এশিয়া জুড়ে

ভোট প্রার্থী মোদি বললেন: মুসলিমদের উন্নয়ন চান

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: ভারতের কট্টর হিন্দু জাতীয়তাবাদী নেতা ও গুজরাট দাঙ্গার সময় সংখ্যালঘু মুসলিমদের যথেষ্ট সুরক্ষাব্যবস্থা না নেয়ার জন্য সমালোচিত নরেন্দ্র মোদি মুসলিম জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন চান বলে জানিয়েছেন।

এবারের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি’র প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী মোদি শনিবার একটি টেলিভিশনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে মুসলিম বিদ্বেষী বলে তার বিরুদ্ধে কথিত অভিযোগেরও সমালোচনা করেন। কট্টর ডানপন্থি ও হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) একনিষ্ঠ সদস্য নরেন্দ্র মোদি ২০০১ সাল থেকে টানা তিনবার পশ্চিমাঞ্চলীয় গুজরাট রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। তার ক্ষমতা গ্রহণের এক বছরের মাথায় ওই রাজ্যে হিন্দু মুসলিম দাঙ্গায় অন্তত এক হাজার মুসলিম নিহত হয়।মোদি সেই সময় পাল্টাপাল্টি সংঘাত থামাতে যথাযথ ভূমিকা নেননি বলে সমালোচকদের অভিযোগ।

তবে মোদির শাসনকালে রাজ্যের অর্থনৈতিক সম্বৃদ্ধি ও ব্যবসা বাণিজ্যে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির জন্য বেশ বাহবা পাচ্ছেন তিনি। ১৬ মে লোকসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার আগে গণমাধ্যমের জরিপে ভারতের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও তিনি অনেকটা এগিয়ে আছেন। কিন্তু ধর্মনিরপেক্ষ ভারতে কড়া সাম্প্রদায়িক মনোভাবের কারণে সমালোচনা তার পিছু ছাড়ছে না। তিন বছর আগে গুজরাটে এক মুসলিম ধর্মীয় নেতা মোদিকে টুপি পরার প্রস্তাব দিলে ধর্মীয় কারণ দেখিয়ে তিনি তা ফিরিয়ে দেন যা নিয়ে পরে ব্যাপক আলোচনা হয়।
সাম্প্রতিক ওই সাক্ষাৎকারে এধরনের আচরণ সম্পর্কেও প্রশ্ন করা হলে ওই ঘটনার ব্যাখ্যাও দেন তিনি। আমি আমার সংস্কৃতি অনুসরণ করে চলি, আর সেকারণেই আমি টুপি পরে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চাইনি। মাথা আবৃত করার মতো কোনো সুনির্দিষ্ট পোশাক সম্পর্কে হিন্দু ধর্মে কোনো নির্দেশ দেয়া না হলেও টুপি মুসলমানদের বহুল ব্যবহৃত একটি পোশাক। ভারতের জাতীয় নির্বাচনে হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি বা সম্পর্ক খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আর সে কারণেই নির্বাচনের সময়ে এলে ২০০২ সালে গুজরাটের হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গার সময় মোদির ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয়।

ওই দাঙ্গায় এক হাজারের মতো মুসলিম নিহত এবং বহু মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়া হয়েছিল। ভারতের একশ ২০ কোটি জনসংখ্যার ১৩ শতাংশই মুসলিম। নির্বাচনে কোনো দলের সরকার গঠনের জন্য সংখ্যালঘু মুসলিমদের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সমালোচকরা বলছেন, বিজেপি দলীয় প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী নরেন্দ্র মোদি হিন্দুদের প্রতি অতিমাত্রায় সহানুভূতিশীল। তার বিজয় রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ ভিত্তির জন্য হুমকি।

তবে মোদি তার হিন্দু সাম্প্রদায়িকতার অভিযোগটি নাকচ করে দিয়ে উল্টো প্রধানমন্ত্রী পদে জয়ী হলে মুসলিম সম্প্রদায়ের উন্নতি অগ্রগতির জন্যও কাজ করার ঘোষণা দিলেন। মোদি বলেন, আমি বিশ্বাস করি মাথায় টুপি পরা এসব লোকের (মুসলিম) একহাতে কোরআন থাকলে আরেক হাতে কম্পিউটার থাকা উচিত।

ওদিকে, গত শুক্রবারও ধর্মীয় উস্কানিমূলক বক্তব্য দেয়ার কারণে উত্তর প্রদেশে বিজেপি নেতা অমিত শাহের নির্বাচনী কর্মকাণ্ড (মিছিল, সমাবেশ) নিষিদ্ধ করেছে নির্বাচন কমিশন। এছাড়া ২০০২ সালে গুজরাটে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মামলায় তিনি অন্যতম আসামী। অমিত শাহ নরেন্দ্র মোদির অন্যতম সহযোগী হিসেবে পরিচিত। উত্তর প্রদেশের বারানসি আসনে মোদির পক্ষে ভোটের জন্য কাজ করছেন তিনি।
Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close