এশিয়া জুড়ে

গান্ধীদের সামনে আসছে মহা চ্যালেঞ্জ

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস ১০০ আসনের কম পেলে দলের নেতৃত্ব নিয়ে প্রভাবশালী গান্ধী পরিবার কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার সঙ্গে এক সাক্ষাত্কারে এ মন্তব্য করেছেন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদি। আজ মঙ্গলবার পত্রিকাটির অনলাইন সংস্করণে এ কথা জানানো হয়।

বিজেপির এই নেতা বলেন, এখনকার লড়াই হলো কংগ্রেসে গান্ধী পরিবারের নেতৃত্বের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে, যে নেতাদের নিয়ে কোনো প্রশ্নের অবকাশ নেই। এখন তাঁদের লক্ষ্য হচ্ছে যেকোনোভাবে ১০০টি আসন বাগানো। তাহলে তাঁদের নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে না। কিন্তু আমি সম্ভাবনার সব ক্ষেত্র হাতড়ে দেখতে পাচ্ছি যে কংগ্রেস ১০০ আসনের কম আসন পাবে। আর তা যদি হয়, তাহলে কংগ্রেসের নেতৃত্ব নিয়ে বড় ধরনের তোলপাড় সৃষ্টি হবে। রাহুলের জায়গায় প্রিয়াঙ্কার আসার সম্ভাবনার বিষয়ে মোদি বলেন, নির্বাচনের ফলাফলের পর এই সিদ্ধান্ত নেবে কংগ্রেস। যা-ই হোক, এটি খুব দুঃখজনক যে কংগ্রেসের মতো একটি জাতীয় দল গান্ধী পরিবার ছাড়া ভাবতে পারে না।

মোদিকে নিয়ে সংখ্যালঘুদের উদ্বেগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিজেপি নেতা বলেন, কংগ্রেস এবং আরও কিছু দল ভীতি ছড়িয়ে উদ্দেশ্য হাসিল করতে চাইছে। তবে এতে কাজ হবে না বলে দৃঢ় বিশ্বাস মোদির। তিনি বলেন, একটি সম্প্রদায়ের উন্নয়ন এবং সুশাসনের প্রতি আগ্রহ নেই—আজকের দিনে এটি ভাবা হবে ভুল। এটি হলো ভোট ব্যাংকের রাজনীতি, যা ৬০ বছর ধরে আমাদের দেশের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছে। এখন এই ধরনের রাজনীতির দিন আর নেই।

আইনমন্ত্রী কপিল সিবালের কড়া সমালোচনা করে মোদি বলেন, সিবাল তাঁর আইনি ক্ষমতা জাতীয় স্বার্থে ব্যবহার না করে বরং ব্যক্তিগত ও দলীয় স্বার্থে ব্যহহার করেন। এবং তাঁকে ফাঁদে ফেলার জন্য দীর্ঘ দিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। মোদির বিরুদ্ধে সিবিআইয়ের তদন্ত বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের চেষ্টা থাকবে যাতে সিবিআই কেবল রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের প্রতিষ্ঠান হিসেবে না থাকে। প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর স্বামী রবার্ট ভদ্রের দায়মুক্তির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আইনের মধ্য দিয়ে যে কেউ দায়মুক্তি পেতে পারে। সেই মানুষটি আমি হলে হতে পারে। এ নিয়ে বিতর্ক করা অযৌক্তিক। মোদি অর্থনীতির ওপর জোর দিয়ে বলেন, ভারতকে অবশ্যই একটি কর্মযুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। জলবায়ু নিয়ে ক্রমবর্ধমান বিতর্কের বিষয়ে একটি স্পষ্ট ধারণার ওপর জোর দেন তিনি।

মাওবাদী ও সন্ত্রাস মোকাবিলায় জিরো টলারেন্স দেখানোর দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন মোদি। তিনি এটিকে রাজ্যের সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ হুমকি উল্লেখ করে বলেন, এসব মোকাবিলায় রাজ্যের ক্ষমতা বাড়ানো উচিত।
মোদি যদি দুই আসনে ( বেনারস ও বরোদা) জয়ী হন তাহলে কোন আসনটি ধরে রাখবেন—জানতে চাইলে বলেন, দল এটি নির্ধারণ করবে। ধারণা করা হচ্ছে, মন্ত্রীদের চেয়ে মোদি আমলাদের সঙ্গে বেশি কাজ করবেন, গুজরাটে যেমন করে থাকেন। এ ধারণার বিষয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক নির্বাহীদের দিয়ে কাজ চালানো হবে। সরকার চালানোর জন্য বিজেপি এবং এর সহযোগী এনডিএর অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ও মেধাবী লোকজন রয়েছে। একটি দল হিসেবে আমাদের কাজ করতে হবে।

বৈদেশিক সম্পর্কের বিষয়ে মোদি বলেন, পাকিস্তান যদি তাদের দেশ থেকে পরিচালিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কার্যকর ও সুস্পষ্ট পদক্ষেপ নেয়, তবেই তাদের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়ন সম্ভব। তিনি বলেন, এখন যদি সমস্যা সমাধানের মধ্য দিয়ে একটি নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়, তাহলে আগে কী হয়েছে, তা নিয়ে আমরা ভাবতে চাই না। চীনের ব্যাপারে ব্যাপক আশাবাদী মোদি। তিনি বলেন, দ্বিপক্ষীয় সমস্যার সমাধান করে দুই দেশের সম্পর্ককে একটি নতুন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্র তাঁকে ভিসা না দিলেও এটি দুই দেশের সম্পর্কে কোনো প্রভাব ফেলবে না বলে উল্লেখ করেন তিনি।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close