জাতীয়

স্বজনদের কান্নায় ভারি মেঘনার পাড়

শীর্ষবিন্দু নিউজ: মেঘনার তীরে এখন শুধুই কান্নার রোল। নদীর পাড়ে আছড়ে পড়ছেন বৃদ্ধা শানু। মেয়ে শিরিন আক্তার আর নাতি নয়নের নাম ধরে কান্নায় আকাশ ভাঙ্গছেন তিনি। তার মেয়ের জামাই মো. আলীকেও পাওয়া যাচ্ছে না। সঙ্গে থাকা আরেক নাতি সাদ্দাম আলী জানান, তার ফুফু ও ফুফা এবং ছোট মামাতো ভাই ঢাকা থেকে শরীয়তপুর আসছিলেন। মেঘনার পারে এমনই হৃদয়বিদারক দৃশ্য এখন।

শরীয়তপুর, মুন্সীগঞ্জ, গজারিয়া, চণ্ডীপুর, সুরেশ্বর, ওয়াপদার মানুষ এখানে ভিড় করেছেন। প্রিয়জনের লাশের সন্ধান করছেন তারা। মেঘনার বাতাসে এখন কান্নার প্রতিধ্বনি। স্বজন হারানোর বেদনা নিয়ে লাশ খুঁজে বেড়াচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। উদ্ধার হওয়া লাশগুলো সাদা কফিনে মোড়া রয়েছে পাড়ে। গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) সিদ্দিক বাংলানিউজকে বলেন, ১৩ জনের লাশ উদ্ধার হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৮ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন- শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার পাঁচগাঁও গ্রামের জামাল হোসেন শিকদার (৫০), তার ছেলে আবিদ হোসেন শিকদার (২৮), টুম্পা বেগম (৩০), সেতারা বেগম (৫০) ও আরিফ (১১)।

জীবিত উদ্ধারকৃত হয়েছেন ৩৫ জন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত ৮ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও কয়েকজনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। জেলা প্রশাসন থেকে লাশের স্বজনদের ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়রা এগিয়ে এসেছেন উদ্ধার কাজের সহযোগিতায়। খাবার সরবরাহ থেকে শুরু করে স্বজনহারাদের শান্ত্বনা দিচ্ছেন তারা। তবে রাত হওয়ায় উদ্ধার কাজে বেশ ধীর গতি দেখা যাচ্ছে। দৌলতপুর পাড়ে মোতায়েন রয়েছেন অনেক পুলিশ ও আইন শৃঙ্খলা-বাহিনীর সদস্যরা।

মন মানছে না স্বজনদের। ট্রলারে করেই তাই তারা উদ্ধারকারী জাহাজে ছুটছেন। উদ্ধারকারীদের বিরুদ্ধেও অভিযোগের অন্ত নেই। অনেকে বলছেন, অন্ধকার হয়ে যাওয়ায় এখন লঞ্চ তোলা হচ্ছে না। অনেকে বলছেন, মানুষ কমলে লঞ্চ তোলা হবে। তবে এখন পর্যন্ত উদ্ধার কর্মীদের তৎপরই মনে হচ্ছে পাড় থেকে। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে গজারিয়া উপজেলার দৌলতপুর গ্রাম সংলগ্ন মেঘনা নদীতে মর্মান্তিক এ লঞ্চডুবির ঘটনা ঘটে। সদরঘাট থেকে দুপুর একটার দিকে শরীয়তপুরের সুরেশ্বরের উদ্দেশে রওনা হয় এমভি মিরাজ-৪ লঞ্চটি। পথে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার দৌলতপুর এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ ঝড়ের কবলে পড়ে। এতে মাত্র ৩ মিনিটের মধ্যে লঞ্চটি ডুবে যায়। লঞ্চটিতে ২০০ থেকে ২৫০ জন যাত্রী ছিলেন।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close