রাজনীতি

সারাদেশে বিএনপির সাংগঠনিক রেড এলার্ট

শীর্ষবিন্দু নিউজ: খুন, গুম, অপহরণ বন্ধে সারাদেশে ১৯ দলের উদ্দেশ্যে সাংগঠনিক রেড এলার্ট জারি করেছেন জোট নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এ সরকার ঘরেও নিরাপত্তা দিতে পারে না, বাইরেও পারে না। তাই জনগণের নিরাপত্তার জন্য গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। প্রয়োজনে আমি নিজেই রাস্তায় নামবো। মে দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত শ্রমিক গণজমায়েতে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেছেন, দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহবান জানিয়ে তিনি এও বলেন, আপনার সবাই একত্রে থাকবেন। ৠাব-পুলিশ যেই হোক, তুলে নিতে এলে ঘেরাও করবেন, আটকে রাখবেন। এরপর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতেই তাদের আবার তুলে দেবেন। জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের আয়োজনে এই কর্মসূচিতে এবারের বিষয় নির্ধারিত হয় জীবন-জীবিকার নিশ্চয়তায় কর্মসংস্থান, ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মস্থল, গণতান্ত্রিক শ্রম আইন, জাতীয় নিম্নতম মজুরি ও পর্যাপ্ত সামাজিক নিরাপত্তা চাই।

খালেদার বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে জনসভাস্থলে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় তিনি বলেন, আমাদের দলে বেঈমান ঢুকেছে। ঢুকেছে। এদের চিহ্নিত করে চ্যাপ্টা করতে হবে। খালেদা জিয়া বলেন, এদের কাছে (আওয়ামী লীগ) নিরাপত্তা চেয়ে কোনো লাভ নাই। নিরাপত্তার জন্য আমিই আবার নামবো। কিন্তু আমি নামতে চাইলে আমার বাড়ি বালুর ট্রাক দিয়ে আটকে দেয়। তবু দেশের স্বার্থে আমিই আবার নামবো। তিনি বলেন, সবাইকে সতর্ক থাকতে বলছি। ১৯ দলের নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকতে বলছি। সারাদেশে রেড এলার্ট জারি করলাম। কেউ এলে চ্যাপ্টা বানিয়ে দেবেন। নারায়ণগঞ্জের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জবাব দিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

তিনি বলেন, আজ নারায়ণগঞ্জের এ অবস্থার জন্য দায়ী সরকার। এতোদিন তারা নিখোঁজ থাকলো। সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কেন তাদের খুঁজে বের করতে পারলো না? কেন লাশ পাওয়া গেল? এর জবাব দিতে হবে হাসিনাকে। কারণ, তার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কেন পারলো না? বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, খুন-গুম আওয়ামী লীগের লোকেরা করছে। কিন্তু এটা কোনো দলীয় ব্যাপার নয়। আমরা সবার নিরাপত্তা চাই।

খালেদা বলেন, ২৬ জন সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে। সাগর-রুনী হত্যার বিচার আজও হয়নি। সাংবাদিকদের হাসপাতালে যাওয়া বন্ধ করেছে। এই সরকারের কাছে কোনো পেশার মানুষই নিরাপদ নয়। জঙ্গিদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পর্ক রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

খালেদা বলেন, মুসলমান হলে, নামাজ পড়লেই বলে জঙ্গি। আমাদের সঙ্গে নয়, আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে জঙ্গিদের। আবদুর রহমানকে আমরা ধরেছি। তিনি কার দুলাভাই ছিলেন, তা সবাই জানে। দাস ও ক্রীতদাস এর পার্থক্য তুলে ধরে আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্রীতদাস বলে মন্তব্য করেন তিনি।

খালেদা বলেন, দাস নয়, এই সরকার ক্রীতদাস। তাই তারা দেশের প্রতি অন্যায় দেখলে প্রতিবাদ করতে পারে না। খালেদা জিয়া সীমান্তে হত্যা ও ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান কিছু অমীমাংসিত বিষয়েও সরকারের সমালোচনা করেন। খালেদা বলেন, এই দেশ মোটেই স্বাধীন নয়। এই ক্রীতদাস সরকারের হাতে আজ সবাই বন্দি।

