অন্য পত্রিকা থেকে

মডেল মৌ’র প্রেম খেলা

ওয়েছ খছরু: পুরাতন প্রেমিক শুভকে ফাঁসাতে চেয়েছিল সিলেটের মডেল সুমাইয়া আক্তার মৌ। এক সময় শুভ’র সঙ্গে চুটিয়ে প্রেম করেছে। শুভকে নিয়ে অভিসারে কেটেছে বহু দিন। রাত-বিরাতে সিলেটে পর্যটন এলাকাসহ বহু স্থানে ঘুরে বেড়িয়েছে। স্বামী কামরুল ইসলাম এসব জানলেও কখনও বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। রূপসী মৌ’র ছলনায় এক সময় নিঃস্ব হয়ে যায় শুভ।

এরপর শুভ’র সঙ্গে সম্পর্কে ইতি ঘটায় মৌ। নতুন প্রেমিক হিসেবে বেছে নেয় ব্যবসায়ী সবুজকে। সে নগরীর হাসান মার্কেটের ব্যবসায়ী। উঠতি বয়সী সবুজের সঙ্গেও চুটিয়ে প্রেম শুরু করে মৌ। আর ওদিকে পুরাতন প্রেমিক শুভ হন্যে হয়ে খুঁজতে থাকে মৌকে। কিন্তু মৌ এড়িয়ে চলে তাকে। ধরা দেয় না। আর বিষয়টি জানতো ব্যবসায়ী সবুজ ও শুভ’র বন্ধু মহল। শোবিজ মিডিয়ার অনেকেই জানতো সে কাহিনী। শুভ’র বন্ধুরা জানায়, মৌ অনেক টাকাপয়সা নিয়ে যখন গা ঢাকা দেয়ার প্রস্তুতি শুরু করে তখন শুভ তাকে বিভিন্ন স্থানে পেয়ে আটকানোর চেষ্টা করে। তখন মৌ কৌশলে ভুলিয়ে-ভালিয়ে শুভর কাছ থেকে নিজেকে রক্ষা করে।

তারা জানায়, শুভ’র কাছ থেকে মৌ প্রচুর টাকা হাতিয়ে নেয়। গত বুধবার রাতে মৌকে শুভ হাসান মার্কেট এলাকায় ব্যবসায়ী সবুজের সঙ্গে পায়। আর তখন শুভ মৌকে আটকানোর চেষ্টা করে এবং মৌয়ের কাছে পাওনা হিসেবে বড় অঙ্কের টাকা দাবি করে। তখন মৌয়ের সঙ্গে তার নতুন প্রেমিক সবুজ এসে জোট বাঁধে। দু’জনই শুভকে শায়েস্তা করার পরিকল্পনা করে। তারা শুভকে পুলিশে দিয়ে মামলায় জড়ানোর চেষ্টা চালায়। এ কারণে সবুজ ও মৌ এক হয়ে পুলিশকে বিষয়টি জানায়। রাতে বন্দরবাজার ফাঁড়ির পুলিশ যখন তিনজনকে ধরে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলো তখনই বেরিয়ে এলো থলের বেড়াল। সবুজ ও মৌ একজোট হয়ে শুভর বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে নালিশ দিতে শুরু করে। শুভর বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন মামলা দেয়ার হুমকি দেয়া হয়।

কিন্তু শুভ পুলিশকে তার পক্ষে সকল যুক্তি উপস্থাপন করে মডেল মৌয়ের প্রতারণার বিষয়টি জানায়। সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সাব ইন্সপেক্টর বিকাশ জানিয়েছেন, মৌ, সবুজ ও শুভ’র বক্তব্যে কোন মিল পাওয়া যায়নি। মৌ কেন্দ্রিক ঘটনা আবর্তিত হওয়ায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সৌপর্দ করা হয়। তবে, আটকের আগে সবুজ ও মৌ জানিয়েছে, একটি মোবাইল চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুভ’র সঙ্গে বিরোধ। এ বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। তারা শুভ’র বিরুদ্ধে একতরফাভাবে দোষ তুলে ধরে।

ওই দিন শুভ ফাঁড়িতে থাকা অবস্থায় পুলিশ ও সাংবাদিকদের জানায়, মৌ তার প্রেমিকা। সে মৌকে নিয়ে বহু স্থানে অভিসারে গেছে। মৌ ছলনার আশ্রয় নিয়ে তার কাছ থেকে অনেক টাকাপয়সা লুটেপুটে খেয়েছে। একপর্যায়ে সবুজকে পেয়ে তাকে ভুলে যায়। আর পাওনা টাকা চাইতে এলে তাকে মোবাইল চোর হিসেবে ফাঁসিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র করা হয় বলে জানায় সে। এদিকে, পুলিশ মৌ ও তার বর্তমান প্রেমিক সবুজ, পুরাতন প্রেমিক শুভকে আটকের পর তিনজনকে নিয়ে সিলেটের শোবিজ অঙ্গনে তোলপাড় শুরু হয়।

