জাতীয়

মহেশখালী কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে অগ্রগতি এগিয়ে

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: কক্সবাজারের মহেশখালীতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে চীনের একটি কোম্পানির সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করেছে সরকার। এই দ্বীপে প্রায় ৫৫০ একর জমি অধিগ্রহণ করে কেন্দ্র নির্মাণ করে ২০১৯ সালের মধ্যে ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠানে চায়না হুয়াদিয়ান হংকং কোম্পানি লিমিটেডের (সিএইচডিএইচকে) চেয়ারম্যান জাও লংজুন এবং পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের (বিপিডিবি)চেয়ারম্যান আব্দুহু রুহুল্লাহ এ সমঝোতা স্মারকে সই করেন।

বিদ্যুৎ সচিব মনোয়ার ইসলাম, ঢাকায় চীনের রাষ্ট্রদূত লি জুন, পিডিবি চেয়ারম্যান আব্দুহু রুহুল্লাহ, চায়না হুয়াদিয়ান হংকং কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান চেং ইয়াং গাও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। বিদ্যুৎ ‍উৎপাদন বাড়াতে কয়লা ব্যবহারে মনোযোগী সরকার এর আগে বাগেরহাটের মংলায় আরেকটি কেন্দ্র স্থাপনে ভারতের সঙ্গে চুক্তি করেছে। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্থাপনে মহেশখালী উপজেলার হাওনক, পানির ছড়া, হেতালিয়া ও আমবস্যাখালী এলাকায় প্রায় ৫৫০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে। ২০১৯ সালের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে আশা করে বলা হয়, ২৫ বছর মেয়াদি এই কেন্দ্র স্থাপনে ৭০ শতাংশ অর্থ আসবে ঋণ থেকে আর বাকি ৩০ শতাংশ অর্থায়ন করবে সিএইচডিএইচকে ও পিডিবি। 

তবে প্রকল্প বাস্তায়ন এবং প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ এখনো ঠিক করা হয়নি বলে জানানো হয়। দুই ইউনিটের এই কেন্দ্রের প্রতি ইউনিট থেকে ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে। এজন্য প্রতিদিন ১১ হাজার টন কয়লা লাগবে। কয়লা আনা হবে ইন্দোনেশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, অষ্ট্রেলিয়া ও মোজাম্বিক থেকে। আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তির এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহারের জন্য আমদানি করা কয়লা হবে কম সালফার ও ময়েশ্চার এবং হাই ক্যালোরিফিক ভ্যালুর। কেন্দ্রটিতে উৎপাদিত বিদ্যুৎ পিডিবি কিনে নেবে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ মহেশখালী থেকে মধুনাঘাট হয়ে মেঘনাঘাট থেকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, এই চুক্তির (সমঝোতা স্মারক) মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক আরো উন্নত হবে। বিশেষ অতিথি তৌফিক-ই এলাহী চৌধুরী বলেন, অনেক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও সরকার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরিবেশ দূষণের মাত্রা সবচেয়ে কম থাকে সেজন্য সবচেয়ে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। কয়লা পরিবহন এবং উচ্ছিষ্টাংশ (ছাই) ও ধোঁয়া ব্যবস্থাপনায় কেন্দ্রটিতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা। তিনি জানান, আগামী ৩/৪ বছরের মধ্যে কেন্দ্রটির অন্তত একটি ইউনিট চালু করতে চীনের প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের আহ্বান জানান।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close