অর্থনীতি

৭২৩১ কোটি টাকা চায় ১১ মন্ত্রণালয়

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: ২০১৩-১৪ অর্থবছরের সময়ের বাকি আছে মাত্র মে-জুন। এই দুই মাসে ১১টি মন্ত্রণালয় সংশোধিত এডিপিতে প্রায় ৭ হাজার ২৩২ হাজার কোটি টাকা আবদার করে পরিকল্পনা কমিশনকে চিঠি দিয়েছে। মন্ত্রণালয়গুলোতে সংশোধিত এডিপি বাস্তবায়ন আশাব্যঞ্জক নয়। অতিরিক্ত বরাদ্দের শীর্ষে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ২৪’শ কোটি টাকা। এছাড়া প্রথামিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় অতিরিক্ত বরাদ্দ চেয়েছে ৮৮১ কোটি টাক।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় বলছে বাকি দুই মাসে বাস্তবায়ন করতে পারবে বলেই অতিরিক্ত বরাদ্দ চেয়েছে। তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন বাকি দুই মাসে অতিরিক্ত বরাদ্দ চাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সংশোধিত আরএডিপিতে অতিরিক্ত বরাদ্দ প্রসঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, চলতি অর্থবছরের মাত্র দুই মাস বাকি আছে, এতে করে অতিরিক্ত অর্থ বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।। এই দুই মাসে অতিরিক্ত বরাদ্দকৃত অর্থ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় খরচ করতে পারবে বলে আমার মনে হয় না। এছাড়া অর্থ বাড়ানোর কোনো অর্থই দেখছি না।

মন্ত্রণালয়গুলো কেন অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ চাইছে এই প্রসঙ্গে মির্জা আজিজুল বাংলানিউজকে বলেন, অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ নিয়ে কিছু চেক লিখে খরচ করবে এবং কিছু টাকা খরচ করতে পারবে না বলেই আমি মনে করি। জুনে শেষ হচ্ছে চলতি অর্থবছরের। মূল এডিপি’র লক্ষ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে অন্যান্য বছরের ন্যায় বর্তমান বছরেও দেশজ সম্পদ, বৈদেশিক অর্থায়ন, সামষ্টিক অর্থায়ন, সামষ্টিক অর্থনৈতিক অবস্থা ইত্যাদি বিবেচনায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এডিপি বরাদ্দ ব্যবহারের আলোকে ২০১৩-১৪ অর্থ বছরের এডিপি সংশোধন করা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা কমিশনের চিঠি চালাচালি শেষে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে সংশোধিত এডিপির আকার ৬২ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে  অর্থবছরের এ শেষ সময়ে সব থেকে বেশি বরাদ্দ চেয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। স্থানীয় সরকার সংশোধিত এডিপিতে অতিরিক্ত ২৪’শ কোটি টাকা অর্থ বরাদ্দ চেয়েছে। এছাড়া পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় প্রকল্পের কাজ সুষ্ঠু বাস্তবায়নের জন্য ৭৯৩ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছে।

অপরদিকে র‌্যব কমপ্লেক্স নির্মাণ, থানা পুনর্গঠন, পাসপোর্ট ইত্যাদি ৬টি চলমান প্রকল্পের কাজের জন্য অতিরিক্ত ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। চলমান প্রকল্প বাস্তবায়নের  জন্য ৩৩ কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ চেয়েছে তথ্য মন্ত্রণালয়। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় তাদের অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করতে মন্ত্রণালয়ের ২৫ কোটি টাকা অতিরিক্ত প্রয়োজন বলে চিঠি দিয়েছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে।

রেল মন্ত্রণালয় জানায়, বিগত সময়ে রাজনৈতিক  অস্থিরতার কারণে রেলপথ সবচেয় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের কাজের ধারাবাহিকতার জন্য আরো অতিরিক্ত ৪৯০ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে।
নতুন গ্যাসকূপ খনন প্রকল্পের  কথা উল্লেখ করে বিদ্যুত, জ্বালানি ও খনিজ মন্ত্রণালয় অতিরিক্ত বরাদ্দ চেয়েছে ৩৬২ কোটি টাকা। শিক্ষা মন্ত্রণালয় উল্লেখ করে সংশোধিত এডিপিতে বরাদ্দ প্রয়োজনের তুলনায় কম। প্রয়োজনীয় অর্থবরাদ্দ না পেলে শিক্ষাবৃত্তি বন্ধ হয়ে যাবে সেই লক্ষে ৫৩৮ কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ চেয়েছে মন্ত্রণালয়।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ৮৮১ কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ চেয়েছে। মন্ত্রণালয় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছে অতিরিক্ত বরাদ্দ না পেলে উপবৃত্তি বন্ধ হয়ে যাবে। তবে নির্দিষ্টভাবে প্রকল্পের নাম উল্লেখ করে অতিরিক্ত বরাদ্দ চেয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। চট্রগ্রাম রিং রোড নির্মাণের জন্য ২৮৭ কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ চেয়েছে মন্ত্রণালয়। ড্রেজিংয়ের কাজ ও ব্যবস্থামূলক কাজের কথা উল্লেখ করে ৭০৩ কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ চেযেছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

যোগাযোগ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অতিরিক্ত বরাদ্দ না পেলে শুষ্ক মৌসুমে চলে গেলে কাজ করা যাবে না। আরএডিপিতে বরাদ্দ কম দেওয়া হয়েছে। এজন্য আরো অতিরিক্ত ৫২০ কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন মূল্যায়ন ও পরিবীক্ষণ বিভাগ (আইএমইডি) থেকে জানা গেছে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে এডিপিভূক্ত প্রকল্পের সংখ্যা ১ হাজার ২৮৩টি । ২০১৩-১৪ অর্থবছরে এডিপিতে বরাদ্দকৃত ৬৫ হাজার ৮৭২ কোটি টাকার মধ্যে জুলাই ২০১৩ থেকে ফেব্রুয়ারি ২০১৪ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে মোট ২৫ হাজার ২১৮ কোটি টাকা।  যা মোট বরাদ্দের মাত্র ৩৮ ভাগ। এর পরেও আরএডিপিতে অতিরিক্ত বরাদ্দ চায় মন্ত্রণালয়গুলো। অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে পারবে কি সন্দেহ রয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়েরও।

তবে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মতে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় অতিরিক্ত বরাদ্দ খরচ করতে পারবে এবং কিছু মন্ত্রণালয় কাজ করেছে কিন্তু বিল দিতে পারছে না তাই অতিরিক্ত বরাদ্দ চেয়ে চিঠি দিয়েছে। পরিকল্পনা সচিব ভূইয়া সফিকুল ইসলাম জানান, যারা অতিরিক্ত বরাদ্দ চেয়েছে নিশ্চয় খরচ করতে পারবে। অনেক মন্ত্রণালয় আছে কাজ সমাপ্ত করেছে কিন্তু বিল পরিশোধ করতে পারছে না। তাই তারা অতিরিক্ত বরাদ্দ চেয়েছে। তাছাড়া এমনিতে বাকি দুই মাসে এ অর্থ ব্যয় করা সম্ভব নয়।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

আরও দেখুন...

Close
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close