জাতীয়

সারাদেশে দলিল হস্তান্তর বন্ধ

সেরাজুল ইসলাম সিরাজ: বালাম বই সরবরাহ বন্ধ থাকায় সারাদেশে দলিল হস্তান্তর বন্ধ রয়েছে। এ কারণে ২০ লাখেরও বেশি দলিল হস্তান্তর আটকা পড়ে আছে। সবচেয়ে জটিল অবস্থা বিরাজ করছে রংপুর বিভাগে। ২০১২ সালের প্রথম দিক থেকেই বালাম বই নেই। সে কারণে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন ‍এক্সট্রা মোহরার ও নকল নবিশরা।

রংপুর জেলা রেজিস্ট্রার ইমদাদুল হক বাংলানিউজকে বলেছেন, অনেক বার বলেছি। কিন্তু, বালাম বই পাচ্ছি না। একটি সেমিনারের জন্য যুগ্ম সচিব রংপুর এসেছিলেন। তাকেও বিষয়টি জানিয়েছি। কিন্তু কোনো সুরাহা হয়নি। তিনি বলেন, আগে কিছু কিছু করে সরবরাহ ছিল। কিন্তু এক বছর থেকে সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি তিনি মহাপরিদর্শককেও (নিবন্ধন/আইজিআর) লিখিতভাবে জানিয়েছেন। কিন্তু, তারপরও বালাম বই সরবরাহ পাননি বলে জানিয়েছেন ইমদাদুল হক।

মহাপরিদর্শক খান মো. আব্দুল মান্নান বাংলানিউজকে বলেন, আমি যতদূর জানি, সারা দেশে ১৪ লাখ দলিল আটকে আছে। আমরা বার বার বলেছি। কিন্তু, বিজি প্রেস থেকে সরবরাহ করতে পারছে না। নির্বাচনের কারণে বিজি প্রেস বালাম বই ছাপাতে পারেনি। তিনি বলেন, আমরা নিজেরাই বালাম বই ছাপানোর চেষ্টা করছি। কিন্তু, অর্থ সংকটের কারণে সম্ভব হয়নি। অনেকবার বলা হয়েছে। কিন্তু, অর্থ মন্ত্রণালয় বরাদ্দ দেয়নি।

কবে নাগাদ এই সংকট দূর হবে, সে বিষয়েও নিশ্চিত করে কোনো দিন-তারিখ বলতে পারেননি আইজিআর। তিনি বলেছেন, অর্থ মন্ত্রণালয় যদি বরাদ্দ দেয়, তারপর ছাপাতে হবে। তাতেও সময়ের প্রয়োজন। সে কারণে কোনো নির্দিষ্ট দিন-তারিখ বলা কঠিন।

আইজিআর বাংলানিউজকে জানান, ভোট শেষ হয়েছে। বিজি প্রেস এখন কিছু কিছু করে বই দেওয়ার কথা বলেছে। জুন থেকে মাসে ১০ হাজার বালাম বই দেওয়ার কথা রয়েছে। রংপুর বিভাগে ২০১২ সাল থেকে বালাম বই না থাকা প্রসঙ্গে আইজিআর বলেন, নির্দিষ্ট কোনো উপজেলায় এমনটি হতে পারে। কিন্তু, পুরো বিভাগে এমন পরিস্থিতি থাকার কথা নয়।

পীরগঞ্জ দলিল লেখক সমিতির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক প্রধান বাংলানিউজকে জানিয়েছেন, বালাম বই সংকটের কারণে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন নকলনবিশরা। তিনি জানান, কাজের ওপর ভিত্তি করে মজুরি পান নকলনবিশরা। কাজ বন্ধ। তাই, মজুরি পাচ্ছেন না। সে কারণে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতন জীবনযাপন করতে  বাধ্য হচ্ছেন তারা।

দ্বিতীয়ত, দুর্ভোগ শিকার হচ্ছেন, জমির ক্রেতারাও। তারা দলিল পাচ্ছেন না। বালাম বইয়ে তুলতে না পারার কারণে দলিল সরবরাহ বন্ধ হয়ে আছে। এ কারণে জমি কেনার পরও দলিলের অভাবে নামজারি করতে পারছেন না। রংপুর জেলা এক্সট্রা মোহরার ও নকলনবিশ সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক বাংলানিউজকে ‍বেলেছন, আমরা প্রতি ৩০০ শব্দ অর্থাৎ ১ পৃষ্ঠা বালামে তুললে ২৪ টাকা বিল পাই। এর বাইরে আমাদের কোনো বেতন-ভাতা নেই।

২০১২ সাল থেকে বালাম বই না থাকায় নকলনবিশ বেকার বসে আছেন, যাদের অনেকেরই সংসার এই আয়ের ওপর নির্ভরশীল। রংপুর বিভাগেই প্রায় ৮শ নকলনবিশ রয়েছেন। নকলনবিশরা খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছেন। বার বার বলার পরও কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না বলে দাবি করেছেন এনামুল হক।

এদিকে, বালাম বইয়ের সংকটকে পুঁজি করে ব্যবসা করছেন জোনাল অফিসের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী। ২০১২ সালে সীমিত আকারে সরবরাহ থাকায় যাদের কাছ থেকে ‘উপরি’ পেয়েছেন, তাদেরকেই বই দিয়েছেন। আর যারা উপরি দেননি, তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এক সময় জেলা অফিসের চাহিদাপত্র অনুযায়ী ঢাকা থেকে সরাসরি সংশ্লিষ্ট জেলায় বালাম বই পাঠিয়ে দেওয়া হতো। কিন্তু এখন বিভাগীয় শহরে অবস্থিত জোনাল অফিসের মাধ্যমে বালাম বই সংগ্রহ করতে হয়। এ পদ্ধতি জোনাল অফিসের কিছু কর্মচারীর অবৈধ পন্থায় দু’পয়সা কামিয়ে নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close