জাতীয়

সরকারকে ইমরানের হুঁশিয়ারি

শীর্ষবিন্দু নিউজ: যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে টালবাহানা না করতে সরকারকে হুঁশিয়ার করেছেন গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার।

আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ করে তিনি বলেছেন, যুদ্ধাপরাধের বিচার করার জন্য জনগণ আপনাদের ক্ষমতায় এনেছে। এই বিচার নিয়ে টালবাহানা করলে আপনারা বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবেন এবং ক্ষমতা থেকে ছিটকে পড়বেন। যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত মতিউর রহমান নিজামীর রায় পেছানোর প্রেক্ষাপটে শনিবার বিকালে শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের সমাবেশে একথা বলেন ইমরান।

গত সপ্তাহে কারা কর্তৃপক্ষ জামায়াতে ইসলামীর আমির অসুস্থ জানানোর পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল রায় পেছানোর পর তাতে ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন তিনি। ইমরান শনিবারের সমাবেশে বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার প্রতিশ্রুতি দেয়ায় আমরা যাদের ভোট দিয়ে ক্ষমতায় এনেছি, তারা যদি যুদ্ধাপরাধের বিচার থেকে পিছপা হন, তাহলে তাদেরকে বর্জনের সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে আমরা একবারও ভেবে দেখব না।

যুদ্ধাপরাধের বিচারে দীর্ঘসূত্রতা ও জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধে টালবাহানা’র প্রতিবাদে এই সমাবেশে কলামনিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, ডাকসুর সাবেক জিএস মোশতাক আহমেদসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতা ও সংস্কৃতিকর্মীরা বক্তব্য রাখেন। ইমরানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপনকারী আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ এবং তাদের মিত্র সংগঠনগুলো এই সমাবেশে অংশ নেয়নি।

ইমরান বলেন, জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ ও জাতীয় সংসদ সদস্যরা দিলেও এখন তারা অবস্থান পাল্টেছেন। জামায়াতের নিষিদ্ধ করার বিষয়ে আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, আইনমন্ত্রীর এমন বক্তব্য এবং তাতে প্রধানমন্ত্রীর সমর্থন যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে অপচেষ্টার আশঙ্কা তৈরি করেছে। আমাদের আশঙ্কা, সামরিক শাসকদের সহায়তায় নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত জামায়াত এখন রাজনীতিবিদদের হেঁয়ালি ও রাজনৈতিক দলগুলোর আপসকামিতার কারণে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে ইমরান বলেন, আমরা ইতোমধ্যে দেখেছি, একটি রাজনৈতিক দল যখন স্পষ্টতই যুদ্ধাপরাধের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, তখন তাদের কিভাবে অপমৃত্যু হয়েছে এবং তারা কিভাবে গণবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সরকারের মধ্যে লুকিয়ে থাকা ভুতগুলোকে সরিয়ে না দিলে আওয়ামী লীগও বিএনপির মতো ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে।

সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, জামায়াতের সঙ্গে যারা আঁতাত করতে চায়, তাদের সঙ্গে মিশতে আমাদের হিসেব করতে হবে। এ আঁতাত হবে লাখো মানুষের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।

মোশতাক হোসেন বলেন, শরীরে ঘা হলে সেটা সারাতে হয়। না হলে সেটা সংক্রমিত হয়ে মানুষের মৃত্যুর কারণ হতে পারে।

কিন্তু সরকার কোনো রাজনৈতিক কৌশলের কারণে জামায়াতের গা বাঁচিয়ে রেখে নিজেরাই মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তাদের বাঁচিয়ে রাখলে শুধু আওয়ামী লীগই মৃত্যুর দিকে ধাবিত হবে না, আমরাও মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচতে পারব না। মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ বীরবিক্রম, কবি মোহন রায়হান, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাংগঠনিক সম্পাদক সঙ্গীতা ইমাম, সঙ্গীতশিল্পী মাহমুদুজ্জামান বাবু, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট (খালেকুজ্জামান) সাধারণ সম্পাদক ইমরান হাবিব রুমন, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর যুগ্ম আহ্বায়ক ইকবাল কবীর সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

আরও দেখুন...

Close
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close