ইসলাম থেকে

খোশ আমদেদ মাহে রমজান

মাওলানা এম.এ. করিম ইবনে মছব্বির: পবিত্র কুরআন শরীফের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সহীহ শুদ্ধভাবে যাদের মুখস্থ আছে তারাই হলেন হাফিজ সমপ্রদায়। হাফিজে কুরআনরা পবিত্র কুরআনে করিমের এক উজ্জ্বল প্রামাণ্য মুজিজা। রমজান কুরআন নাজিলের মাস।

দেশজুড়ে বিভিন্ন মসজিদে খতমে তারাবিহ পড়ানোর জন্য রমজান শুরু হওয়ার কমপক্ষে এক মাস আগে থেকেই মসজিদ কমিটির কর্তাব্যক্তিরা হাফিজ সাহেবদের সন্ধান শুরু করেন। মুসলিম মিল্লাতের জন্য একজন কুরআনে হাফিজ অনেক বড় মর্যাদা ও মহাগৌরবের প্রতীক। কঠোর পরিশ্রম, ত্যাগ-তিতিক্ষার পর হাফিজে কুরআনরা কুরআন শরীফ মুখস্থ করেন এবং নিয়মিত তিলাওয়াতের মাধ্যমে আজীবন মুখস্থ রাখেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমাদের সমাজে হাফেজ সাহেবরা অবহেলিত। কুরআন নাজিলের পর থেকে অদ্যাবধি কতজন হাফিজে কুরআন হয়েছেন তার সঠিক কোনো হিসাব নেই।

রাসূলে করিম (সা.) এর অধিকাংশ সাহাবায়ে কেরামগণ হাফেজে কুরআন ছিলেন। রাসূল (সা.) এর ওফাতের পর হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) এর শাসনামলে ইয়ামামার যুদ্ধে ৭০ জন হাফিজে কুরআন সাহাবায়ে কেরাম শাহাদৎ বরণ করলে হযরত ওমর (রা.)-এর নেতৃত্বে কুরআনের বর্তমান পা-ুলিপি তৈরি হয়, যা পরিপূর্ণভাবে হযরত ওসমান (রা.)-এর আমলে শেষ হয়। বেশি ভাগ তাবয়ী, তাবে তাবেয়ী, মুফাচ্ছির, মুহাদ্দিছসহ, ফকিহ মুজতাহিদ ও আলেমই হাফিজে কুরআন ছিলেন। হাফিজে কুরআনরা আল্লাহ এবং রাসূল (সা.)-এর অতিপ্রিয় ও সম্মানিত। মহান রাব্বুল আলামিন হাফিজে কুরআনের নূরে আলোকিত করবেন তাদের কবরকে।

কিয়ামতের দিন কুরআনে হাফিজ ও তার মা-বাবাকে নূরানি তাজ পরিয়ে উঠাবেন। ইসলামে হাফিজে কুরআনদের এত সম্মান মর্যাদা হওয়া সত্ত্বেও রাষ্ট্রীয়ভাবে আমাদের দেশে তাদের বিশেষ কোন সুযোগ সুবিধা নেই। দেশের বিভিন্ন শ্রেণীর নাগরিকদের জন্য সরকারি-বেসরকারি কর্মক্ষেত্রে বিশেষ কোটা নির্ধারিত থাকলেও সৎ আদর্শবান ও বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন হাফিজে কুরআনদের জন্য কোন বিশেষ কোটা বা অগ্রাধিকার নেই। নির্দিষ্ট একটি কর্মসংস্থানের অভাবে তাদের অনেককেই সীমাহীন দুঃখ-কষ্টে দিনাতিপাত করতে হয়।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে- জাতির বিশেষ একটি শ্রেণীকে উপেক্ষা করে বৃহত্তর অংশের উন্নয়ন, উন্নতি ও অগ্রগতি কি আদৌ সম্ভব? হাফিজ তৈরির কারখানা হাফিজিয়া মাদরাসাগুলোর প্রতিও সরকারের খুব একটা নজর নেই। কুরআন নাজিলের পবিত্র এ রমজান মাসে অবহেলিত হাফিজ সমাজের ব্যাপারে সরকার যথাযথ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে মুসলিম জাতির অমূল্য রত্নদের দেশ ও জাতির সেবা ও কল্যাণে ব্যাপকভাবে আত্মনিয়োগের সুযোগদানের বিশেষ অনুরোধ রইল। তাই আমরা যেন পবিত্র কুরআনের হাফিজ সাহেবদের পূর্ণাঙ্গ হক আদায়সহ সার্বিক খেদমত করতে পারি, ওমা তাওফিকি ইল্লা বিল্লা।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close