চতুর মৌ সিলেটে একের পর এক কর্মকা- করে চললেও সে বুদ্ধির জোরে সব ঝামেলা থেকে উতরে গেছে সহজে। পুলিশ কিংবা সাংবাদিক তার ধারেকাছে পৌঁছাতে পারেনি। স্বামী কামরুল ইসলাম বৃক্ষের মতো তাকে আগলে রাখছে। মৌ গ্রেপ্তারের পর আদালতে পাঠানো ফরোয়াডিং কপি নিয়ে মানবজমিন-এর কাছে ছুটে আসে কামরুল ইসলাম। দাবি করে তার স্ত্রী মৌ নির্দোষ। মোবাইল চুরির ঘটনায় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করলে বৃহস্পতিবার আদালত তাকে জামিন দিয়েছে। সে জানায়, মৌকে অসামাজিকতার দায়ে গ্রেপ্তার করা হয়নি। গ্রেপ্তার ঘটনার পর মৌয়ের কর্মকা- নিয়ে সিলেটের শোবিজ অঙ্গনে অনেক গোপন তথ্য বেরিয়ে এসেছে। শোবিজ অঙ্গনের মডেল, নাট্যাভিনেতাসহ বেশ কয়েকজন জানান, মৌ মডেল কিংবা নাট্যাভিনেত্রী হিসেবে পেশাদার নয়। বিভিন্ন সময় সে টাকাওয়ালা প্রডিউসারদের খুশি করে নাটকে অভিনয় করেছে। বাঁচাতো টাউন ছাড়ো, বাঁচাতো গাউ ছাড়ো, সুরমা, সোনা মিয়া কথার মরা, চিটিংবাজসহ সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় নির্মিত কয়েকটি নাটকে অভিনয় করেছে। এসব নাটক দর্শকপ্রিয় না হলেও নাটকে অভিনয় করার সুবাদে মৌ ইতিমধ্যে তার অবস্থান করে নেয়।

তবে, মিউজিক ভিডিও মৌয়ের অন্যতম পেশা। বড় অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বেশ খোলামেলা মিউজিক ভিডিও করে মৌ। কখনও কখনও মিউজিক ভিডিওয়ের নামে সহশিল্পী, প্রডিউসার ও পরিচালকদের মনোরঞ্জনে সে বেশি সময় দিতো। গত তিন বছর ধরে সিলেটের পার্টি ড্যান্সার হিসেবে মৌ’র পরিচিতি ব্যাপক। বিশেষ করে থার্টি ফার্স্ট নাইটে সিলেটের বিভিন্ন হোটেলে তার কদর থাকে বেশি। এর কারণ মদ, নাচ, ফুর্তি সব কিছুই দখল মৌয়ের। গত থার্টি ফার্স্ট নাইটে সিলেটের সুবিদবাজারের একটি হোটেলে মদ খেয়ে অর্ধেক রাত থার্টি ফার্স্ট উৎসব জমিয়ে রাখে মৌ। এরপর মাতাল অবস্থায় তাকে বাসায় নিয়ে আসা হয়।

এর আগের থার্টি ফার্স্টে সিলেটে একাধিক হোটেলে মৌ নিজেকে বেশ খোলামেলাভাবে মেলে ধরে। আর এসব পার্টিতে অংশগ্রহণকারী উঠতি যুবকদের রূপের নেশায় ডুবিয়ে পরবর্তীকালে প্রতারণায় ফেলে নিঃস্ব করে দেয়। রাসেল হামিদ নামে এক যুবকের প্রেমে মেতে উঠেছিল মৌ। স্বামী কামরুলকে পাশ কাটিয়ে রাসেল হামিদের সঙ্গে সে অবাধ মেলামেশা করে। এক পর্যায়ে রাসেল হামিদের সঙ্গে ছলনা শুরু করলে রাসেল মৌকে মারধর করে। স্বামী কামরুল তার বেপরোয়া কর্মকান্ডে বাধা না দিলেও সমপ্রতি সময়ে তাদের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে মৌয়ের বন্ধুমহল।

একের পর এক যুবকদের সঙ্গে প্রেম এবং তাদের নিয়ে অভিসারে যাওয়া এসব ঘটনা কামরুলকে ব্যথিত করে। ৩-৪ মাস ধরে কামরুলের সঙ্গে সম্পর্ক ভাল যাচ্ছে না। কামরুল মৌকে বারবার নিষেধ করলেও মৌ একের পর এক যুবকদের সঙ্গে প্রেমের খেলায় মেতে ওঠে। এর পরিণতিতে অবশেষে গ্রেপ্তার হলো মৌ। এরপরও স্বামী কামরুল স্ত্রী মৌয়ের দোষ দিচ্ছে না। সে মৌয়ের বিরুদ্ধে উপস্থাপিত সকল অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে মানবজমিনের কাছে দাবি করে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

আরও দেখুন...

Close
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close