Featuredঅন্য পত্রিকা থেকে

বিএনপিতে গণছাঁটাই চালাবেন তারেক

মান্নান মারুফ: রাজনীতির ময়দানে আন্দোলনের খেই হারিয়ে ফেলা বিএনপিকে চাঙ্গা করতে ব্যাপক পরিকল্পনা নিয়েছেন দলটির সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই মহাপকিল্পনার আওতায় দলকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।

দলীয় সূত্র বলছে,  টানা ক’বছর ধরে আন্দোলন নিয়ে নাস্তানাবুদ হওয়া বিএনপির ব্যর্থতার পাল্লা আর ভারি করতে চান না দলের ভবিষ্যত এই কর্ণধার। তাই যোগ্য, বিশ্বস্ত ও তরুণদের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আনতে বিএনপিতে গণছাঁটাই চালাতে চান তিনি। তবে বিতর্কিতদের একেবারে ছাঁটাই না করে গুরুত্বপ‍ূর্ণ পদ থেকে সরিয়ে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়ে সৎ ও পরীক্ষিতদের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আনার বিষয়টিও তিনি সিরিয়াসলি ভাবছেন।

শেষ পর্যন্ত তিনি যাই করেন না কেন, গত কয়েক বছরের রাজনীতিতে দলের আন্দোলনে মাঠ থেকে সরে থাকা ও বিশ্বাসঘাতকতা করা নেতাদের যে এক হাত নেবেন তা নিশ্চিত করছে তারেক সংশ্লিষ্ট প্রায় সব সূত্রই। সূত্র বলছে, দীর্ঘ দিন ধরে দলের নেতাদের কর্ম তৎপরতা খেয়াল করছেন তারেক। তবে নেত‍ৃত্বে পরিবর্তনের কাজটা তিনি এমন কৌশলে করতে চান যাতে দলের মধ্যে এর বিরূপ প্রভাব কিছুতেই না পড়ে। শুধু বিএনপি নয়। এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোতেও একইভাবে ছাঁচাই চালাতে চান তারেক। ঢাকা মহানগরসহ বিএনপির ৭৫টি সাংগঠনিক জেলার নেতৃত্ব যোগ্য ও বিশ্বস্তদের হাতে তুলে দিতে চান তারেক রহমান।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মিজা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলানিউজকে বলেন, যোগ্য ও বিশ্বস্তদের নেতৃত্বে আনার ব্যাপারে আগ্রহী বিএনপি। তবে নেতৃত্বে কারা আসবেন সেটা কেন্দ্র নয়, তৃণমূলই ঠিক করবে। প্রতিটি সাংগঠনিক কমিটি হবে কাউন্সিলের মাধ্যমে। দলটির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বাংলানিউজকে বলেন, বিএনপি সব সময় তরুণ নেতৃত্বকে উৎসাহিত করেছে। ভবিষ্যতেও তার ব্যত্যয় ঘটবে না। যোগ্য, বিশস্ত ও তরুণ নেতৃত্ব গড়ে উঠার বিষয়ে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, যেসব নেতার ব্যর্থতার কারণে ৫ জানুয়ারি নিবার্চন ঠেকাতে সরকারবিরোধী আন্দোলন তুঙ্গে উঠে ভেস্তে গেছে তাদের প্রতি চরম ক্ষুব্ধ তারেক রহমান। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যারা আন্দোলন থেকে স্বেচ্ছায় দূরে থেকেছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হয়েও যারা কোনো ভূমিকা না রেখে সম্পূর্ণ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন এবং দলের সঙ্গে ‘বেঈমানি’ করেছেন তাদের দলে না রাখার পক্ষপাতী তিনি।

এ ব্যাপারে কোনো ধরনের রাখঢাক বা লুকোচুরি না করে এখনই দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে তাদের সরিয়ে দিতে চান তারেক রহমান। বিশেষ করে গত জাতীয় নিবার্চনের আগে সারাদেশে অবরোধ এবং চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ঘোষিত ২৯ ডিসেম্বরের মার্চ ফর ডেমোক্রেসি কর্মসূচি ফ্লপ হওয়ায় বেশকিছু নেতার উপর বেজায় ক্ষুব্ধ হয়ে আছেন তারেক। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, পরবর্তী আন্দোলনের চূড়ান্ত ছক কষতে শুরু করেছেন তারেক। আর চূড়ান্ত আন্দোলনের আগেই বিএনপিতে এ ব্যাপারে একটি নীরব শুদ্ধি অভিযান চালানোর প্রক্রিয়া এরই মধ্যে শুরুও করে দিয়েছেন তিনি।

এ ছাড়াও উপরে উপরে দলের পক্ষে কথা বলে মিডিয়ায় কভারেজ নিলেও তলে তলে সরকারের সঙ্গে লিয়াজোঁ করে চলছেন এমন নেতাদের বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেছেন তারেক। আর দলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন এরকম হাতেগোনা কয়েকজন নেতার বিষয়ে বিশ্বস্ত নেতাদের ইতোমধ্যেই সতর্ক করে দিয়েছেন তিনি। এমন বাস্তবতায় ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর দল পুনর্গঠনের ঘোষণা দিলেও হঠাৎ করে তা থমকে যায়। চার মাস আগে প্রস্তুতি নিয়েও মহানগর বিএনপির নতুন কমিটি ঘোষণা করা যায়নি। একমাত্র শ্রমিক দল ছাড়া অন্য কোনো অঙ্গসংগঠন পুনর্গঠন হয়নি, দেয়া যায়নি নতুন কমিটি।

এ ছাড়া ১০ এপ্রিল সাংগঠনিক জেলাগুলোর পুনর্গঠন শুরু হলেও তা বেশিদূর অগ্রসর হতে পারেনি। ৭৫টি সাংগঠনিক জেলা বা ইউনিটের মধ্যে মাত্র ১৩টি জেলার নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেই পরবর্তী কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়। এমন পরিস্থিতিতে তারেক রহমান দলের খোলনলচে পাল্টে দেওয়ার যে পরিকল্পনা নিয়েছেন তা যে সহজ হবে না সে আলোচনা চলছে বিএনপির ভেতরেই।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close