Featuredঅন্য পত্রিকা থেকে

রিয়াদে এমআরপি দিতে ব্যর্থ বাংলাদেশ দূতাবাস

মোহাম্মদ আল-আমীন: জনবল সংকটের কথা বলে সৌদি আরবে বসবাসরত বাংলাদেশিদের সময় মতো মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি)  দিতে পারছেনা রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস। অথচ সৌদি আরবে বসবাসরত সব বাংলাদেশির অনতিবিলম্বে এমআরপি গ্রহণের জন্য রিয়াদের বাংলাদেশ দূতাবাস ২৭ মে একটি জরুরি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।

এ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর এমআরপির আবেদনকারীর সংখ্যা অস্বাভাবিকহারে বাড়তে থাকে। অভিযোগ পাওয়া গেছে, দূরদূরান্ত থেকে আসা বাংলাদেশিরা সেখানে চাহিদা অনুযায়ী সেবা পাচ্ছেন না। এদিকে, দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, জনবল সংকটের কারণে চাহিদা অনুযায়ী, দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেবা দেওয়া যাচ্ছে না। রিয়াদ থেকে প্রায় পাঁচশ কিলোমিটার দূর থেকে আসা শরিফ নামে একজন প্রবাসী বাংলাদেশি বাংলানিউজকে জানান, তার পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় আকামা নবায়ন করা যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, পাসপোর্ট নবায়ন করতে আসলে দূতাবাস থেকে তাকে জানানো হয়, পাসপোর্ট নবায়ন হবে না, এমআরপি করতে হবে। শরিফ আরো জানান, দূতাবাস কর্মকর্তাদের কথামতো তিনি ওইদিনই এমআরপির ফরম নিয়ে চলে যান। একদিন পর  তিনি আবারও দূতাবাসে আসেন। সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে সন্ধ্যায় ডাটা এন্ট্রি, ছবি তোলা এবং ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে আবেদনপত্র জমা দেন। এরপর দূতাবাসের এক কর্মকর্তাকে অনুরোধ করে এক বছরের জন্য পুরনো পাসপোর্ট নবায়ন করেন তিনি। এমআরপি নেওয়ার জন্য একমাস পর আবার পাঁচশ কিলোমিটার দূর থেকে তাকে আসতে হবে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন শরিফ।

এদিকে, বুধবার রিয়াদের বাংলাদেশ দূতাবাস ঘুরে শরিফের মতো অনেক ভুক্তভোগীর দেখা পাওয়া যায়। দূতাবাসের আশেপাশে ভুক্তভোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতেও দেখা গেছে। সেখানে দ্রুত পাসপোর্ট পাইয়ে দেওয়ার জন্য দালালদের দৌরাত্ম্যও রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একইসঙ্গে দূতাবাসে কর্মরত কয়েকজন কর্মকর্তাও দ্রুত পাসপোর্ট দেওয়ার জন্য অর্র্থিক সুবিধা নিয়েছেন বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন।

অপরদিকে, রিয়াদ বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সিলর (পলিটিক্যাল) মোহাম্মদ মোশাররফ হোসাইন বাংলানিউজকে বলেন, গত ১০ জুন পর্যন্ত রিয়াদ দূতাবাস থেকে  এক লাখ ৫৪ হাজার ৪২৬টি মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের  আবেদনপত্র গ্রহণ, আঙুলের ছাপ নেওয়া ও ছবি ওঠানোর কাজ করা হয়েছে।

ওই কর্মকর্তা জানান, দূতাবাসে এমআরপি করার জন্য পাঁচটি মেশিন রয়েছে, যা দিয়ে দৈনিক ২৫০টি এমআরপি প্রস্তুত করতে পারে; সেখানে বর্তমানে প্রতিদিন ৭০০/৭৫০টি এমআরপি প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। মোশাররফ হোসাইন আরো জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এমআরপি দেওয়ার কাজ শেষ করতে রিয়াদ দূতাবাস এবং জেদ্দা কনস্যুলেটের জন্য ৩০টি সিস্টেম (এমআরপি আবেদন গ্রহণ উপযোগী কম্পিউটার), সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে ভ্রাম্যমাণ সেবা দেওয়ার জন্য আরো ৩০টি সিস্টেম, সিস্টেম পরিচালনার জন্য ৬০ জন লোক এবং জন্ম নিবন্ধন করার জন্য আরো পাঁচজন কর্মকর্তা চেয়ে ঢাকায় চিঠি পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, আগামী ১০ মাসের মধ্যে অবশিষ্ট ২৫ লাখ বাংলাদেশিকে এমআরপি দিতে হলে প্রতিদিন ৮,৩০০ জনকে এমআরপির আবেদন জমা দিতে হবে। মোশাররফ হোসাইন বলেন, শুধু তাই-ই নয়, দূতাবাসে আবেদন জমা নেওয়ার পর সে ফাইল পাঠানো হচ্ছে ঢাকায় এবং ঢাকা থেকে একটি এমআরপি সৌদিতে আসতে সময় লাগছে ৩৫/৪৫ দিন।

এদিকে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে  দূতাবাসের একজন কর্মকর্তা জানান, অনতিবিলম্বে ঢাকা থেকে কম্পিউটারসহ একটি অভিজ্ঞ টিম সৌদিতে না আসলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ১০ শতাংশ  প্রবাসীদেরও এমআরপি সরবরাহ করা সম্ভব হবে না। তিনি আরো জানান, ফাইল ঢাকায় না পাঠিয়ে সৌদি আরবেই আবেদন গ্রহণ করে সেখান থেকেই এমআরপি সরবরাহের ব্যবস্থা করার জন্যও সংশ্লিষ্ট দফতরে দূতাবাস আবেদন জানিয়েছে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close