অন্য পত্রিকা থেকে

থেমে গেছে আলী আমজদের ঘড়ির কাটা

এম.এ.সাবলু হৃদয়: চলছে না আলী আমজদের ঘড়ির কাটা। দীর্ঘ ১ বছর থেকে ঘড়ির কাটা রাত ৮টার ২০ মিনিটে আটকে আছে। কর্তৃপক্ষও এ ঘড়িটির ব্যাপারে কার্যত নির্বিকার। তাই ক্ষুব্ধ আপামর নগরবাসী। এ ঘড়িটি সুদীর্ঘ ইতিহাস কালের স্বাক্ষী। বৃটিশ আমল পরবর্তী ভারত, পাকিস্তান পেরিয়ে এখন স্বাধীন বাংলাদেশ। ঘড়িটি আছে যেই সেই। কিন্তু শুধু বারবার নষ্ট হয়ে যায় ঘটির কাটা। মেরামতও হয়। যথাযথ দেখবালের কারনে ঘড়িটি সচল থাকে না।

সর্বশেষ সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের উদ্যোগে ঘড়িটি আধুনিকায়ন ও মেরামত করা হয়। এসময় কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এরপর স্থানীয় একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষককে প্রধান করে কমিটিও গঠন করা হয়েছিল। কমিটি পরবর্তীতে কাজের নানা ক্রটি-বিচ্যূতি তুলে ধরে অসন্তোষ প্রকাশ করে একটি সুপারিশ প্রদান করেন। সংশি¬ষ্ট একটি সুত্র জানায়, সুপারিশে  ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কাজের বিপরীতে অর্থ ছাড় বন্ধ রাখার বিষয়টি উলে¬খ ছিল।

কিন্তু সুপারিশকে সম্পন্নভাবে অগ্রাহ্য করে প্রায় ৬ লক্ষ টাকা প্রদান করা হয় ঠিকারদারী প্রতিষ্ঠানকে। কিছুদিন যেতে না যেতেই আবার বন্ধ হয়ে যায় আলী আমজদের ঘটির কাটা। এভাবে পেরিয়ে যাচ্ছে দীর্ঘ ১বছর । ঐতিহাসিক তথ্য মতে, গ্রিনিচ মান সময়ের সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই  বর্তমান মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার পৃথিম পাশার জমিদার আলী আমজাদ ১৮৭৪ সালে সিলেট জেলার সুরমা নদীর তীরবর্তী স্থানে এই অনন্য সুন্দর ঘড়ি ঘরটি নির্মাণ  করেন। তাঁর নাম অনুসারে এটি আলী আমজাদ এর ঘড়ি হিসেবে খ্যতি পায়। ১৮৭৪ সালে সিলেট জেলা তৎকালীন আসাম প্রদেশের সাথে একত্রীভুক্ত হয়। তখন এই নিয়ে সিলেটে তথা শ্রীহট্রের মানুষ তীব্র প্রতিবাদী হয়।

সিলেটের জনগণকে শান্ত করার জন্য তৎকালীন বড়লাট লর্ড নর্থ ব্রম্নক সিলেট সফর করেন এবং বড়লাটের সফর উপলক্ষে এবং স্থানীয় জনসাধারণের সুবিধার্থে জমিদার আলী আমজাদের নিজ তহবিল হতে এই ঘড়িটি নির্মাণ করা হয়। প্রায় ১৪০ বছর যাবৎ উক্তটি ঘড়িটি আলী আমজাদের স্মৃতি বহন করে আসছে। এটি সিলেট জেলার একটি অন্যতম পর্যটন আকষর্ণীয় স্থান। দেশী-বিদেশী অনেক পর্যটক এই ঘড়িটি একনজরে দেখার জন্য প্রতিনিয়ত ভিড় জমায়। নগরীর  সার্কিট হাউজ ও ক্বিন ব্রিজ সংলগ্ন এ ঘড়ি ঘরটি দৈর্ঘ্য ৯ ফুট ৮ ইঞ্চি প্রস্থ ৮ ফুট ১০ ইঞ্চি নীচ থেকে ছাদ পর্যন্ত উচ্চতা ১৩ ফুট ছাদ থেকে ঘড়ি অংশের উচ্চতা ৭ ফুট  ঘড়ির উপরের অংশের উচ্চতা  ৬ ফুট  মোট উচ্চতা  ২৬ ফুট।

এ ব্যাপারে সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, কালের স্বাক্ষী এ ঘড়িটি মেরামত করতে শিগগিরই উদ্যোগ নেয়া হবে। তিনি বলেন, আর যেনতেন কোন কাজ করা হবে না। আমরা টেকসই কাজের স্বার্থে ভালো প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা নিয়েই ঘড়িটিকে সচল করব।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

আরও দেখুন...

Close
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close