গ্যালারী থেকে

সিটিকে আগাম অভিনন্দন রজার্সের

গ্যালারী থেকে: পুরো ব্যাপারটাই দুঃস্বপ্নের মতো। এবারের ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে শিরোপা পাওয়ার ব্যাপারে অসাধারণ আত্মবিশ্বাসী ছিল লিভারপুল। ১৯৯০ সালের পর ইংলিশ লিগের শিরোপা এই প্রথমবারের মতো ঘরে তোলার প্রাথমিক কার্যাদি সম্পন্নই করে রেখেছিল মার্সিসাইডের ছেলেরা। কিন্তু একেবারে শেষ মুহূর্তে তীরে এসে তরী ডোবার মতো ঘটনাই যেন ঘটে গেল। টানা ১১টি জয়ে যারা শিরোপা জয়ের একেবারে হাতছোঁয়া দূরত্বে দাঁড়িয়ে ছিল, পরপর দুই ম্যাচের ঝড় তাদের স্বপ্ন একপ্রকার ধূলিসাত্ করে দিয়েছে।

এখন বাস্তবতাই মেনে নিতে চান লিভারপুল কোচ ব্রেন্ডন রজার্স। লিভারপুলের শিরোপা জয়ের যে কোনো সম্ভাবনাই নেই—ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণার মতো করেই তা জানিয়ে দিয়েছেন তিনি, আমার মনে হয়, এবারের ইংলিশ লিগের শিরোপা জিততে যাচ্ছে ম্যানচেস্টার সিটিই। ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে আজ জিততে পারলে হয়তো একটা সম্ভাবনা থাকত। কিন্তু আজ ড্র করে সেই সম্ভাবনাও হারিয়েছি আমরা। এখন শিরোপার স্বপ্ন দেখে লাভ নেই।

এই কিছু দিন আগেই অ্যানফিল্ডে চেলসির কাছে অপ্রত্যাশিতভাবেই ২-০ গোলে হেরে গিয়েছিল লিভারপুল। শিরোপার নিশ্চিত সম্ভাবনায় ওটা ছিল বিরাট এক আঘাত। এরপর ম্যানচেস্টার সিটি এভারটনের বিপক্ষে ৩-২ গোলে জিতে গেলে শিরোপার ব্যাপারটা একটু কঠিনই হয়ে যায় লিভারপুলের জন্য। কিন্তু কাল ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে ৩ গোলে এগিয়ে গিয়েও টানা ৩ গোল হজম করে দুঃস্বপ্নটা নিজেরাই টেনে এনেছেন লিভারপুলের খেলোয়াড়েরা। অথচ কাল পূর্ণ পয়েন্ট পেলেও সিটি-অ্যাস্টন ভিলা ম্যাচের দিকে তাকিয়ে অন্ধকার সুড়ঙ্গে একটু হলেও আলোর রেখার অপেক্ষা করতে পারতেন রজার্সের শিষ্যরা।

কিন্তু তা হয়নি। নয় মিনিটের এক ঝড়ে এখন এলোমেলো লাল-বাহিনী। এবারের ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগকে লিভারপুলের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর মঞ্চ হিসেবে ভেবে আপাতত সান্ত্বনাই খুঁজছেন রজার্স, আমার মনে হয়, এই মৌসুমে আমরা অনেকখানি এগিয়েছি। ২৪ বছর শিরোপা জেতা হয়নি। এবার শিরোপার খুব কাছেই পৌঁছে গিয়েছিলাম। এবারের ভুলত্রুটিগুলো সারিয়ে পরের মৌসুমে আবার শিরোপার লক্ষ্যে ঝাঁপাতে চাই। তার পরও সেলহার্স্টের ঝড়টা তাঁর কাছে হতাশারই মনে হচ্ছে, ব্যাপারটা প্রচণ্ড হতাশারই। ৩ গোলে এগিয়ে গিয়ে উল্টো ৩ গোল হজম করাটা আমার কাছে পরাজয়ের মতোই। আমি নিশ্চিত দলের খেলোয়াড়েরাও ব্যাপারটা ঠিক এভাবেই দেখছে।

পুরো বিষয়টিকেই রক্ষণ-বিপর্যয় হিসেবে দেখছেন রজার্স, ৭৮ মিনিট পর্যন্ত সবকিছুই দারুণ ছিল। আমরা যা চাচ্ছিলাম, তাই হচ্ছিল। কিন্তু শেষমেশ অঘটনটা ঘটে গেছে একটা রক্ষণ বিপর্যয়ের কারণে। হ্যাঁ, এটাকে আমি রক্ষণ বিপর্যয়ই বলব। রজার্স জানিয়েছেন, ৩ গোলে এগিয়ে গিয়ে গোলের নেশায় পেয়ে বসেছিল তাঁদের। আরও কয়েকটি গোল তাঁরা চাচ্ছিলেন, আর এই ফাঁকেই রক্ষণভাগ নিজেদের খেলাটা গুলিয়ে ফেলে। তবে শেষ দুটো ম্যাচে যা-ই হোক। রজার্স গর্বিত তাঁর খেলোয়াড়দের নিয়ে, পুরো মৌসুমে আমার দলের খেলোয়াড়েরা যেভাবে খেলেছে, তাতে গর্বিত না হয়ে পারা যায় না। রয়টার্স।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close