অন্য পত্রিকা থেকে

ঈদ সামনে রেখে মেরামত হচ্ছে ফিটনেসবিহীন লঞ্চ

শফিক শামীম: ঢাকার আশপাশের ডকইয়ার্ডগুলোতে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। ব্যস্ত শ্রমিক, ব্যস্ত তাদের সময়কাল। সকাল থেকে টানা সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ আর কাজ। সামনে ঈদ, তাই তো এত ব্যস্ততা। এ ব্যস্ততা ফিটনেসবিহীন ও চলাচলের অযোগ্য সব লঞ্চকে মেরামত করে তোলার!

ঢাকার বিভিন্ন ডকইয়ার্ডগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, পুরাতন লঞ্চগুলো রং করা হচ্ছে ঈদে যাত্রী পরিবহনের জন্য। লঞ্চগুলো ঈদের সময় ধারণক্ষমতার চার থেকে আট গুণ বেশি যাত্রী বহন করে থাকে। তাই তো কোনো সচেতনতা ছাড়াই মরে যাওয়া লঞ্চগুলোকে নতুন জীবন দেওয়া হচ্ছে। ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের ২৭টি ছোট বড় ডকে এসব লঞ্চের মেরামত ও রং করার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। সদরঘাটের বিপরীত দিকে বুড়িগঙ্গার তীরের ডকগুলোর কাজও খুব দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। ঈদের আগ পর্যন্ত প্রত্যেকটি ডককেই এ কাজের জন্য বুকিং দেওয়া হয়েছে। ঈদের আগেই পানিতে ভাসাতে আপ্রাণ চেষ্টা তাদের।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ডকইয়ার্ডের মালিক বাংলানিউজকে বলেন, ঈদের আগে লঞ্চের মেরামতের কাজ বেড়ে যায়। ডক ভাড়া নেওয়ার জন্য আগে থেকেই লঞ্চ মালিকরা যোগাযোগ করেন। তিনি বলেন, ফিটনেস না থাকা সব ধরনের লঞ্চ ডকে আসে। কেননা ঈদে ফিটনেসবিহীন এসব লঞ্চগুলোকেই বয়ে নিয়ে যেতে হবে গাদাগাদি করে মানুষ।

লঞ্চ মালিক সমিতির এক কর্মকর্তা বাংলানিউজকে বলেন, লঞ্চ মালিকরা লঞ্চের তলাভারী করার জন্য কিছু কিছু লঞ্চের তলদেশ সিমেন্ট দিয়ে ভারি করলেও ডুবোচরের কারণে মালিকরা তা অপসারণ করতে বাধ্য হন। প্রাইম ডকইয়ার্ড অ্যান্ড শিপবিল্ডার্স কোং-এর এক শ্রমিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলানিউজকে বলেন, ভাই ঈদ এলে আমাদের কোনো ছুটি থাকে না। রোজার শুরু থেকেই তাই কাজের মধ্যে রয়েছি। অনেক সময় ওভার ডিউটি করতে হয়। কারণ মালিকের নির্দেশ ঈদের আগে লঞ্চগুলো ডেলিভারি দিতে হবে।

এমভি পাতারহাট-৪ লঞ্চে এক শ্রমিক জানান, লঞ্চের তেমন কোনো সমস্যা নেই। কিছু সমস্যা আছে তাই ঈদের আগে মেরামত করা হচ্ছে। আর এমভি সামিট-৪ লঞ্চের এক শ্রমিক বলেন, লঞ্চের কিছু ঝামেলা আছে তাই কাজ করাতে হচ্ছে। ডকইয়ার্ডে লঞ্চ কাজ করাতে এনেছি তাই এ সুযোগে কিছু রঙের কাজও করিয়ে নিচ্ছি।

ঢাকা থেকে বরিশালগামী যাত্রী শাহাদত হোসেন (৫২) বাংলানিউজকে বলেন, ঈদ এখনও অনেক দিন বাকি আছে। তবুও পরিবারের সবাইকে নিরাপদে বাড়ি পাঠিয়ে দিচ্ছি এখনই। কেননা ঈদের সময় ফিটনেসবিহীন লঞ্চে কেউই নিরাপদ নই। তিনি বলেন, এ সব ফিটনেসবিহীন লঞ্চেই প্রতিবার ঘটছে দুর্ঘটনা। তবুও কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ফিটনেসবিহীন লঞ্চগুলোকে রং করে নামিয়ে দিচ্ছে নদীতে। এতে ঝুঁকি নিয়ে মানুষ বাড়ি যাচ্ছে।

এই ব্যাক্তি আরও বলেন, ফিটনেসবিহীন এ সব লঞ্চগুলোতে ঈদের সময় ধারনক্ষমতার চেয়ে ৪ গুণ বেশি যাত্রী নেওয়া হয়। এ যেন দুর্ঘটনা হাতে ধরে ডেকে আনা। আর এ ব্যাপারে এখনই সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া। নয় তো আবারো কোনো দুর্ঘটনার ঘটলে এর দায় কার?

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close