সিলেট থেকে

সিসিক প্যানেল মেয়র নাটক: নিরাপত্তা চেয়ে কয়েস লোদীর থানায় ডায়েরি

শামীমা আক্তার, সিলেট থেকে: সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মাসিক সভায় প্যানেল মেয়র কাউন্সিলর রেজাউল হাসান কয়েস লোদীকে নিয়ে নাটকীয় ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবারের দুপুরের সভায় হঠাৎ করে ৫ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রেজওয়ান আহমদ প্যানেল মেয়র রেজাউল হাসান কয়েস লোদীকে পদত্যাগের আহবান জানান। সাথে সাথে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে।

এসময় বেশ কয়েকজন কাউন্সিলর রেজওয়ানকে সমর্থন করে বলেন, কয়েস লোদী তাঁর অফিসে প্যানেল মেয়রের কার্যালয় সাইনবোর্ড লাগিয়েছেন। কিন্তু, তিনি এটা লিখতে পারেন না। সেই বিধান নেই। তারা বলেন, একমাত্র মেয়রের অনুপস্থিতিতেই প্যানেল মেয়র দায়িত্ব পালন করবেন। কিন্তু কয়েস লোদী মেয়র থাকা অবস্থায়ও সব ব্যাপারে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। এসময় কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদকে পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্ঠা করতে দেখা যায়।

এদিকে, প্রথম প্যানেল মেয়র ও ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রেজাউল হাসান কয়েস লোদী প্রাণনাশের শঙ্কায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে কোতোয়ালী থানায় তিনি এই জিডি করেন। জিডি নং ৬১০। জিডিতে কয়েস লোদী উল্লেখ করেন, তিনি পরপর তিনবারের নির্বাচিত কাউন্সিলর এবং বর্তমান পরিষদের নির্বাচিত প্যানেল মেয়র (প্রথম)। দীর্ঘদিন ধরে তিনি জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের সেবা করে আসছেন, সমাজের কল্যাণে কাজ করছেন। এতে ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি অসাধু চক্র তার পেছনে লেগেছে। তারা তাকে হুমকি দিচ্ছে, হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছে। এতে তিনি খুন-গুম বা নির্যাতনের শিকার হতে পারেন। এজন্য তিনি পুলিশের কাছে নিজের জীবনের নিরাপত্তা চেয়েছেন।

জানা যায়, মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী সকল কাউন্সিলরকে নিয়ে রম্নদ্ধদার বৈঠকে বসেন। বিষয়টি সমাধানের জন্য তিনি কয়েকজন কাউন্সিলরকে দায়িত্ব দেন। কিন্তু তারা কোনো সমাধানে পৌঁছতে না পারায় প্যানেল মেয়রের প্রতি অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে-বিপক্ষে গোপন মতামত নেয়া হয়। এসময় উপস্থিত ২৯ জন কাউন্সিলরদের মধ্যে ২৬ জন কাউন্সিলরই প্যানেল মেয়র লোদীর বিপক্ষে মতামত দেন। অবশ্য কয়েস লোদী সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।

কয়েস লোদীর দাবী মেয়র লন্ডন যাবেন, ঐ সময়ে ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে তাকে দায়িত্ব না দিতেই মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী নিজেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছেন। তবে মেয়র বলছেন-এ বিষয়ে তার কিছু করার নেই, পরিষদ যে সিদ্ধান্ত নেবে তিনি তার সাথে একমত। পরিষদের অনাস্থা প্রস্তাব শিগগিরই সংশিস্নষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন মেয়র।

লোদী বলেন, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের আইনে প্যানেল মেয়রের বিরম্নদ্ধে অনাস্থা আনার কোন বিধান নেই। অনাস্থা প্রস্তাব করলেই পদ চলে যায় না। এছাড়া কি কারণে অনাস্থা তা পরিষ্কার করা হয়নি।  অর্থ আত্মসাত বা দুর্নীতি এর বিন্দু মাত্র অভিযোগও আমার বিরুদ্ধে নেই। দায়িত্বও পালন করিনি, সুতরাং আমার বিরম্নদ্ধে অভিযোগের কোন কারণ দেখছি না। সভায় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্যানেল মেয়রের বিরম্নদ্ধে অনাস্থা দেয়ার মত কোন আইন নেই জানালেও তারা অনাস্থা প্রস্তাবের নাটক সাজান। বিষয়টি আইনীভাবে মোকাবেলা করা হবে বলে জানান তিনি।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রথম প্যানেল মেয়র ও ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রেজাউল হাসান কয়েস লোদী প্রাণনাশের শঙ্কায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে কোতোয়ালী থানায় তিনি এই জিডি করেন। জিডি নং ৬১০। জিডিতে কয়েস লোদী উল্লেখ করেন, তিনি পরপর তিনবারের নির্বাচিত কাউন্সিলর এবং বর্তমান পরিষদের নির্বাচিত প্যানেল মেয়র (প্রথম)। দীর্ঘদিন ধরে তিনি জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের সেবা করে আসছেন, সমাজের কল্যাণে কাজ করছেন। এতে ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি অসাধু চক্র তার পেছনে লেগেছে। তারা তাকে হুমকি দিচ্ছে, হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছে। এতে তিনি খুন-গুম বা নির্যাতনের শিকার হতে পারেন। এজন্য তিনি পুলিশের কাছে নিজের জীবনের নিরাপত্তা চেয়েছেন।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close