রাজনীতি

বিএনপি এখন ২০ দলীয় জোট

নিউজ ডেস্ক: দীলিপ বড়ুয়ার সঙ্গ ছেড়ে আসা বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের একাংশের যোগ দেয়ার মধ্য দিয়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটে দলের সংখ্যা বেড়ে এখন ২০টি হল। শনিবার রাতে গুলশানের কার্যালয়ে খালেদা জিয়ার হাতে ফুল দিয়ে এই জোটে যোগ দেন সাম্যবাদী দলের (এমএল) একাংশের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাঈদ আহমেদ।

১৯ দলীয় জোটের নেতাদের উপস্থিতিতে এই যোগদান অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়ার জোটের নতুন দলটির নেতাদের অভিনন্দন জানান। বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, এখন থেকে তাদের জোটটি ২০ দলীয় জোট নামে পরিচিত হবে। আওয়ামী লীগের জোট শরিক সাম্যবাদী দল থেকে বেরিয়ে এই নেতারা দিলীপ বড়ুয়ার গত সরকারে মন্ত্রিত্ব গ্রহণকে কেন্দ্র করে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন। পরে আলাদা দল গঠন করেন তারা।

গত ৩ জুন সাঈদের নেতৃত্বে সাম্যবাদী দলের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করে বিএনপির জোটে যোগদানের আগ্রহ দেখায়। এর একদিন পর ১৯ দলীয় জোটের বৈঠকে সাম্যবাদী দরকে জোটে নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সরকারবিরোধী জোটে সাম্যবাদী দলকে স্বাগত জানিয়ে খালেদা বলেন, “আপনারদের যোগদানের ফলে এই জোট আরো শক্তিশালী ও বেগবান হবে। আমি আশা করি, আগামীতে এই জোটের পরিধি আরো বৃদ্ধি পাবে।”

সাম্যবাদী দলের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ তোয়াহা কথা স্মরণ করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, তোয়াহা সাহেবের মতো ভালো নেতাদের সংসদে নিয়ে এসেছিলেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। ওই সময়ে সংসদে অনেক ভালো ভালো নেতা এসেছিলেন বলেই ওই সংসদে ইমেজ অনেক বৃদ্ধি পেয়েছিল। ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে চারদলীয় জোটের পরিসর বাড়িয়ে ১৮ দলীয় জোট গঠন করেছিল বিএনপি।

এরপর গত ২৫ জানুয়ারি এরশাদের সঙ্গ ত্যাগ করে কাজী জাফর আহমদের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টি যোগদান করলে ১৮ দলীয় জোট ১৯ দলে রূপ নেয়। এর মধ্যে কয়েকমাস আগে জোট থেকে বেরিয়ে যায় শেখ আনোয়ারুল হক নেতৃত্বাধীন ন্যাপ ভাসানী। পরে অবশ্য আজহারুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন ন্যাপ ভাসানী জোটে থেকে যায়। বিএনপি জোটের অন্য দলগুলো হচ্ছে- জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ঐক্যজোট, খেলাফত মজলিশ, বিজেপি, এলডিপি, কল্যাণ পার্টি, জাগপা, এনপিপি, এনডিপি, লেবার পার্টি, ইসলামিক পার্টি, বাংলাদেশ ন্যাপ, মুসলিম লীগ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, পিপলস লীগ ও ডেমোক্রেটিক লীগ।

বর্তমান সরকার না হটালে দেশ নিঃশেষ

বর্তমান সরকারকে না হটালে দেশ ‘নিঃশেষ’ হয়ে যাবে দাবি করে ঈদের পর সবাইকে নিয়ে ‘কঠিন’ আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছেন খালেদা।

সাম্যবাদী দলের যোগদান অনুষ্ঠানে বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশ এক কঠিন পরিস্থিতির মুখে। এখন কে বাম, কে ডান তা দেখার সময় নেই। বর্তমান দুর্নীতিবাজ, অবৈধ জবরদখলকারী সরকারকে হাটাতে হলে সবাইকে আজ ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। গোটা দেশকে গ্রাস করার ষড়যন্ত্র চলছে। এই সরকারকে না হটাতে পারলে আওয়ামী লীগ দেশকে এমন জায়গায় নিয়ে যাবে, দেশ বিক্রি না হলেও কিছুই থাকবে না।

আওয়ামী লীগের নীতির কোনো পরিবর্তন হয়নি দাবি করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, আওয়ামী লীগ যতই তওবা করুক, তাদের কোনো পরিবর্তন হয়নি। তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে, লুটপাট করে দেশটাকে দেউলিয়া করে ফেলেছে। তাদের চরিত্রের কোনো পরিবর্তন হয়নি। তারা পুরনো অবস্থান থেকে সরে আসেনি। তারা রুশ বলয়ে মধ্যেই আছে। গোটা দেশকে আওয়ামী লীগ আজ বন্ধুহীন করে ফেলেছে।

ঈদের পর জোরালো আন্দোলনে মাধ্যমে অবৈধ সরকারকে বিদায় করে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে, বলেন খালেদা। অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জোটে সদ্য যোগদানকারী সাম্যবাদী দলের নেতা সাঈদ আহমেদ, হানিফুল কবির, আরিফুল হক সুমন বক্তব্য রাখেন।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close