথা বলতে দিতাম। ইমরানকে মুখপাত্র নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত এ এস কামারুজ্জামান নামের একজন বলেন, আমাদের মধ্যে যাতে শৃঙ্খলাভঙ্গ না হয়, এজন্য সবাই মিলে একজনকে মিডিয়ার সামনে কথা বলার দায়িত্ব দিয়েছিলাম। তবে কথা ছিল সকল সিদ্ধান্ত সবার সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে ঠিক করতে হবে।

কিন্তু পরে ইমরান কারো সঙ্গে কথা না বলে নিজের একক সিদ্ধান্তে বিভিন্ন ব্যাপারে বক্তব্য রাখতেন এবং কর্মসূচি দিতেন। গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনের শুরু থেকে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন থাকলেও ইমরানবিরোধী এ-পক্ষের সংবাদ সম্মেলনে কোনো ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না। এ ব্যাপারে কামাল পাশা বলেন, আন্দোলন শুরু থেকে এ পর্যন্ত প্র্রায় ২০৫টি সংগঠন সংহতি প্রকাশ করেছে। আমরা অনেকের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা আমাদের সঙ্গে থাকবে।

সংবাদ সম্মেলন আহ্বানকারী এ গ্রুপটি ইমরানবিরোধী গ্রুপ হিসেবে পরিচিত এবং বিগত ক’দিন ধরে গণজাগরণ মঞ্চের সাথে বিরোধিতা করে আসছে এবং গত ৩ এপ্রিল ইমরানপন্থীদের সঙ্গে এদেরই কয়েকজন সংঘর্ষেও জড়ান। প্রায় ১৫-২০জনের উপস্থিতির এই সংবাদ সম্মেলনে অর্ধেকেরই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এরা হলেন, আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক শিউলি বিনতে মহসিন, সোহেলী পারভিন মনি, হামিদা বেগম, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সম্পাদক রাশিদা হক কনিকা, আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সদস্য এস এম এনামুল হক আবির।

উল্লেখ্য, এই একই ব্যানারে গত ৪ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করে গণজাগরণ মঞ্চ থেকে ডা. ইমরান এইচ সরকারকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। যুদ্ধাপরাধী আবদুল কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন সাজার রায় প্রত্যাখ্যান করে গত বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের একটি প্রতিবাদ কর্মসূচি থেকে শুরু হয় সাড়াজাগানো গণজাগরণ আন্দোলনের। বিভিন্ন ছাত্র ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সম্মিলিত এই আন্দোলনে প্রথম দিন থেকেই মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন ব্লগার ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নেটওয়ার্কের আহ্বায়ক ইমরান।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close