সিলেট থেকে

আনিত অনাস্থা প্রস্তাব বেআইনী: সংবাদ সম্মেলনে কয়েস লোদী

নিউজ ডেস্ক: সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র ও কাউন্সিলর রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেছেন, সিটি করপোরেশনের অভিভাবক আরিফুল হক চৌধুরী ইচ্ছে করলে তাৎক্ষনিক বিষয়টি সমাধান হয়ে যেত। তিনি তা না করে সাদা কাগজে উপস্থিত কাউন্সিলদের মতামত চাইলেন।

সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার মতামতকে উপেক্ষা করে গঠনতন্ত্রকে পাশ কাটিয়ে আমার উপর অনাস্থা প্রস্তাব আনালেন মেয়র আরিফ। তা সম্পূর্ন বেআইনী। যা আমার উপর অবিচার করা হয়েছে। রবিবার বিকাল সাড়ে ৪টায় সিলেট প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিলেট মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও কাউন্সিলর রেজাউল হাসান কয়েছ লোদী একথা বলেন।

লোদী বলেন, গত ১০ জুন সিলেট সিটি করপোরেশনের নিয়মিতি মাসিক সভায় আমি উপস্থিত ছিলাম। সভার এজেন্ডা অনুযায়ি সকল আলোচনা সিদ্ধান্ত গ্রহণে আমি অংশ গ্রহণ করি। সভার শেষ পর্যায়ে উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে কয়েকজন কাউন্সিলর কোন অভিযোগ না তুলেই আমাকে প্যানেল মেয়র থেকে পদত্যাগ করার দাবি তুলেন। তখন বিষয়টি আমার কাছে টাটকা-মশকরা মনে হয়েছিল।

তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন আইন ২০০৯ এর কোথাও এভাবে কোন প্যানেল মেয়রকে পদত্যাগের অনুরোধ জানানোর বিধান নেই। আইনের ১৪ ধারায় অনাস্থা প্রস্তাবে বলা হয়েছে

১) এই আইনের কোন বিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর অসাদাচরনের অভিযোগে করপোরেশনের মেয়র বা কোন কাউন্সিলরে বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনয়ন করা যাইবে।

২) নির্ধারীত কর্তৃপক্ষের নিকট মেয়র বা ক্ষেত্রমত কোন কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনয়নের ক্ষেত্রে, করপোরেশনের নির্বাচিত কাউন্সিলরগণের মোট সংখ্যার সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের স্বাক্ষরে উপ-ধারা (১) এ উল্লেখিত অভিযোগের বিবরন লিপিবদ্ধ করিয়া একটি প্রস্তাবের নোটিশ, একজন কাউন্সিলকে ব্যক্তিগতভাবে দাখিল করিতে হবে।

৩) উপ-ধারা (২) এ উল্লেখিত নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ এক মাসের মধ্যে প্রাথমিক তদন্ত করিবেন। অভিযোগ প্রমানিত হলে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেবেন।

৪) কারণ দর্শানো নোটিশের জবাব সন্তুসজনক বিবেচিত না হলে ১৫ দিনের মধ্যে প্রস্তাবটি বিবেচনার জন্য কাউন্সিলরগণের নিকট সভার নোটিশ প্রেরণ করিবেন।সিটি করপোরেশনের আইন অনুযায়ী আমি যদি কোন বিধান লঙ্ঘন করতাম বা অভিযোক্ত হতাম এবং যথাযথ নিয়ম মেনে আমার বিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হত তা হলে আমার বলার কিছু ছিলো না।

সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে কয়েছ লোদী বলেন, মেয়র আরিফ সভায় এ অনাক্ষাঙ্খিত ঘটনাটি সমাধান না করে বিষয়টি নিয়ে গঠনতন্ত্র বিরোধী পদক্ষেপ নেয়ায় আমি মহান আল্লাহর কাছে বিচার প্রার্থী। ১০ জুনের সভায় আমাকে নিয়ে কেনো এমন করা হলো? এর জন্য দায়ী কে? এমন প্রশ্ন তিনি নগরবাসীর রাখেন।

কয়েছ লোদী বলেন, সেদিনের সভায় মেয়র আরিফ ইচ্ছে করলে বিষয়টি শেষ করতে পারতেন। কেনও যে তিনি বিষয়টি শেষ করেন নাই তা মেয়র নিজেই ভালো জানেন। সংবাদ সম্মেলনে প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিক ছাড়াও ৪নং ওয়ার্ডের বিপুল সংখ্যক সাধারণ নাগরিক উপস্থিত ছিলেন।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close