এশিয়া জুড়ে

বাংলাদেশী অভিবাসীদের বিতাড়নের হুমকি নরেন্দ্র মোদির

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: বিজেপির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদি পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলাদেশী অভিবাসীদের বিতাড়নের হুমকি দিয়েছেন। বলেছেন, তাদেরকে ভোট ব্যাংক হিসেবে ব্যবহার করছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভারতের অন্য রাজ্য থেকে মানুষ পশ্চিমবঙ্গে এলে তিনি তাদেরকে বাইরের লোক বলেন। কিন্তু যখন বাংলাদেশ থেকে অভিবাসীরা আসে তখন তার মুখে হাসি দেখা যায়। তাই তিনি হুমকি দিয়েছেন আগামী ১৬ই মে’র পরে এসব বাংলাদেশীকে তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হবে।

এজন্য তিনি তাদেরকে তল্পিতল্পা সহ প্রস্তুত থাকতে বলেছেন। এনডিটিভিকে নরেন্দ্র মোদি বলেন, আপনি এটা লিখে নিতে পারেন যে, ভারতে অবস্থানকারী অবৈধ বাংলাদেশীকে দেশে ফিরে যেতে হবে ১৬ই মে’র পরে। এজন্য তাদের তল্পিতল্পা প্রস্তুত রাখা উত্তম। তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, পশ্চিমবঙ্গে এ রাজ্যের বাইরে থেকে এসে বসতি গড়া মানুষের জন্য তার কোন ভালবাসা নেই।

কিন্তু বাংলাদেশ থেকে যখন মানুষ আসে তখন তার মুখ উজ্জ্বল হয়ে যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অভিবাসীদের ভোট ব্যাংক হিসেবে ব্যবহার করছেন। নরেন্দ্র মোদি এবার নির্বাচনী প্রচারে যা খুশি তাই বলছেন। নির্বাচনের মাঝপথে এসে তিনি তীব্রভাবে হিন্দুত্ববাদী তাস খেলছেন। রোববারই তিনি পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের অবৈধ অভিবাসীদের বিতাড়নের হুমকি দিয়েছেন। তবে পশ্চিমবঙ্গ সফরে এসে প্রথমবার নরম থাকলেও দ্বিতীয়বারের সফরে কিছুটা গরম ভাষণ দেয়ার পর কলকাতার পার্শ্ববর্তী শ্রীরামপুরে প্রচারে এসে তৃণমূল কংগ্রেসকে যে ভাষায় আক্রমণ করেছেন তাতে বেজায় চটেছে তৃণমূল কংগ্রেস।

সোমবার পাল্টা আক্রমণে গিয়ে নরেন্দ্র মোদিকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একজন শয়তান এবং ভয়ঙ্কর ব্যক্তি’ বলে অভিহিত করে বলেছেন, মোদি ক্ষমতায় এলে দেশ অন্ধকারে ডুবে যাবে। রোববারই তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় মুখপাত্র ডেরেক ও’ব্রায়েন মোদিকে ‘গুজরাটের কসাই হিসেবে অভিহিত করেন। ব্যক্তিগত স্তরে গিয়ে তিনি বলেছেন, গুজরাটের দাঙ্গাবাজ নিজের স্ত্রীর প্রতিই যেখানে দায়িত্ব পালন করতে পারেন না, সেখানে দেশের দায়িত্ব পালন করবেন কি করে? একই ভাষায় মোদিকে আক্রমণ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক মুকুল রায়।

সোমবার এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেছেন, গুজরাটের মানুষের রক্তে মোদির হাত লাল হয়ে রয়েছে। ২০০২ সালের গুজরাট দাঙ্গার হোতা তিনি। গোটা দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করছেন যিনি তিনি কিভাবে দেশ পরিচালনা করবেন- মোদির বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেসের এই আক্রমণের পিছনে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে মোদির কঠোর সমালোচনা। গত রোববার শ্রীরামপুরের জনসভায় মোদি বলেছেন, বামফ্রন্টের ৩৪ বছরে যা না ক্ষতি হয়েছে তার চেয়েও বেশি ক্ষতি হয়েছে মমতার ৩৪ মাসের শাসনে। এর পরেই তিনি মমতার বিরুদ্ধে চিট ফান্ডে মদত দেয়ার অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেছেন, মা সারদার রাজ্যে মমতার সৌজন্যে সেই সারদা চিট ফান্ড হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। সেই সঙ্গে মোদি বলেছেন, মমতার ছবি ১ কোটি ৮০ লাখ রুপিতে কে কিনলো, কার ঘরে সাজানো হলো, তা জানার অধিকার দেশের মানুষের রয়েছে।

মোদি এ-ও জানিয়েছেন যে, বিজেপি ক্ষমতায় যাওয়ার পর পশ্চিমবঙ্গের চাঞ্চল্যকর সারদা চিট ফান্ড কেলেঙ্কারির তদন্ত করবে। দোষীদের কাউকে ছাড়া হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। মমতাকে তিনি লোভী বলেও অভিহিত করেন। কিন্তু মোদির এই সমালোচনা হজম করতে রাজি নয় তৃণমূল কংগ্রেস। আর তাই ১ কোটি ৮০ লাখ রুপিতে ছবি নিয়ে প্রমাণ দেয়ার দাবি জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতারা। এমনকি প্রমাণ করতে না পারলে ক্ষমা চাইতে হবে মোদিকে। তা না হলে মানহানির মামলা করা হবে বলে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে পাল্টা হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের কাছেও মোদির এই বক্তব্য নিয়ে অভিযোগ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তবে মোদি বাংলাদেশী বিতাড়নের যে কথা বলেছেন, সে সম্পর্কে অবশ্য তৃণমূল কংগ্রেস নেতারা কিছু বলেননি।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close