রাজনীতি

বঙ্গবন্ধু দেশকে দুই ভাগে ভাগ করেছেন

শীর্ষবিন্দু নিউজ: বঙ্গবন্ধু দেশকে দুই ভাগে ভাগ করেছেন। ছেলে তারেক রহমান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে অবৈধ প্রধানমন্ত্রী বলার এক মাসের মাথায় ফের বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে প্রশ্ন তুললেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বঙ্গবন্ধু দেশকে দুই ভাগে ভাগ করেছেন বলে দাবি করেছেন তিনি।

সোমবার রাতে গুলশানে নিজের কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়া বলেন, যে ব্যক্তি বাংলাদেশের মানুষকে দুভাগে বিভক্ত করেছেন, তাকে কিভাবে জাতির পিতা বলা যায়। তাহলে সবাই বাঙালি হয় কিভাবে? স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে আমরা বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী, কিন্তু জাতি হিসাবে বাঙালি হতে পারি না। ফলে আজ জাতির পিতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। গত ৮ এপ্রিল লন্ডনে এক অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান বঙ্গবন্ধুকে বাংলাদেশের প্রথম অবৈধ প্রধানমন্ত্রী বলে অভিহিত করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রথম অবৈধ প্রধানমন্ত্রী ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। কারণ তিনি ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গৃহীত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র উপেক্ষা করে প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। তারেক রহমানের ওই বক্তব্য প্রকাশের পর আওয়ামী লীগ নেতাদের পাশাপাশি বিভিন্ন মহল থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে রাতে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর খালেদা জিয়া র‌্যাব নিয়েও কথা বলেন। এই বাহিনী বিলুপ্ত করার দাবি জানান বিএনপি চেয়ারপারসন। র‌্যাব বিলুপ্ত না হলে সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলারও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

সরকার র‌্যাবকে দলীয় ও নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে বলে দাবি করে খালেদা জিয়া বলেন, র‌্যাব দেশের জন্য আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। র‌্যাব যতদিন থাকবে ততদিন মানুষের মন থেকে আতঙ্ক দূর হবে না। র‌্যাবকে রাখা যাবে না। এর ব্যত্যয় ঘটলে র‌্যাব বন্ধে কঠোর আন্দেলন গড়ে তোলা হবে। নারায়াণগঞ্জে সাতজন নয়, অপহরণের পর ১১ জনকে খুন করা হয়েছে বলে দাবি করেন বিএনপি প্রধান।

তিনি বলেন, নারায়াণগঞ্জে সাত জন নয়, প্রকৃতপক্ষে ১১ জনকে খুন করা হয়েছে। সম্পূর্ণ ঘটনাকে আড়াল করার জন্য মিডিয়ার সামনে সাতজনের কথা তুলে ধরা হচ্ছে। নারায়াণগঞ্জে নিহতদের পরিবারের উদ্দেশ্যে খালেদা জিয়া বলেন, আপনারা গণমাধ্যম ও জনগণের কাছে সত্য ঘটনা বলুন। আর এর জন্য সরকার যদি কোন কথা বলে এবং বাধা সৃষ্টি করে তাহলে আমরা ঘরে বসে থাকবো না। সরকারকে তার মাসুল দিতে হবে। দেশে বর্তমানে গ্রেপ্তার বাণিজ্য চলছে দাবি করে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।  আটক করার পর টাকা দিলে মুক্তি, না হলে সাজা। এর মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোটি কোটি টাকা অবৈধভাবে হাতিয়ে নিচ্ছে।

রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি দীপেন দেওয়ানের সভাপতিত্বে শুভেচ্ছা বিনিময় সভায় সমীরণ দেওয়ান, মেরুল বাড্ডা বৌদ্ধ মন্দিরের সুমঙ্গল, প্রধান চন্দ্র চাকমা, মিথারুন চাকমা, উদয় কুসুম বড়ুয়া, মন্দিলাল ত্রিপুরা, চন্দ্রা চাকমা, শ্রাবনী চাকমা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) রুহুল আমীন চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব সালাউদ্দিন আহমেদ, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মাসুদ আহমেদ তালুকদার, সহ-দপ্তর সম্পাদক শামীমুর রহমান শামীম উপস্থিত ছিলেন।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close