খালেদা বলেন, আজ শুধু আওয়ামী লীগ ও তাদের মন্ত্রী এমপিরা সবচে বেশি উপকৃত। তারা কোটি কোটি টাকা বানাচ্ছে। তাদের কোনো টেন্ডার লাগে না। কেউ জীবনের ভয়ে প্রতিবাদ করে না। আওয়ামী লীগ কোনো কর দেয় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পিলখানা ট্র্যাজেডি ও হেফাজতের ঘটনায় সরকারকে দায়ী করে কঠোর সমালোচনাও করেন খালেদা। তিনি আরও বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের প্রতি নির্যাতন করেছে এই আওয়ামী লীগ। তাদের কাছে কেউ নিরাপদ নয়।

তিনি বলেন, এই সরকার একদিকে মানুষ খুন করছে, একদিকে বেকার করছে। এই আওয়ামী লীগের কাছে শ্রমিকরা নিরাপদ নয়। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেন, এই সরকার ড্রাকুলা সরকার, রক্ত-পিপাসু সরকার। তিনি বলেন, এই সরকার চোর এবং খুনি। তারা সাদা বিড়াল, কালো বিড়াল, রক্তপিপাসু, ড্রাকুলা সরকার।

তিনি বলেন, আজ নদীতে একের পর এক লাশ ভেসে উঠছে। আজ আমরা জানতে চাই, ইলিয়াস আলী কোথায়? তাকে পাইনি, আর আজ উল্টো শুধু লাশ আর লাশ। সরকার ক্ষমতার মসনদ পাকাপোক্ত করতে সব করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। শ্রমিকদের জন্য বিএনপি সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের উদাহরণও তুলে ধরেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, এই আওয়ামী লীগ আমলে কোনো দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ হচ্ছে না। এই সরকার অনেক বড় বড় কথা বলে। অনেক টাকা নাকি ব্যাংকে জমা আছে। কিন্তু সেই টাকাতো কেউ নিচ্ছে না। তিনি বলেন, আজ ফ্ল্যাট তৈরি হচ্ছে, কিন্তু সেগুলো বিক্রি হচ্ছে না। কারণ বিদ্যুৎ ও গ্যাস দিতে পারছে না সেগুলোতে। তিনি বলেন, আমরা দক্ষ-অদক্ষ শ্রমিক পাঠাতাম। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠাতাম। কিন্তু এই সরকারের আমলে তারা শ্রমিক নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।

তিনি বলেন, কমিশন খেতে আওয়ামী লীগ এমনটি করেছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে শ্রমিকরা সব হারিয়ে খালি হাতে ফেরত আসতে হচ্ছে। খালেদা বলেন, এই সরকারকে বিদায় করতে হলে সকলকে নামতে হবে। ছাত্র, শ্রমিক, যুবক সকলকে নামতে হবে। কারণ আমরা কাজ চাই, ভাত চাই, শান্তি চাই, নিরাপত্তা চাই। তিনি বলেন, এই আওয়ামী লীগ এসব কিছু্ই দিতে পারে না। তাই তারা সংবিধান সংশোধন করেছে। কিন্তু দেশের মানুষ একবার জেগে উঠলে এই সংবিধান  আপনাদের রক্ষা করতে পারবে না।

তিনি বলেন, আমরা প্রতিবছর এই মে-দিবস পালন করি। কিন্তু এবার আমরা এমন এক সময় এই দিবস পালন করছি, যখন সারাদেশের মানুষ অবরুদ্ধ। কারও নিরাপত্তা দিতে পারেনি এই অবৈধ সরকার। তিনি বলেন, রানা প্লাজায় ক্ষতিগ্রস্তদের যে পরিমাণ সাহায্য করার কথা, তা করা হয় নাই, যে সুযোগ-সুবিধা দেওয়া দরকার তাও দেওয়া হয় নাই। খালেদা বলেন, এই সরকার কথায় কথায় অনেক বড় বড় কথা বলে। আজও হয়তো বলবে।

কিন্তু তাদের কথা কেউ বিশ্বাস করে না। কারণ আওয়ামী লীগ কখনো সত্য কথা বলে না। গণজমায়েতের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও শ্রমিকদলের সাবেক সভাপতি আবদুল্লাহ আল নোমান। সংগঠনের নব-নির্বাচিত সভাপতি মো. আনোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে মঞ্চে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা, সেলিমা রহমান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এজেডএম জাহিদ হোসেন, আবদুল মান্নান, আবদুল আউয়াল মিন্টু, ড. ওসমান ফারুক, যুগ্ম-মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, মাহবুব উদ্দিন খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাজিমুদ্দিন আলম, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, শ্রমিকদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাফরুল হাসান, নব নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম খান নাসিম, যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মহিলাদলের সভাপতি নুরে আরা সাফা, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক সরফত আলী সপু প্রমুখ।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close