জাতীয়

আজ শেরে বাংলার ৫২তম প্রয়াণ দিবস

শীর্ষবিন্দু নিউজ: অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ও বাঙালি জাতীয়তাবাদের মহান নেতা শেরে বাংলা আবুল কাশেম ফজলুল হকের ৫২তম মৃত্যুবার্ষিকী রোববার। ১৯৬২ সালের এই দিনে তিনি ইন্তেকাল করেন। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া পৃথক বাণী দিয়েছেন।

শেরে বাংলা ফজলুল হক একটি অবিস্মরণীয় নাম, এক অসাধারণ ব্যক্তিত্ব। বাঙ্গালি মুসলিম সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক হিসেবে শেরে বাংলা জাতির কাছে চিরস্মরণীয়। জাতি হিসেবে আমরা যে সবাই বাঙালি এই ঐতিহাসিক সত্যের মূল ভিত্তি তিনিই রচনা করেছিলেন। শেরে বাংলা আমৃত্যু ছিলেন শোষিত ও বঞ্চিত জনগণের অতি আপনজন। একমাত্র প্রেসিডেন্টের পদটি ছাড়া সর্বভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের এমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদ ছিল না, যা তিনি কোনো এক সময় অলঙ্কৃত করেননি।

৮৮ বছর বয়সে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বাংলার কৃষক, দরিদ্র ও মেহনতি জনতার অকৃত্রিম বন্ধু শেরে বাংলার মহাপ্রয়াণ ঘটে। দিবসটি পালন উপলক্ষে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এছাড়া দোয়া ও মিলাদ মাহফিল আয়োজন করা হবে শেরে বাংলার স্মৃতি বিজড়িত বাড়ি বরিশালের চাখারে।

রাজনীতিতে শেরে বাংলা, হক সাহেব আবার কখনো বাংলার বাঘ নামে পরিচিত এই নেতা ১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর বরিশালের (তৎকালীন বাকেরগঞ্জ) সাটুরিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।  ১৯১৮ সালে শেরে বাংলা যখন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক, তখন ভারতের মহান নেতা মতিলাল নেহরু ছিলেন কংগ্রেসের যুগ্ম সম্পাদক। শেরে বাংলা ফজলুল হকই প্রথম বাঙালি হিসেবে অবিভক্ত বাংলার প্রথম প্রধানমন্ত্রী হওয়ার বিশাল রাজনৈতিক গৌরব অর্জনে সক্ষম হয়েছিলেন।

এ অঞ্চলের মানুষের শিক্ষা, রাজনীতি, সমাজ সংস্কার ইত্যাদি ক্ষেত্রে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন শেরে বাংলা। বাংলার শোষিত ও নির্যাতিত কৃষকসমাজকে ঋণের বেড়াজাল থেকে মুক্তির লক্ষ্যে তার উদ্যোগে গঠিত ‘ঋণ সালিশী বোর্ড’ সর্বমহলে আজো প্রশংসিত। তার উদ্যোগে বঙ্গীয় চাকুরি নিয়োগবিধি, প্রজাস্বত্ব আইন, মহাজনী আইন, দোকান কর্মচারী আইন পাশ হয়। ফলে এ অঞ্চলের অবহেলিত কৃষক-শ্রমিক উপকৃত হন।

মৃত্যুবার্ষিকীতে বাংলার কৃষক ও মেহনতী জনতার অকৃত্রিম বন্ধু শেরেবাংলার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শেরেবাংলা এদেশের কৃষকদের অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করতে সারাজীবন সংগ্রাম করেছেন। তার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা আন্দোলনের ফলেই দেশে প্রজাস্বত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। বাঙালি কৃষকসমাজ সামন্তদের শোষণ থেকে মুক্ত হয়। বাংলার গরীব-দুঃখী মানুষের জন্য তার অসীম মমত্ববোধ এ দেশের মানুষকে অনুপ্রাণিত করবে।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, শেরেবাংলা উপমহাদেশের এক অসাধারণ রাজনৈতিক নেতা। অর্ধ-শতাব্দীরও বেশি সময় তিনি গণমানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন। এ দেশের কৃষক শ্রমিক তথা মেহনতি মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নে তার অবদান জাতি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে। এ কে ফজলুল হকের অসাধারণ ব্যক্তিত্ব, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতা আগামী প্রজন্মের জন্য অনুসরণীয় হয়ে থাকবে।

খালেদা জিয়া এক বাণীতে বলেন, স্বাধীনতার চেতনা ও গণতান্ত্রিকতাবোধ সৃষ্টিতে তার অসামান্য অবদানের কথা এদেশের মানুষের মন থেকে কোনদিনই বিস্মৃত হবে না। দেশ এবং জাতির কল্যাণে অবদানের জন্য ইতিহাসের পাতায় তার নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close