জাতীয়

অবৈধ বাংলাদেশী বিষয়ে আলোচনা করতে চায় ভারত

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: স্পর্শকাতর অবৈধ অভিবাসী সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে ভারত। ভারতের নতুন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নির্বাচনী সভা-সমাবেশে ক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশি অবৈধ অভিবাসীদের বিতাড়নের হুমকি দিয়েছিলেন। ওই হুমকির পর নব্বইয়ের দশকে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় বাংলা ভাষাভাষীদের পুশব্যাক করার আশঙ্কা আবার নতুন করে দেখা দেয়।

নরেন্দ্র মোদি সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বলেছেন, তার সাম্প্রতিক ঢাকা সফরের পর দুই দেশের সম্পর্কে যে গুণগত পরিবর্তনের ধারার সূচনা, তার মধ্যে দিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রটি তৈরি হয়েছে। ঢাকায় তিন দিনের সফর শেষে শুক্রবার দেশে ফিরে গেছেন সুষমা স্বরাজ। ঢাকা ছাড়ার আগে শুক্রবার হোটেল সোনারগাঁওয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া,  প্রধানমন্ত্রীর বোন শেখ রেহানা ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুল সুষমা স্বরাজের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এছাড়া একই সংসদ ভবনে বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এর আগে বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক করেছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলীর সঙ্গেও।

এর আগে গণমাধ্যমে দেয়া এক লিখিতি সাক্ষাৎকারে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অবৈধ অভিবাসী ইস্যুটি সতর্কভাবে মোকাবেলায় আলোচনায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে জড়িত করার পরামর্শ দিয়েছেন। তার মতে, অবৈধ অভিবাসী যে কোনো দেশের জন্যই স্পর্শকাতর বিষয় এবং বিষয়টি সতর্কভাবে মোকাবেলা উচিত। তবে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়ার পর মোদি বাংলাদেশের সঙ্গে তিস্তার পানি বণ্টনসহ অমীমাংসিত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার ইতিবাচক ইঙ্গিত দেয়ায় পরিস্থিতি অনেকটাই পাল্টে গেছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মোদি তার পরররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রথম বিদেশ সফরে ঢাকা পাঠান, যে সফরকে ভারতের নতুন সরকারের সতর্ক সিদ্ধান্ত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ওই মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র।

সফরের সময়ই সুষমা স্বরাজ জানিয়ে দেন, ভারতের নতুন সরকারের শুভেচ্ছা আর বন্ধুত্বের বার্তা নিয়ে এসেছেন তিনি। সাক্ষাৎকারে সুষমা বলেন, এই সফর দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়ে এখানকার শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আমার আলোচনার সুযোগ করে দিয়েছে। আমি আপনাদের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যে আলোচনা করেছি, সেসব খুবই উষ্ণ এবং ফলপ্রসূ ছিল। এসব আলোচনা ভবিষ্যতে সহযোগিতাপূর্ণ আলোচনার ভিত্তি তৈরি করে দিতে পারে।

এই সফরের ফলে দুই দেশের বাণিজ্য, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতা এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ক গতি পাবে। আমি মনে করি, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে গুণগত পরিবর্তনের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে বলেই দুই দেশের নিরাপত্তার বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িত বলে মনে করেন সুষমা। দুই দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষের বসবাস আর নানা ফাঁক ফোকড় থাকায় বিশাল সীমান্ত এলাকায় অনেক অবৈধ কর্মকাণ্ড হয় বলে মনে করেন তিনি।

সুষমা বলেন, এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড থেকে আমাদের নিরীহ ও ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের রক্ষা করা উচিত। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা সব পক্ষের অংশগ্রহণে আলোচনার মাধ্যমে অবৈধ অভিবাসী ইস্যু সমাধানের প্রস্তাব দিয়েছি। সীমান্ত সুরক্ষার বিষয়টি দুই দেশের পারস্পরিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সীমান্ত এলাকাকে অবৈধ কর্মকাণ্ডমুক্ত করতে হলে দুই দেশের একসঙ্গে কাজ করার কোনো বিকল্প নেই। সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা কঠোর করতে পারলেই সেখানে বসবাসরত মানুষের উন্নতি হবে বলে মনে করেন এই ভারতীয় রাজনীতিক।

ভারতে ক্ষমতার পরিবর্তনের প্রভাব বাংলাদেশেও পড়তে পারে- এমন একটা ধারণা বিভিন্ন মহল থেকে করা হলেও সফরে সুষমা স্বরাজ জোর দিয়েই জানিয়ে দিয়েছেন, তার সরকার শুধু বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক ধরেই রাখবে না, বরং এতে আরো গতি আনবে। মোদি সরকার যে বাংলাদেশকে সংকীর্ণ রাজেনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছে না সে বার্তাও দিয়ে গেছেন সুষমা। তিনি বলেন, দুই দেশের সরকার এবং জনগণের গুণগত সম্পর্কের ওপরই দুই দেশের সর্তিকতার সম্পর্কের বিষয়টি নির্ভর করে।

সুষমা বলেছেন, তার সরকার বাংলাদেশের সমাজের সব ক্ষেত্রের সঙ্গে গভীর এবং বিস্তৃত সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী। তিনি বলেন, সম্পর্ক হচ্ছে দ্বিমুখী একটি সড়ক। আমরা সহযোগিতার কিছু ক্ষেত্রে সত্যিকার অগ্রগতি লাভ করেছি এবং পারস্পরিক লাভের ওপর ভিত্তি করেই আমরা সব সময় এগিয়ে গেছি। কংগ্রসে সরকারের মেয়াদে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের বিষয়ে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, আমরা সম্পর্কের কিছু নতুন ক্ষেত্র পেয়েছি। এক্ষেত্রে তিনি দুই দেশের বাণিজ্য, বাজার সুবিধা, বিদ্যুৎ, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো, দুই দেশের সাধারণ জনগণের যোগাযোগ ও গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে যোগাযোগের বিষয় উল্লেখ করেন। 

তিনি বলেন, তারপরও আমি মনে করি আমাদের আরো কিছু করার আছে। আমরা যা অর্জন করেছি তা নিয়ে আমাদের আত্মতৃপ্তিতে ভোগার কোনো কারণ নেই। তার সরকার সব বিষয়ে বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলেও সফরে আশ্বাস দিয়েছেন সুষমা স্বরাজ। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিস্তা নদীর পানি ভাগাভাগির বিষয়ে আমাদের নিজেদের মধ্যে একটি চুক্তির প্রক্রিয়া চলছে। সীমান্তচুক্তি স্বাক্ষর বাস্তবায়িত করতে একটি বিল বর্তমানে রাজ্যসভায় রয়েছে এবং এ ব্যাপারে রাজনৈতিক আলোচনাও চলছে।

অবশ্য গত ৫ জানুয়ারি বিএনপির বয়কটের মধ্যে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে কোনো মূল্যায়ন করতে রাজি হননি সুষমা। এক্ষেত্রে তার সোজাসাপটা মন্তব্য: বাংলাদেশের জনগণই তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যত নির্ধারণ করবে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে সামনে এগিয়ে যাওয়া এবং ভারত-বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করা, যার ওপর ভিত্তি করে দুই দেশের গন্তব্য নির্ধারিত হবে।


Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close