জাতীয়

সাড়ে তিন বছর পর দেশে ফিরলেন উদ্ধার হওয়া সাত নাবিক

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: এক ভারতীয় নাবিককে হত্যা করা হয় চোখের সামনে, মারধর-নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে মাঝেমধ্যেই, কখনো কখনো একেবেলা খেয়েই কোনো রকমে বেঁচে থাকা। এভাবেই সোমালি জলদস্যুদের কবলে কাটানো সাড়ে তিন বছরের জিম্মি দশার কিছু খণ্ড চিত্র তুলে ধরেছেন মুক্তি পেয়ে দেশে ফেরা বাংলাদেশি নাবিকরা। সাড়ে তিন বছরেরও বেশি সময় পর জলদস্যুদের কবল থেকে মুক্তি পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে দেশে ফিরেছেন তারা।

সকাল পৌনে ৯টার দিকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর সাত নাবিককে নেয়া হয় উত্তরায় মেরিনো নামের একটি আবাসিক হোটেলে। হোটেলে ঢোকার মুখে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা হয় নাবিক জাকির হোসেনের। আমাদের নির্যাতন করা হতো, মারধর করা হতো, কখনো একবেলা খেতে দেয়া হতো। আমাদের পরিবারের কাছে ফোন করে মুক্তিপণ চাওয়া হতো। আল্লাহর রহমত না হলে দেশে ফিরতে পারতাম না। বিমানবন্দরে নেমেই কান্নায় ভেঙে পড়েন আরেক নাবিক আমিনুল ইসলাম। কখনো ভাবি নাই দেশে ফেরত আসতে পারবো, কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন তিনি। নাবিকদের দেশে ফেরত আনতে যারা কাজ করেছেন তাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

এদিকে হোটেলের সামনে সাংবাদিকদের কাছে বন্দী জীবনের ভয়াবহতার চিত্র তুলে ধরেন নাবিক জাকির হোসেন। তিনি বলেন, ভারতীয় এক নাবিককে একদিন আমাদের চোখের সামনেই নির্যাতন করে মেরে ফেলে জলদস্যুরা। একদিন ফান্সের নৌবাহিনীর একটি জাহাজ থেকেও আমাদের জাহাজে আক্রমণ হয়েছিল। তাদের ছেড়ে দেয়ার জন্য জলদস্যুরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জনের কাছে মুক্তিপণ দাবি করেছিল বলেও জানান তিনি।

কথা বলার এক পর্যায়ে নাবিকদের উদ্ধারে মূল ভূমিকা রাখা মেরিটাইম পাইরেসি অ্যান্ড হিউমেনিটেরিয়ান রেসপন্স প্রোগ্রামের (এমপিএইচআরপি) প্রধান প্রকৌশলী চিরাগ বাহারি সাংবাদিকদের কাছ থেকে তাদের সরিয়ে নেন।মুক্ত নাবিকরা শুক্রবার বিকাল ৫টায় হোটেল মেরিনোতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সব বলবেন বলে জানান তিনি।

এ সময় হোটেলের নিচে অবস্থান নিলে কুমিল্লার আবুল কাশেম নামে মুক্ত এক নাবিকের শিশু সন্তান নাঈমুল ইসলামকে নেমে আসতে দেখা যায়। কুমিল্লার কুল্লা-বেড়াভাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র নাঈমুল প্রায় চার বছর পর তার বাবাকে দেখতে পায়। বাবাকে দেখার জন্য মা ও দাদাসহ বুধবার রাত থেকে মেরিনো হোটেলে অবস্থান করছে শিশুটি। নাঈমুল সাংবাদিকদের বলে, আব্বু আমাকে দেখার সঙ্গে সঙ্গে গলা জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলেন। এ সময় আবুল কাশেম ছেলেকে জিজ্ঞেস করেন, আব্বু তুমি কেমন আছ, তুমি আমাকে চিনতে পারছ? তোমরা কেমন ছিলা?

২০১০ সালে আমিরাত থেকে কেনিয়া যাওয়ার পথে মালয়েশিয়ার পতাকাবাহী জাহাজ এমভি আলবেডো ভারত মহাসাগরে ছিনতাই হওয়ার সময় ওই সাত বাংলাদেশি জাহাজটিতে ছিলেন। ছিনতাই হওয়ার পর জলদস্যুদের নিয়ন্ত্রণে থাকা অবস্থায় ২০১৩ সালের ৭ জুলাই আলবেডো ডুবে যায়। এই নাবিকদের তখন ছিনতাই করা আরেকটি জাহাজ নাহাম-৩ এ তোলা হয় বলে ইইউ নেভাল ফোর্স জানিয়েছিল। এমপিএইচআরপির মধ্যস্থতায় গত শনিবার ছাড়া পাওয়ার পর কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে ছিলেন সাত বাংলাদেশি। এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছান তারা।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

আরও দেখুন...

Close
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close