জাতীয়

প্রাপ্ত সমুদ্রসীমা সম্পদ জনকল্যাণে লাগানো হবে

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সমুদ্রসীমায় বাংলাদেশের অধিকার প্রতিষ্ঠা হয়েছে এবং এখান থেকে যে সম্পদ পাওয়া যাবে তা দেশের জনগণের কল্যাণে কাজে লাগানো হবে। বুধবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক সম্মেলনে একথা বলেন তিনি।

মঙ্গলবার প্রকাশিত এক রায়ে বঙ্গোপসাগরের বিরোধপূর্ণ সাড়ে ২৫ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকার মধ্যে প্রায় সাড়ে ১৯ হাজার বর্গকিলোমিটার বাংলাদেশকে দিয়ে ভারতের সঙ্গে নতুন সমুদ্রসীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে আন্তর্জাতিক সালিশি আদালত। দুই বছর আগে মিয়ানমারের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ সমুদ্রসীমার মীমাংসার পর ভারতের সঙ্গেও বিরোধ নিষ্পত্তিকে সফলতা হিসেবে দেখছে আওয়ামী লীগ সরকার।

রায়ের পর প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় শেখ হাসিনা বলেন, ইতোমধ্যে আপনারা জেনেছেন, অনেকগুলি সমস্যা আমাদের ছিল যা একে একে সমাধান করছি। আমাদের সমুদ্রসীমা, আমাদের যে অধিকার ছিল, সেই অধিকার অর্জন করতে আমরা সক্ষম হয়েছি। আর এবার আমরা ভারতের কাছ থেকে আমাদের যে অধিকার তা আদায় করতে সক্ষম হয়েছি এবং এই সম্পদ জনগণের কল্যাণে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারবো ইনশাল্লাহ। বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের অনুষ্ঠানে ক্যাডারভূক্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বিভিন্ন পরামর্শও দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন বিশ্বের কাছে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। এর ধারাবাহিকতা যেন অব্যাহত থাকে সেটাও আমরা চাই। আমরা রাজনীতি করি একটি লক্ষ্য-আদর্শ নিয়ে। আমাদের সেই লক্ষ্য-আদর্শ হচ্ছে জনগণের উন্নয়ন। আমরা জনগণের সেবক। কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যেসব প্রকল্প হাতে নেই সেগুলো সফল করা, বাস্তবায়ন করা-এ দায়িত্ব অনেকটা আপনাদের ওপর নির্ভর। আমি আশা করি, আগামী দিনেও এসব প্রকল্প যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবেন।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা পাঁচ বছরের জন্য জনগণের ভোটে নির্বাচিত হই। আমরা স্বল্প সময়ের জন্য আসি, অনেক বেশি কাজ করতে চাই, সেজন্য আপনাদের সহযোগিতা একান্তভাবে কাম্য। এসময় জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করার কথা মনে করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বেতন-ভাতা যা কিছু পাচ্ছি সেটা জনগণের টাকা। এর প্রতিদান দিতে তাদের সার্বিক জীবন-যাপনের উন্নত ব্যবস্থা করে দেয়া-এটাই হচ্ছে আমাদের মূল লক্ষ্য। সুতরাং জনগণের সেবক হিসেবে আপনারা কাজ করবেন।

আমি আশা করবো, বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিটি সদস্য আন্তরিকতা ও দক্ষতার সর্বোচ্চটা দিয়ে আগামী দিনের জন্য সুখী-সমৃদ্ধ একটি সোনার বাংলা গড়তে একযোগে কাজ করে যাবে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নের কথা তুলে ধরে এক্ষেত্রে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের অবদানের জন্য তাদের ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠান শেষে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইফতারে অংশ নেন তিনি।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

আরও দেখুন...

Close
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close