জাতীয়

এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি বন্ধে হাইকোর্টে রিট

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: জাতীয় সংসদ সদস্যদের জন্য শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানি বন্ধ চেয়ে হাই কোর্টে একটি রিট দায়ের হয়েছে। সোমবার আইনজীবী মো. ইউনুস আলী আকন্দ সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিট আবেদনটি দায়ের করেন। রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, অর্থ সচিব, বাণিজ্য সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানকে বিবাদী করা হয়েছে।

দাখিলকৃত রিটে উল্লেখ করা হয়েছে, সংসদ সদস্যদের জন্য যাবতীয় করমুক্ত গাড়ি আমদানির সিদ্ধান্ত কেন বাতিল করা হবে না ও করমুক্ত গাড়ি আমদানি না করতে এবং এই সুবিধা না দিতে কেন নির্দেশনা দেয়া হবে না, মর্মে রুল চাওয়া হয়েছে। এছাড়া রুল জারি হলে তা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের গাড়ি আমদানি স্থগিত রাখারও নির্দেশনা চাওয়া হয়। রিটে বলা হয়, সাংসদদের কী কী সুবিধা দেয়া হবে তা সংবিধানের ৬৮ অনুচ্ছেদে বলা আছে। এখানে শুল্কমুক্ত গাড়ির বিষয়ে কিছু না থাকায় এ ধরনের সুবিধা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

দৈনিক মানবজমিনের একটি প্রতিবেদনের উদ্বৃতি দিয়ে রিটে বলা হয়, ১৯৮৮ সালের ২৪ মে সাংসদদের জন্য শুল্কসহ যাবতীয় করমুক্ত গাড়ী আমদানির প্রথম সুযোগ দেয়া হয়। প্রতিবেশি দেশ ভারতের সংসদ সদস্যরা যেখানে ১৩০০ সিসির গাড়ি ব্যবহার করেন, সেখানে বাংলাদেশের সাংসদরা গড়ে ৩০০০ থেকে ৫৫০০ সিসির বিলাসবহুল গাড়ি ব্যবহার করেন। রিট দায়েরকারি আইনজীবী মো. ইউনুস আলী আকন্দ বলেন, তাদের করের বোঝার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে অন্যদের গাড়ি কেনার জন্য কয়েকশ গুণ করের বোঝা সরকার বাড়িয়ে দেন, যা অনৈতিক ও বেআইনি।

তিনি বলেন, সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদ অনুসারে, প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ। ১৯ অনুচ্ছেদ মতে সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রকে সচেষ্ট হতে বলা হয়েছে। ২৭ অনুচ্ছেদ অনুসারে সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান। অনুচ্ছেদ ৩১ রাষ্ট্র আইনানুযায়ী ব্যতীত কিছু করতে পারবে না। এছাড়া সংসদ সদস্য হিসেবে শপথেও তারা বলেছেন, কর্তব্য পালনকে ব্যক্তিগত স্বার্থের দ্বারা প্রভাবিত হইতে দিব না। অথচ তারা বেআইনি সুবিধা নিয়ে করের বোঝা জনগণের উপর চাপিয়ে দিচ্ছেন। তাই তাদের জন্য শুল্কমুক্ত বিলাসবহুল গাড়ি আমদানি অসাংবিধানিক।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close