জাতীয়

নূর হোসেনকে দেশে আনতে আইনি বাধা নেই: নারায়ণগঞ্জে বিশেষ সতর্কতা

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের প্রধান আসামি পশ্চিমবঙ্গে গ্রেপ্তার নূর হোসেনকে বাংলাদেশের ফেরত পাওয়া এখন ভারত সরকারের ওপর নির্ভর করছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। শনিবার গ্রেপ্তার হওয়া নূর হোসেনের বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশ এবং বেআইনিভাবে অস্ত্র রাখার অভিযোগে মামলা করেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। ওই মামলায় তাকে রোববার রিমান্ডেও নেয়া হয়েছে।

বিদেশে নূর হোসেনের গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে তাকে ফেরত আনতে সরকারের পদক্ষেপ চেয়েছ্নে কাউন্সিলর নজরুল ইসলামসহ নিহতদের স্বজনরা। নূর হোসেনকে আনার প্রক্রিয়া শুরুর কথা ইতোমধ্যে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার কথা বলেছেন নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার খন্দকার মহিদ উদ্দিন।

সাত খুনের মামলার সরাসরি তদারক করছেন নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মহিদ উদ্দিন। তিনি বলেন, নূর হোসেন গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে সে দেশের ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসংখ্যবার কথা বলেছি। তাকে তাড়াতাড়ি ফিরিয়ে আনতে সব চেষ্টাই করা হচ্ছে। তবে কোনো মামলায় সাজা হয়ে গেলে সে ক্ষেত্রে তাদের সাথে কথা বলে বিষয়টিকে সহজ করার চেষ্টা করা হবে।

তবে আলোচিত হত্যাকাণ্ডের এই আসামিকে ফেরত আনার বিষয়টি ভারতের ওপরই নির্ভর করছে বলে মনে করেন সাব্কে পুলিশ প্রধান নুরুল হুদা। রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা মাহবুবে আলম আরো বলেন, চুক্তি না থাকলেও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের জায়গা থেকে তাদের (ভারতের) নিকট কোনো আসামিকে ফেরত চাওয়া যায়। আর সম্পর্কের জায়গা থেকে তারা সেটা দিতেও পারেন।

তিনি বলেন, ভারত সরকারের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে কত তাড়াতাড়ি নূর হোসেনকে ফেরত আনা যাবে। নূর হোসেন যেসব মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছে সেগুলো নিষ্পত্তি করতে সময় লাগার কথা নয়। যদি কোনো মামলায় নূর হোসেনের সাজা হয়ও, সে ক্ষেত্রে সাজা খাটতে তাকে বাংলাদেশে নিয়ে আসা যায় বলে জানান নুরুল হুদা। তবে এটা নির্ভর করছে দুই দেশের সম্পর্কের ওপর, বলেন তিনি।

২১ অগাস্টের গ্রেনেড হামলার আসামি দুই ভাই মুরসালিন এবং মুত্তাকিন ভারতের তিহার কারাগারে আটক রয়েছেন। তাদের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়া হলেও তাতে অগ্রগতি নেই। ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির বিশেষ সুপার আব্দুল কাহহার আকন্দ বলেন, এই দুই ভাই এখন একটি মামলায় সাজা ভোগ করছে। এই সাজা শেষ হওয়ার পর তাদের ফেরত আনার চেষ্টা করা হবে।

গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আসামি প্রত্যর্পণ চুক্তি হওয়ার পর গত বছর বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তিও হয়। আসামি প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় এক দেশের সাজাপ্রাপ্ত বন্দি নিজের দেশে সাজা খাটতে পারবে। বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় এক দেশের আটক ব্যক্তিকে অন্য দেশ ফেরত পারে। বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় বাংলাদেশি বন্দি উলফা নেতা অনুপ চেটিয়াকে ভারতের পাওয়ার সুযোগ ঘটলেও এই চুক্তির আওতায় এখনো কোনো দেশ কাউকে হস্তান্তর করেনি।

তবে চুক্তি না থাকা অবস্থায়ই ২০০৭ সালের শেষে দিকে এবং ২০০৮ সালের প্রথম দিকে শীর্ষ সন্ত্রাসীসহ আটজনকে ভারত থেকে বাংলাদেশে আনা হয়। ওই প্রক্রিয়ায় ওতপ্রোতভাবে যুক্ত থাকা তৎকালীন সিআইডি কর্মকর্তা (বর্তমানে খুলনা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার )আবদুল্লাহ আরেফ বলেন, যখন তাদের আনা হয় তখন ভারতের সঙ্গে কোনো চুক্তি ছিল না। সে দেশের কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তোলার পর সময়মতো সুযোগ কাজে লাগানো হয়। দুই দেশের পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারাও বিষয়টি জানতেন।

সাবেক আইজি নুরুল হুদাও বলেন, দুই দেশের মধ্যে আন্ডারস্ট্যান্ডিং থাকলে নূর হোসেনের ব্যাপারও কোনো সমস্যা না। তখন যাদের আনা হয়েছিল, তাদের মধ্যে পুরস্কারঘোষিত শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমন, তাজ, লম্বু সেলিম, ক্যাপ সোহেল, ইব্রাহিম রয়েছেন। এই বিষয়ে নিয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জিজ্ঞেস করেন। তারাই ভালো বলতে পারবে।

নূর হোসেন পালিয়ে যাওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলের সহায়তা চেয়েছিল বাংলাদেশ পুলিশ।  সেই অনুযায়ীই দেড় মাস পর ভারতে তাকে ধরা পড়তে হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, তবে যেহেতু আমাদের সঙ্গে ভারতের বন্দি বিনিময় (বন্দি প্রত্যর্পণ) চুক্তি হয়েছে। সেই অনুয়ায়ীই তাকে শিগগিরই ফিরে আনা হবে।

এই প্রক্রিয়াটি কিভাবে সারা হবে- জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন উপ-সচিব বলেন, নূর হোসেনকে আনতে হলে প্রথমে পুলিশকে তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব কাগজপত্র পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারতে পাঠাবে। সেই সব কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর নূর হোসেনকে আনা যাবে বলে জানান এই উপসচিব।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close