জাতীয়

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ: বিপিডিবিকে কর্পোরেশনে রূপান্তর

শীর্ষবিন্দু নিউজ: বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে (বিপিডিবি) কর্পোরেশনে রূপান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিদ্যুৎখাতের বিশাল কর্মযজ্ঞের সমন্বয়ের জন্যই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র নিশ্চিত করেছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানিয়েছেন, বিষয়টি এখনও পরিকল্পনা পর্যায়ে রয়েছে। কর্পোরেশন করা হলে প্রতিষ্ঠানটির সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। প্রতিষ্ঠানটিকে বিদ্যুৎ খাতের মাদার বডি হিসেবে গঠন করা হবে। তখন মানবসম্পদ উন্নয়নেও কাজ করতে পারবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে বিশাল কর্মযজ্ঞ হাতে নেওয়া হয়েছে। এই কর্মযজ্ঞকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য বিপিডিবির সক্ষমতা বৃদ্ধি ও কার্যকর করা প্রয়োজন। কর্পোরেশন করা হলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি পাবে। তাদের পারফরম্যান্স ইন্ডিকেটর (কেপিআই) নির্ধারণ করে দেওয়া হবে। তারা সে মোতাবেক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন বলে জানান তিনি। অনেক বড় এবং পুরনো এই প্রতিষ্ঠানটিকে কর্পোরেশন করার কোনো খারাপ দিক রয়েছে কিনা সে বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এখানে যারা রয়েছেন, তাদের সার্বিক বিষয়ে বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

কবে নাগাদ কর্পোরেশনে রূপান্তর করা হবে এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,  বিষয়টি প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। কোনো সময় নির্ধারণ করা হয়নি। বিদ্যুৎ বিভাগের এক যুগ্ম সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী গত ৬ ফেব্রুয়ারি বিদ্যুৎ বিভাগে অফিস করেন। সেদিন বিপিডিবি পেট্রোবাংলার মতো কর্পোরেশনে রূপান্তরের কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দেন। সম্প্রতি, আবারও বিষয়টির অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

ওই যুগ্ম সচিব জানান, বিপিডিবি’র একজন কর্মকর্তা ১০ হাজার টাকা বেতন পেলে একই গ্রেডের কর্মকর্তা কোম্পানিগুলোতে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা বেতন পাচ্ছেন। সে কারণে অনেকেই পিডিবি ছেড়ে অন্যখানে চলে যাচ্ছেন। আর যারা থাকছেন, তারাও কাজের উৎসাহ হারাচ্ছেন। কিন্তু, বৈষম্য দূর করতে পারছে না বিপিডিবি। কর্পোরেশনে রূপান্তর হলে এই বৈষম্য দূর হয়ে যাবে।

মূলত, একটি হোল্ডিং কোম্পানিতে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তখন বিপিডিবি সর্বোচ্চ বডি হিসেবে কাজ করবে। অন্যান্য কোম্পানিগুলো এর গাইডলাইনে চলবে। পেট্রোবাংলার অধীনে অনেকগুলো কোম্পানি রয়েছে। পেট্রোবাংলা এর এপেক্স বডি হিসেবে কাজ করে। বিপিডিবিকেও তেমনিভাবে গঠন করা হবে। তিনি জানান, কাজের চাপ বেড়েছে। ২০২১ সালে সবার ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে হলে শুধু বিদ্যুৎ উপাদন করলেই হবে না। তার সঙ্গে সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন করতে হবে। সে কারণে কর্পোরেশনে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) একসময় পুরো বিদ্যুৎ খাত নিয়ন্ত্রণ করতো। সংস্কারের অংশ হিসেবে বিতরণ ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিপিডিবির কর্ম এলাকা ছেড়ে দেওয়া হয়েছে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি), ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো), নর্থ-ওয়েষ্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির  (নওজোপাডিকো) হাতে। সীমিত সংখ্যক এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ করছে বিপিডিবি।

অন্যদিকে, উৎপাদন ব্যবস্থাও বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়েছে। নতুন কোম্পানি গঠন করা হয়েছে ওয়েস্টজোন পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি, ইলেক্ট্রিসিটি জেনারেশন কোম্পানি (ইজিসিবি)। এসেছে বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদক। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বিদ্যুতের একমাত্র পাইকারি বিক্রেতা এবং বিদ্যুৎ ‍উৎপাদেনর পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করে আসছে। বিপিডিবির কাছ থেকে পাইকারি বিদ্যুৎ কিনে বিতরণ কোম্পানিগুলো বিক্রি করে আসছে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close