রাজনীতি

মনে হয় হাত-পা বেঁধে দেওয়া হচ্ছে

শীর্ষবিন্দু নিউজ: নারায়ণগঞ্জের সেভেন মার্ডার নিয়ে রিট আবেদনের সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জড়িতরা যে দলেরই হোক আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। কিন্তু আমরা যখন ব্যবস্থা নিচ্ছি তখন কিছু মানুষের অতি উৎসাহ, অতি তৎপরতা সরকারের কার্য্যক্রম ব্যহত করছে। বুধবার সন্ধ্যায় গণভবনে আওয়ামী লীগের কার্য্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মনে হয় যেন আমাদের হা-পা বেঁধে দেওয়া হচ্ছে। এ রকম একটা সমস্যায় ফেলে দেওয়া হয়। কথায় কথায় রিট করা, অর্ডার চাওয়া। যে কাজটি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী করবে, যে কাজটি নির্বাহী বিভাগ করবে, সে কাজ বিচার বিভাগ করলে তো আমাদের আর কিছুই করণীয় থাকে না।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সুসংগঠিত দল। এসব হাবিজাবি লোককে দলে টেনে এনে দলের ক্ষতি করে লাভ নেই। এরা দলে ঢুকে দলের আসল নেতাকর্মীদের খুন করে। দলের ক্ষতি করে। বুধবার সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে গণভবনে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির এ বৈঠক শুরু হয়।  বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ২০ মিনিট বক্তব্য রাখেন। বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন, দলের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামসহ কার্যনির্বাহী কমিটির প্রায় সকল সদস্য।

গত রোববার নারায়ণগঞ্জের ৭ খুনের ঘটনায় এক রিট আবেদনের শুনানিতে এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরীর জামাতা চাকরিচ্যুত র্যাব-১১ এর সাবেক কমান্ডার লে. কর্নেল তারেক সাঈদ মাহমুদসহ মেজর আরিফ হোসেন এবং নৌবাহিনীর লে. কমান্ডার এমএম রানাকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।

বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাহী বিভাগের দায়িত্ব নির্বাহী বিভাগ পালন করবে। অতি উৎসাহী হয়ে অর্ডার দিলে নির্বাহী বিভাগের কাজ বাধাগ্রস্ত হয় সেটা সবাইকে বুঝতে হবে। অতি উৎসাহী কর্মকাণ্ড অপরাধীদের সজাগ করার পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাজে বাধা দিচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, একটা রাষ্ট্রের তিনটি পিলার আছে। এগুলো লেজিসটেটিভ, জুডিশিয়াল ও এক্সিকিউটিভ, একে অপরের পরিপূরক। সবাইকে এমনভাবে কাজ করতে যেন কারো কাজে কেউ বাধা সৃষ্টি না করে। এটাই আমার অনুরোধ থাকবে।

সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অন্যায়কে আমি কখনো প্রশ্রয় দেইনি, কখনো প্রশ্রয় দেবনা। নারায়ণগঞ্জের সাত খুনে যারা জড়িত তারা যাবে কোথায়? যে যেখানেই থাক খুঁজে বের করে বিচার করা
হবে। তিনি বলেন, আমরা যেসব পদক্ষেপ নিয়েছি তার জন্য কাউকে দাবি করতে হয়নি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি, ভবিষ্যতেও নেব। এ বিষয়ে আমরা সচেতন আছি।

র‌্যাব বিলুপ্তির দাবি করায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কড়া সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, বিরোধী দলীয় নেত্রী হঠাৎ সোচ্চার হয়ে উঠলেন। তিনি  র‌্যাব বাতিল করতে বলছেন। আমি প্রশ্ন করি এ র‌্যাব তৈরি করেছে কে? উনি (খালেদা) করেছেন। তিনি বলেন, যখন এ র‌্যাব দিয়ে আওয়ামী লীগের শত শত নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে তখন র‌্যাব খুব ভালো ছিলো। আর এখন তিনি র‌্যাব বাতিল করতে উঠে পড়ে লেগেছেন। র‌্যাবের কোন সদস্য অপরাধ করলে সরকার তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের ইনডেমনিটি দিয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় খালেদা জিয়া র‌্যাবকে হত্যার জন্য ইনডেমনিটি দিয়েছিল। জিয়াউর রহমান যেমন বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের পুরস্কার দিয়েছিলেন, তেমনি খালেদা জিয়া সেই র‌্যাবকে পদক দিয়েছিলেন।

র‌্যাব বাতিলের দাবিকে নাকচ করে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭৫ এর পর জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করে ক্ষমতা দখল করেছেন। সংবিধান লঙ্ঘন করে অপকর্ম করেছেন। তাহলে কি সব সেনাসদস্যকে বাতিল করে দিতে হবে? কই সে কথা তো বলছেন না। একইভাবে পুলিশের কেউ অপরাধ করলে কি পুলিশ বাতিল করতে হবে। নারায়ণগঞ্জের সেভেন মার্ডার মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনের উদাহরণ টেনে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, কিছু মানুষ যে দলই ক্ষমতায় থাকুক তারা ক্ষমতাসীন। তাদের বিষয়ে সর্তক থাকতে হবে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close