এশিয়া জুড়ে

বামফ্রন্টের কৌশল নির্ধারণ হবে ভোটের ফলাফলের পর

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: কংগ্রেস-বিজেপির বাইরে তৃতীয় জোট গড়ার ভাবনা মাথায় থাকলেও ভোটের ফল দেখেই সে বিষয়ে কৌশল ঠিক করতে চায় বামফ্রন্ট। তাই কাদের নিয়ে জোটের পরিকল্পনা হচ্ছে, সে বিষয়ে এখনি মুখ খুলতে নারাজ কমিউনিস্ট নেতারা। ভোটের লড়াইয়ের শেষ পর্যায়ে এসে বামফ্রন্টের বড় দুই দল সিপিএম ও সিপিআই নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এই বিষয়টি ধরা পড়েছে। 

তারা বলেন, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর পরিস্থিতি বুঝে তৃতীয় জোট গঠনের কাজ শুরু করতে চান তারা। আর এজন্য দুই দলেরই পলিটব্যুরো মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহে বৈঠকে বসবে। নয় পর্বের লোকসভা নির্বাচনে অষ্টম ও শেষ পর্বের নির্বাচন হবে যথাক্রমে ৭ মে ও ১২ মে। এরপর ১৬ মে নয়াদিল্লির অশোকা লেনে নির্বাচন সদন থেকে একযোগে ফল ঘোষণা হবে। ভোটপূর্ব জনমত জরিপে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের এগিয়ে থাকার আভাস মিললেও ৫৪৫ আসনের লোকসভায় সরকার গঠনের জন্য ২৭২ আসন যে পাবে না, তা স্পষ্ট।

অন্যদিকে বামদের একসময়ের জোট কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ প্রথম দিকে জরিপে পিছিয়ে থাকলেও ভোট গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে চিত্র পাল্টেছে। তবে তাদেরও সরকার গঠনের মতো আসন পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। দুই জোট সরকার গঠনে আটকে গেলে অন্যদের নিয়ে অকংগ্রেসী অসাম্প্রদায়িক একটি সরকার গঠনের চেষ্টায় থাকবে বামফ্রন্ট। তবে ফলাফলের বিষয়ে আগাম কোনো ধারণা না মেলায় আঞ্চলিক দলগুলো, যারা সরকার গঠনের নিয়ামক হয়ে উঠতে পারে, এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো অবস্থান জানাচ্ছে না। বামফ্রন্টের দুর্গ বলে পরিচিত পশ্চিমবঙ্গে গত নির্বাচনে তাদের পতন ঘটে। কেরালা, পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরা মিলিয়ে তাদের আসন সংখ্যা নেমে আসে ২৫ এর নিচে।

তবে এবার ফল ভালো করার আশা করছেন সিপিএমের পলিটব্যুরোর সদস্য বৃন্দা কারাত। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে যেসব খবর আসছে, তাতে লোকসভার নির্বাচনে বামদের প্রতি ভোটাররা ইতিবাচক সায় দিচ্ছে। আমরা আশাবাদী এবার বামরা ভালো ফল করবে। নতুন সরকার গঠনে বাম দলগুলোর অবস্থান কী হবে- জানতে চাইলে দলের সম্পাদক প্রকাশ কারাতের স্ত্রী বৃন্দা বলেন, ফলাফল না দেখে এখনি বলা যাবে না। ফলাফল ঘোষণা শেষ হলেই নতুন জোট কিংবা তৃতীয় ফ্রন্ট গঠন করা যায় কি না, সে ব্যাপারে আমরা চেষ্টা চালাব। এরকম একটি কর্মকৌশল আমাদের রয়েছে।

আমরা চাই, ভারতে একটি অকংগ্রেসীয়, ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক সরকার গঠিত হোক। সেজন্য বামরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে আপ্রাণ চেষ্টা করবে। কংগ্রেস ও বিজেপির বাইরে তৃতীয় জোট গঠনের উদ্যোগের অংশ হিসেবে ১১টি বাম ও ধর্মনিরপেক্ষ দলের নেতারা ভোটের আগে গত ফেব্রুয়ারিতে নয়া দিল্লিতে বৈঠক করেছিলেন। তবে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি তারা। বামফ্রন্টভুক্ত সিপিএম, সিপিআই, ফরোয়ার্ড ব্লক ও আরএসপি ছাড়া ওই বৈঠকে ছিলেন সমাজবাদী পার্টি (এসপি), সংযুক্ত জনতা দল  (জেডি-ইউ), এআইএডিএমকে, ঝাড়খন্ড বিকাশ মোর্চা, জনতা দল (সেক্যুলার), বিজু জনতা দল (বিজেডি) ও অসম গণপরিষদের নেতারা।

নতুন করে তৃতীয় ফ্রন্ট গঠনের সম্ভাবনার বিষয়ে জানতে চাইলে সিপিআইয়ের পলিটব্যুরো সদস্য গুরুদাশ গুপ্ত বলেন, চিন্তাভাবনা আছে। তবে ফলাফল ঘোষণার আগে এ বিষয়ে কিছুই বলা যাচ্ছে না। এবার কংগ্রেসের ফল ভালো হবে না। বিজেপিও বেশিদূর যেতে পারবে কি না, সন্দেহ আছে। তাই ফলাফল দেখেই পলিটব্যুরোর সভায় পরবর্তী সিদ্ধান্ত হবে। কংগ্রেস সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান খুরশিদ বিজেপি ঠেকানোর প্রয়োজনে তৃতীয় ফ্রন্টকে সমর্থন দেয়ার কথা বললেও অন্য নেতারা তা নাকচ করেছেন।

১৯৮৯ সালে তৃতীয় ফ্রন্ট গড়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন ভি পি সিং, তার ক্ষমতা টিকেছিল ১১ মাস। এরপর চার মাস কংগ্রেসের সমর্থনে প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন চন্দ্রশেখর। দ্বিতীয় দফায় কংগ্রেসের সমর্থনে ১৯৯৬ সালে এইচ ডি দেব গৌড়া এবং ১৯৯৭ সালে আই কে গুজরাল প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। তবে কোনো সরকারই স্থায়ী হয়নি।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close