অন্য পত্রিকা থেকে

চলছে রিসোর্ট তৈরির প্রতিযোগিতা

বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন, শ্রীমঙ্গল থেকে: শ্রীমঙ্গলে চলছে পাহাড়-টিলা ধ্বংস করে রিসোর্ট তৈরির প্রতিযোগিতা। তবে অনেকটা গোপনে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই। এ কাজের পথপ্রদর্শক পাঁচ তারকাখচিত একটি বেসরকারি আবাসন। প্রভাবশালীরা নিজেদের ইচ্ছেমতো পাহাড়-টিলা কিনে রিসোর্ট তৈরির প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। তবে ইকো-কটেজ নামক পারিবেশবান্ধব আবাসনের কথাও জানিয়েছেন নিসর্গপ্রেমী পার্থসারথি দাস।

পরিবেশবান্ধব ইকো-কটেজ নিয়ে নিসর্গপ্রেমী পার্থসারথি দাস কাজ করছেন দীর্ঘদিন ধরে। এ বিষয়ে তার মুখোমুখি হলে তিনি বলেন, শ্রীমঙ্গল যেহেতু একটি পর্যটনের অন্যতম স্থান। তাই পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য এখানে পর্যাপ্ত আবাসন ব্যবস্থার প্রয়োজন। কিন্তু তাই বলে প্রকৃতি ও পরিবেশ ধ্বংস করে নয়। জীববৈচিত্র্যের ধ্বংস ডেকে নয়। ইকো-কটেজ অর্থাৎ প্রাকৃতিক আবাসন তৈরি করা হলে পাহাড়-টিলা এবং প্রকৃতিও রক্ষা পাবে।

তিনি আরও বলেন, আমি দেখেছি, যারা শ্রীমঙ্গল বেড়াতে আসেন তারাও প্রাকৃতিক পরিবেশের জন্য নির্মিত ছন-বাঁশের ঘর বা কাঠের ঘরে বিশ্রাম বা রাত্রিযাপন বেশি পছন্দ করেন। তাই শ্রীমঙ্গলের সৌন্দর্যকে বাঁচিয়ে রাখার স্বার্থে অবশ্যই পরিবেশবান্ধব আবাসনগুলো নির্মাণ করা উচিত। পাহাড়-টিলা ধ্বংস করে কৃত্রিম আবাসন নির্মাণ করতে থাকলে নিসর্গলালিত শ্রীমঙ্গলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অচিরেই হারিয়ে যাবে। পাহাড়-টিলা কেটে এভাবে বিলাসবহুল আবাসন তৈরি করার বিরুদ্ধে সরকারকে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

মহাজিরাবাদ থেকে শ্রীমঙ্গল ফিরে আসার আগ মুহূর্তে একজন জানান, একটু দূরে পাহাড়ের একটি অংশ কাটা হয়েছে। আমরা সঙ্গে সঙ্গেই মোটরবাইকযোগে ছুটে গেলাম সেখানে। জনৈক আবুল কালামের বাড়ির শেষ সীমানায় অবস্থিত এই পাহাড়কাটা স্থান। দেখলাম বড় করে কাটা হয়েছে পাহাড়টি। তিনি পপুলার লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানির মহাজিরাবাদ শাখা ব্যবস্থাপক।

আবুল কালাম বলেন, ভাই, পাহাড় কাটতে যাবো কেন? এই টিলার উপরে একটি বড় একটি কাঁঠাল গাছ ছিল। গাছটি ভেঙে পড়ার পর ধসে যাওয়া টিলার মাটিগুলোকে সমান করা হয়েছে মাত্র। এখানে কিছু গাছ রোপণ করবো।

পরিবেশ অধিদপ্তর, সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মো. সালাউদ্দিন চৌধুরী বলেন, পাহাড়-টিলা কাটতে হলে সরকারি অনুমোদনের প্রয়োজন পড়ে। অনুমতি ছাড়া পাহাড় বা টিলার গতিপ্রকৃতি পরিবর্তন করা আইনত নিষেধ। তবে সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে এটি বন্ধের ব্যাপারে গণসচেতনতা তৈরি করতে হবে।

বাংলাদেশে পাহাড়ি এলাকার পরিমাণ প্রায় ১৮ শতাংশ। পাহাড়কাটার ফলে ভূমিধসের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটে। এর ফলে ভূমির একটা অংশ সরে যায় এবং স্বভাবতই ভূমি নিম্নমুখী ধাবিত হয়। এতে করে প্রকৃতি ও পরিবেশের ক্ষতি  ছাড়াও জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। কিন্তু বন্ধ হচ্ছে না অবাধ পাহাড় নিধন।

ফিরে আসার সময় হলো। মাথার উপর তখন কড়া রোদের উত্তাপ। প্রচণ্ড ক্লান্তি। প্রচণ্ড ঘাম। পাহাড়ের ওই মাটির উপর যখন কোদালের একেকটা আঘাত পড়ছিল তখন মনে হচ্ছিল আমাদের সভ্য হয়ে ওঠা- আমাদের এই প্রযুক্তি-জ্ঞান, আমাদের মেধা-মনন, জ্ঞানের উচ্চতা সবই বুঝি প্রকৃতির এমন গভীর মায়াময়তাকে জেনেশুনে ধ্বংস করার জন্যই! আমরা বারবারই ভুলে যাই- প্রকৃতি না থাকলে আমাদেরও সবুজে বাঁচা কখনোই সম্ভব হবে না। প্রকৃতির এমন ধ্বংসলীলায় ক্ষিপ্ত হয়ে সে একদিন ঠিকই তার প্রতিশোধ নেবে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close