অন্য পত্রিকা থেকে

বিশ্বব্যাংক: বেড়েছে প্রতিশ্রুতি, কমেছে ছাড়

মফিজুল সাদিক: দাতা সংস্থা বিশ্বব্যাংক দেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে প্রতিশ্রুতি বাড়ালেও, তাদের অর্থ ছাড়ের পরিমাণ কমেছে। সংস্থাটির ২০১৩-১৪ অর্থবছরের অনুদান ও ‌ঋণের পরিমাণ বিশ্লেষণ করে এমন চিত্রই উঠে এসেছে।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এর দেওয়া তথ্য থেকে দেখা যায়, ২০১২-১৩ অর্থবছরের থেকে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বিশ্বব্যাংক  ৮৭ হাজার ৪৪৪ কোটি ১৫ লাখ টাকা বেশি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অপরদিকে একই সময়ে ৪ হাজার ১২ কোটি ২২ লাখ টাকা কম ছাড় করেছে।

সামনের সময়ে প্রতিশ্রুতির পরিমাণ হয়তো আরো বাড়বে উল্লেখ করে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতার অভাবেই ছাড় কমিয়ে দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

ইআরডি’র দেওয়া তথ্যে দেখা যায়, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংকের মধ্যে অনুদান ও ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে মোট ১১টি। এর মধ্যে ঋণচুক্তি ৭টি এবং অনুদান ৪টি। এই অর্থবছরে মোট প্রতিশ্রুতি হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার ৬৩১ কোটি ২৫ লাখ টাকার এবং ছাড় ৫৬ হাজার ২০৯ কোটি ৩২ লাখ টাকার।

পৃথকভাবে দেখা গেছে, ৭টি ঋণচুক্তির মধ্যে প্রতিশ্রুতি ২ লাখ ১৩ হাজার ৪৯৭ কোটি ৩০ লাখ টাকা এবং ছাড় হয়েছে ৪৬ হাজার ৯৪১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বাংলাদেশ বিশ্বব্যাংকে মোট পরিশোধ করেছে ২৬ হাজার ৯৭৭ কোটি ৪১ লাখ টাকা। এর মধ্যে আসল ২১ হাজার ১৬৫ কোটি টাকা এবং সুদ ৫ হাজার ৮১২ কোটি ৪১ লাখ টাকা।

অপরদিকে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ২০১২-১৩ অর্থবছরে মোট চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিলো ১০টি। এর মধ্যে ঋণচুক্তি পাঁচটি এবং অনুদান চুক্তি পাঁচটি। এই অর্থবছরে প্রতিশ্রুতি ছিল ৫৪ হাজার ১৮৮ কোটি  ১২ লাখ টাকা এবং ছাড় ৫২ হাজার ৪৪৭ কোটি টাকা। পাঁচটি অনুদান চুক্তির মধ্যে প্রতিশ্রুতি ছিল ৮ হাজার ৯৯৮ কোটি ৯৮ লাখ টাকা এবং ছাড় হয়েছে ৭ হাজার ৭৭৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। ২০১২-১৩ অর্থবছরের ঋণ ও অনুদান মিলে মোট প্রতিশ্রুতি ছিল ৬৩ হাজার ১৮৭ কোটি ১০ লাখ এবং ছাড় হয়েছে ৬০ হাজার ২২৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। ২০১২-১৩ অর্থবছরে  বিশ্বব্যাংকে পরিশোধযোগ্য টাকার মধ্যে আসল ১৪ হাজার ৯৮৯ কোটি ৫৭ লাখ টাকা এবং সুদ ৫ হাজার ৬৫৯ কোটি ৮২ লাখ টাকা। চার থেকে পাঁচ বছর আগে প্রতিশ্রুতির পরিমাণ অনেক কম ছিল সেটা বর্তমানে অনেক বেড়েছে। এটাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে ইআরডি। বড় বড় প্রকল্পের কারণেই প্রতিশ্রুতির পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশের অন্যতম দাতাগোষ্ঠী বিশ্বব্যাংক।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) অতিরিক্ত সচিব আরাস্তু খান বাংলানিউজকে জানান, গত (২০১২-১৩) অর্থবছরের তুলনায় এবার প্রতিশ্রুতির হার অনেক ভালো। বড় বড় প্রকল্পের কারণেই বিশ্বব্যাংক প্রতিশ্রুতি বাড়িয়ে দিয়েছে। চার থেকে পাঁচ বছর আগে প্রতিশ্রুতির পরিমাণ কম ছিল এখন অনেক বাড়ছে। আশা করা যাচ্ছে, সামনে প্রতিশ্রুতি আরো বাড়বে। ছাড় কমে যাওয়া প্রসঙ্গে আরাস্তু খান জানান, একটু আপ অ্যান্ড ডাউন হতে পারে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্প কাঙ্খিত বাস্তবায়ন না হওয়াতে ছাড় কমেছে। বিশ্বব্যাংক পাওয়ার সেক্টরের মতো বড় বড় খাতে অর্থায়ন করছে এতে করে বেড়েছে প্রতিশ্রুতি। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণা পরিচালক জায়েদ বখত জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতা কম থাকার কারণেই প্রতিশ্রুতি কমেছে। সংশ্লিষ্টদের উচিত প্রকল্প বাস্তবায়ন সক্ষমতা বাড়ানো। কারণ পাইপ লাইনে অনেক টাকা পড়ে আছে সেগুলো ব্যবহার করতে হবে, পাইপ লাইনে টাকা পড়ে থেকে কোনো লাভ নেই। প্রতিশ্রুতি বাড়া প্রসঙ্গে জায়েদ বখত জানান, পাওয়ার সেক্টরে বড় বড় প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে। সেখানে অর্থায়ন করছে বিশ্বব্যাংক, যে কারণে প্রতিশ্রুতি বাড়ছে। এটা আমাদের জন্য অনেক ইতিবাচক।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close