স্বদেশ জুড়ে

বিদায় শেষে নবসাজে বরণ ১৪২১

শীর্ষবিন্দু নিউজ: হে মহাসুন্দর শেষ/ হে বিদায় অনিমেষ/ হে সৌম্য বিষাদ/ ক্ষণেক দাঁড়াও স্থির/ মুছায়ে নয়ননীর/ করো আশীর্বাদ’।

চৈত্র সংক্রান্তি রোববার। নতুন আলো বয়ে আনবে প্রত্যাশা-প্রাপ্তি-কল্যাণ তাই পুরোনো বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুনকে বরণ করার মহোৎসবে ব্যস্ত বাঙালি জাতি।

পুরোনো হিসেব চুকিয়ে নতুন খাতা খুলবেন বণিকেরা। ব্রত শেষে জমা ধুলো মুছে সঞ্চয়ে আবার শুরু করবেন গৃহীরাও।

পুরোনো বছরকে বিদায় এবং বাংলা নববর্ষ-১৪২১ এর মঙ্গলময় লগ্নবরণে রাজধানীতে শুরু হয়েছে নানা আয়োজন।

দিনভর ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কারুশিল্পীরা। রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেটের সামনে বসেছে মেলা।

বাংলা ও বাঙালি ঐতিহ্যে লোকজ শিল্পের ব্যবহার হাজার বছরের। সেই সূত্রে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীনের অনুকরণে সেজেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা প্রাঙ্গণ। চারুকলা অনুষদের সহকারী অধ্যাপক গুপু ত্রিবেদী বাংলানিউজকে বলেন, বাঙালি শিল্প চেতনায় বাংলার মাটি, জল এবং লোকশিল্পের প্রভাব অনস্বীকার্য।  তাই আমরা প্রাচীন প্রথাগত রীতি সামনে রেখেই প্রতি বছর দেওয়ালচিত্র করে থাকি। দেওয়ালচিত্রের বিষয় সব সময় এক রকম থাকে না। এবার শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীনের জন্ম শতবর্ষ পালিত হচ্ছে। তাই তার কালজয়ী কিছু কাজের অনুকরণে আমাদের নিজস্ব চিন্তার মিশ্রণ ঘটিয়ে তৈরি করেছি ১৪২১ এর দেওয়াল চিত্র।

নতুন বছর আমাদের চেতনা জাগ্রত করুক। বদ্ধদশার মুক্তি ঘটুক। প্রতিটি প্রাণে জাগুক মানবতার প্রেম।এই চেতনায় তৈরি মঙ্গলশোভা যাত্রার ১১টি কাঠামো। সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে হাঁস, মাছের ঝাঁক, মা ও শিশু, লক্ষীপেঁচা, লোক ঐতিহ্য হিসেবে বিড়ালের মুখে চিংড়ি, বাঘের মুখোশ, শখের হাড়ি, দুঃসময়ের কাণ্ডারির প্রতীক গাজী ও বাঘ, পবিত্রতার প্রতীক শিশু হরিণ, সৌন্দর্যের প্রতীক ময়ূর এবং ১ এর প্রতীক তুহিন পাখি।

পুরোনোকে বিদায় এবং নতুন বছরকে আহ্বান করতে প্র্রতিবারের মতো এবারও সুরের ধারা আয়োজন করেছে বর্ষশেষের সংগীত উৎসব।

রোববার সন্ধ্যা ছয়টায় চৈত্রের শেষ প্রহরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘দশের কথা দেশের গান’-এ বিদায় জানানো হবে পুরানো বছরকে। ছয় ঘণ্টাব্যাপী এ আয়োজনে সুরের ধারা এবং জাতীয় পর্যায়ের শিল্পীরা সঙ্গীত পরিবেশন করবেন। নববর্ষের প্রথম সূর্যোদয়ে চ্যানেল আইয়ের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে হাজারো কণ্ঠে গানে গানে স্বাগত জানিয়ে শুরু হবে ১৪২১ বঙ্গাব্দের পহেলা বৈশাখ।

চৈত্র সংক্রান্তি ও পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর। দিনব্যাপী পিঠা উৎসব ও কারুশিল্প মেলার আয়োজন থাকছে জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী মিলনায়তনে।এছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন আলোচনা সভা, লোকসঙ্গীত ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে রয়েছে দিনব্যাপী লোকসঙ্গীত, কবিতা পাঠের আসরসহ নানা আয়োজন।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close