জাতীয়

বিদেশি বন্ধুদের জন্য নতুন ক্রেস্ট

শীর্ষবিন্দু নিউজ: পদকে স্বর্ণের পরিমাণ নিয়ে বিতর্ক ওঠায় মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা বিদেশি বন্ধুদের সম্মাননা স্মারক হিসেবে দেয়া ক্রেস্ট নতুন করে দেবে সরকার। ক্রেস্টে দুর্নীতি নিয়ে আইনজীবী মনজিল মোরসেদের আইনি নোটিসের জবাবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব মো. রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই চিঠি সোমবার মনজিল মোরসেদের চেম্বারে পৌঁছে।

চিঠিতে বলা হয়, বিষয়টি সংসদীয় উপকমিটির তদন্তাধীনে রয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর সরবরাহকারী কোম্পানিকে পরিশোধিত বিল পুনরুদ্ধার এবং নতুন ক্রেস্ট তৈরি করে বিদেশে বাংলাদেশের হাইকমিশন/রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে বিদেশি বন্ধুদেরকে প্রদান করা ইত্যাদি বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে। তবে নোটিস দিয়েও জবাব না পাওয়ায় গত ১৯ মে এই আইনজীবী হাই কোর্টে এ বিষয়ে রিট আবেদন দায়ের করেন। একাত্তরে শহীদ পরিবারের সদস্য নাসরিন আহমেদের পক্ষে এই আবেদন করেন তিনি।

জবাব পাওয়ার পর মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের বলেছেন, নোটিসের জবাব অনুসারে ব্যবস্থা না নিলে আমরা রিটের শুনানি করব। তার রিট আবেদনে ক্রেস্ট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিশোধিত বিল ফিরিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে কেন নির্দেশনা দেয়া হবে না, সে রুল চাওয়া হয়েছে।

এছাড়া নতুন ক্রেস্ট তৈরি করে তা বাংলাদেশি দূতাবাসের মাধ্যমে বিদেশি বন্ধুদের কাছে পৌঁছে দিতে কেন নির্দেশনা দেয়া হবে না, তাও জানতে রুল চাওয়া হয়। এই দুর্নীতির ঘটনা তদন্তে ঢাকার বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ করতে বিবাদীদের প্রতি নির্দেশনা চাওয়া হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব, পররাষ্ট্র সচিব, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব, উপসচিবকে রিট আবেদনে বিবাদী করা হয়েছে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে অবদান রাখায় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বিগত সরকার বিদেশি বন্ধুদের সম্মাননা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। গত বছরের অক্টোবর পর্যন্ত সাত ধাপে প্রায় আড়াইশ বিদেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা দেয়া হয়েছে। একটি জাতীয় দৈনিকে গত ৬ এপ্রিল প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই সম্মাননা ক্রেস্টে নির্দিষ্ট পরিমাণের চেয়ে কম স্বর্ণ দেয়া হয়। তাছাড়া রুপার পরিবর্তে দেয়া হয় পিতল, তামা ও দস্তামিশ্রিত সংকর ধাতু।

এরপর এনিয়ে ব্যাপক সমালোচনা ওঠে।  এর সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি  দাবিতে শাস্তির দাবি তোলে সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম। এরপর ঢাকার বিভাগীয় কমিশনারকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি কমিটি করা হয়। সংসদেও আলোচনা ওঠার পর গত ২৪ এপ্রিল মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের একটি উপ-কমিটি গঠন করে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close