জাতীয়

ব্যয় বাড়ছে ভোটার তালিকা হালনাগাদে

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: ভোটার তালিকা হালনাগাদে গতবারের দেড়গুণ ব্যয় হচ্ছে এবার। আগামী ১৫ মে থেকে শুরু হয়ে ১৫ জুন ও ১ সেপ্টেম্বর তিন পর্বে দেশজুড়ে ভোটারতালিকা হালনাগাদের কাজ চলবে। এবার সর্বোচ্চ তিনখাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ভোটার নিবন্ধন, তথ্য সংগ্রহ ও প্রশিক্ষণ খাতে। ইসি সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

২০১২ সালে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ৩৮ কোটি টাকা। সে সময় তিন বছরের [২০১১, ২০১২ ও ২০১৩] ভোটারদের তালিকাভুক্ত করা হয়। মাত্র দুই বছরের মাথায় ২০১৪ ও ২০১৫ সালের ভোটারযোগ্যদের তালিকাভুক্তসহ দেশজুড়ে হালনাগাদের ব্যয়ের বাজেট ধরা হয়েছে প্রায় ৫৯ কোটি টাকা। ৪৮ হাজার তথ্য সংগ্রহকারী, ৯ হাজার ৬৬০ জন সুপারভাইজার, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর ৭৫০ জনসহ কয়েক হাজার কর্মকর্তা এ কাজে নিয়োজিত থাকবেন। মাঠপর্যায়ে লোকবল, জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি, তথ্য সংগ্রহকারীদের পারিশ্রমিক ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের সম্মানি, প্রশিক্ষণ, আপ্যায়ন, জ্বালানিসহ বেশ কিছু খাতে সম্ভাব্য বাজেট কমিশনের বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

ইসির বাজেট শাখার উপ সচিব সাজাহান খান জানান, ছবিসহ ভোটারতালিকা হালনাগাদে এবার প্রায় ৫৯ কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ দেয়ার প্রস্তাব করে ইসির জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ। কমিশন সব বিবেচনা করেই তা নির্ধারণ করবে। যা গতবারের চেয়ে অন্তত ২০ কোটি টাকা বেশি। সর্বশেষ ২০১২ সালের হালনাগাদে ব্যয় হয়েছিল, সে সময় ৩৮ কোটি ২৬ লাখ ৮৮ হাজার ১৮৩ টাকা ব্যয় হয়। ইসির কাছে প্রস্তাবিত বাজেটের বিষয়ে একজন কর্মকর্তা জানান, হালনাগাদ ভোটারতালিকা প্রণয়নে সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণের জন্য ৫ কোটি ৪২ লাখ ৩০ হাজার ৭৯০ টাকা, তথ্য সংগ্রহের জন্য ১৩ কোটি ৭৩ লাখ ৬৭ হাজার ৫শ টাকা, ছবি তোলাসহ ভোটার নিবন্ধনের জন্য ২৫ কোটি ২৯ লাখ ৮৭ হাজার ৬শ’ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।

এছাড়া সারাদেশে কাজ সম্পন্ন করতে ফরম ও প্রয়োজনীয় কাগজ মুদ্রণে ২ কোটি ২ লাখ ৬৯ হাজার ২শ’ টাকা, সরঞ্জমাদি ক্রয় ২ কোটি ২৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা, প্রচারণায় ৬ কোটি ২৫ লাখ ৫৪ হাজার ২শ’ টাকা, যোগাযোগ ব্যয় এবং সিটি করপোরেশনে সমন্বয়কারীদের জন্য ২ কোটি ১০ লাখ ৯১ হাজার টাকা, তদারকিতে ৫০ লাখ টাকা এবং অতিরিক্ত পারিশ্রমিক ভাতার জন্য ৩৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে। ২০০৮ সালে নবম সংসদ নির্বাচনের আগে করা ছবিসহ ভোটার তালিকায় আট কোটি দশ লাখের বেশি ভোটার ছিল। ২০০৯ ও ২০১২ সালে করা হয় হালনাগাদ। ২০১২ সালে হালনাগাদে ভোটার বাড়ে প্রায় ৭০ লাখ। বর্তমানে ভোটার সংখ্যা নয় কোটি ২০ লাখের চেয়ে বেশি। এবার হালনাগাদে ৪৬ লাখের বেশিমতো ভোটার নতুন করে যোগ হতে পারে।

ইসির মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা জানান, এখনো তারা হালনাগাদের জন্য নির্ধারিত ফরম পাননি। আগামী ১৫ মে মধ্যে প্রথমপর্বের জন্য অন্তত ২০ লাখ ফরম ছাপাতে হবে। এরইমধ্যে সংশ্লিষ্ট তথ্যসংগ্রহকারী ও অন্যদের প্রশিক্ষণ শেষ করতে হবে। ভোটার তালিকা হালনাগাদে এবার ভোটার নিবন্ধন ফরম ও স্থানান্তর ফরমে সংশোধন আসছে।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, দু’জায়গায় ভোটার হননি এমন অঙ্গীকারনামাযুক্ত হচ্ছে নিবন্ধন ফরমে। সেই সঙ্গে স্থানান্তরের জন্য আগের দুটি ফরমের পরিবর্তে এবার একটি ফরম ব্যবহার হবে। বিদ্যমান বিধিমালায় এ সংক্রান্ত সংশোধন এনে হালনাগাদের জন্য সব ধরনের ফরম মুদ্রণে পাঠানো হবে। মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় এবারের হালনাগাদ কাজ উদ্বোধনের কথা রয়েছে ইসির।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close