Featuredজাতীয়

রমজানে চড়া দাম মাছ-মাংস-সবজির

শীর্ষবিন্দু নিউজ: রমজান মাসের শুরু থেকেই দাম বেড়েছে মাছ, মাংস এবং সকল ধরনের সবজির। বিশেষ করে ইফতার তৈরির পণ্যের দাম কিছুটা বাড়তি। বিশেষ করে দাম বেড়েছে বেগুন, কাঁচামরিচ, পেঁয়াজ, পেঁপের।

এছাড়া করলা, পুঁইশাক, পেঁপে, শসা, পটল, টমেটো, কাকরোল, আলু, লালশাকসহ সকল ধরনের সবজির দাম বেড়েছে সবজি ভেদে ৫ থেকে ১০ টাকা। কেজি প্রতি মাছের দাম বেড়েছে ২০ থেকে ৩৫ টাকা। মাংসের দাম বেড়েছে কেজি প্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা। তবে রমজানে সবজির বাজার কিছুটা অস্বাভাবিক থাকলেও স্বাভাবিক রয়েছে চালের বাজার।

বুধবার রাজধানীর মিরপুর শেওড়াপাড়া, কারওয়ান বাজার, মতিঝিল ব্যাংক পাড়া, রামপুরা কাঁচা বাজার ঘুরে দেখা যায় সবজির দাম বেশ বাড়তি।খুচরা ক্রেতাদের অভিযোগ পাইকারি ও খুচরা বাজারে সবজির দামের পার্থক্য প্রায় অর্ধেক। তাদের দাবি কারওয়ানবাজার বা মিরপুর-১ বাজারে সবজির দাম কম থাকলেও খুচরা বাজারে তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত দাম নেওয়া হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা মানছেন না বাজার তালিকা।

অন্যদিকে, ব্যবসায়ীদের দাবি রমজানে পরিবহন খরচ বাড়ায় সবজির দাম একটু বেশি নিতে হচ্ছে। এসব এলাকার খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায় পুঁইশাক প্রতি আটি ২০ টাকা, লাল শাক মান ভেদে ১০ থেকে ১৫ টাকা, ডাটা শাক ২০ টাকা, বেগুন মান ভেদে ৭০ থেকে ৮০ টাকা, কাঁচামরিচ ৬০ থেকে ৮০ টাকা, করলা ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, চিচিঙ্গা ৩৫ থেকে ৫০ টাকা, কাকরোল ৩০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, আলু (সাদা) ২২  ও (লাল) ৩৫ টাকা, টমেটো ৭০ থেকে ৮০ টাকা, শসা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, পটল ৩০ থেকে ৪০ টাকা, গাজর ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে, গরুর মাংস বাজার ভেদে কেজিপ্রতি ২৯০ থেকে ৩০০ টাকা, খাসি ৪৭০ থেকে ৪৯০ টাকা দরে, ব্রয়লার মুরগি আকারভেদে ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা, দেশি ৩৬৫ থেকে ৩৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
আকারভেদে প্রতিকেজি পাংগাস মাছ ১৩৫ থেকে ১৪৫ টাকা, সিলভার কার্প ১৭৫ থেকে ১৮৫ টাকা, শিং ৭৯০ থেকে ৮৬০ টাকা, তেলাপিয়া ১৭৫ থেকে ১৮৫ টাকা, রুই ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, কাতল ২৪০ থেকে ৩২০ টাকা, চিংড়ি ৩৫০ থেকে ৭০০ টাকা, বোয়াল ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকা, কৈ (চাষ) ১৯০ থেকে ২৬০ টাকা, জোড়া ইলিশ এক হাজার ৬০০ থেকে দুই হাজার ২০০ টাকা ও ছোট টেংরা ৩৬০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

খুচরা বাজারগুলোতে চালের দামের তেমন কোনো পার্থক্য লক্ষ্য করা যায় নি। খুচরা বাজারে সরু চাল মান ভেদে ৪০ থেকে ৫৬ টাকা, সাধারণ মানের মিনিকেট/নাজির ৪০ থেকে ৪৬ টাকা, উত্তম মানের মিনিকেট/নাজির ৪৭ থেকে ৫৬ টাকা, মোট চাল ৩৯ থেকে ৪৪ টাকা, সাধারণ মানের পাইজাম ৩৯ থেকে ৪১ টাকা, উত্তম মানের পাইজাম ৪২ থেকে ৪৪ টাকা, স্বর্না চাল ৩৪ থেকে ৩৬ টাকা।

শেওড়াপাড়ায় সবজি ক্রেতা প্রণব জানান রমজানের কারণে সরবরাহ কম জানিয়ে আগের চেয়ে সবজির দাম রাখা হচ্ছে দ্বিগুণ। আগে প্রতি আটি লালশাক কিনতাম ৫ টাকায়। কিন্তু এখন একই মানের লালশাক ১০ থেকে ১৫ টাকায় কিনতে হচ্ছে। এছাড়া পুঁইশাকের দামও নেওয়া হচ্ছে আটি প্রতি ২০ টাকা। যেটা রমজানের আগে কিনেছি মাত্র ১০ টাকায়।

খুচরা বাজারে পেঁয়াজ (দেশি) ৪৮ থেকে ৪৫ টাকা, (বিদেশি) ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা, দেশি রসুন মান ভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকা, বিদেশি রসুন ৮০ থেকে ৯৫ টাকা, আদা (দেশি) মানভেদে ১৮০ থেকে ২২০ টাকা, বিদেশি ২২০ থেকে ২৪০ টাকা, ছোলা ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, দেশি মসুরের ডাল ৯৫ থেকে ১১০ টাকা, বুটের ডাল ৭০ থেকে ৮০ টাকা, মুগের ডাল ৯৫ থেকে ১২০ টাকা, খেসারির ডাল ৪৫ থেকে ৫৫ টাকা, বেসন ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, চিনি ৪৪ থেকে ৪৮ টাকা, খোলা আটা ৩২ থেকে ৩৭ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

খোলা সোয়াবিন তেল প্রতিলিটার ৯৫ থেকে ১০৯ টাকা, পামঅলিন ৮৫ থেকে ৯৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিম প্রতি হালি (লাল) ২৮ থেকে ৩০ টাকা, সাদা (দেশি) ৩৮ থেকে ৪০ টাকা, হাঁস ৩৪ থেকে ৩৮ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে, একেবারেই স্বাভাবিক রয়েছে মসলার বাজার। খুচরা বাজারে দারচিনি প্রতিকেজি ৩৫০ টাকা, এলাচি কেজিপ্রতি ১৬শ’ টাকা, ইসুবগুল কেজিপ্রতি ৮শ’ টাকা, কিসমিস কেজিপ্রতি ৫শ’ টাকা, আলু বোখারা কেজিপ্রতি ৫শ’ টাকা, লবঙ্গ কেজিপ্রতি ২ হাজার টাকা, গোল মরিচ কেজিপ্রতি ১২শ’ টাকা, জিরা ৪৫০ টাকা, পেস্তা বাদাম কেজিপ্রতি ২ হাজার টাকা, কাটা বাদাম ৯শ’ টাকা এবং কাজু বাদাম ৯শ’ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

আরও দেখুন...

Close
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close