যুক্তরাজ্য জুড়ে

ব্রিটেনে অভিবাসন নীতিতে নতুন কড়াকড়ি

নিউজ ডেস্ক: যুক্তরাজ্য সরকারের তথ্য অনুযায়ী ২০০৯ সালে যেখানে মোট ১১৮ জন্য শিক্ষা পরবর্তী উদ্যোক্তা ভিসার আবেদন করেছিলেন, সেখানে ২০১৩ সালে আবেদনকারীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় দশ হাজার। এদের মধ্যে অন্তত তিন হাজার বিদেশি নাগরিক উদ্যোক্তা ভিসায় বর্তমানে ব্রিটেনে বসবাস করছেন। আর এই আবেদনকারীদের সহযোগিতা দিচ্ছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এজন্য লেখাপড়া শেষ করে উদ্যোক্তা ভিসায় ব্রিটেনে বসবাসের ওপর নতুন করে কড়াকড়ি আরোপ করেছে যুক্তরাজ্য সরকার।
ব্রিটিশ হোম অফিস বলছে, উদ্যোক্তা ভিসার সুযোগ নিয়ে অনেকেই ব্যবসা না করে কেবল ব্রিটেনে অবস্থানের সময় বাড়াচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে তারা ভিসার শর্তও ভাঙছেন। ভিসার অপব্যবহার বন্ধ করতেই অভিবাসন নীতিতে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। উদ্যোক্তা ভিসার জন্য যারা আবেদন করবেন, এখন থেকে তাদের ব্যবসার বিষয়ে আরো বেশি তথ্য-প্রমাণ দেখাতে হবে। অন্য ভিসায় যুক্তরাজ্যে গিয়ে স্ট্যাটাস বদলে উদ্যোক্তা ভিসা নেয়ার ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের চিন্তাভাবনা চলছে।

সর্বশেষ আদমশুমারির তথ্য অনুযায়ী, দুই লাখের বেশি বাংলাদেশি বর্তমানে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন। তবে তাদের মধ্যে কতোজন উদ্যোক্তা ভিসায় সেখানে আছেন, সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। উদ্যোক্তা ভিসায় যুক্তরাজ্যে বসবাসকারীদের অন্য চাকরি করার অনুমতি নেই। কিন্তু হোম অফিসের তদন্তে দেখা যায়, ভিসা পাওয়ার পর অনেকেই শর্ত ভেঙে স্বল্প বেতনের অদক্ষ কর্মী হিসাবে চাকরি করছেন। তাদের ট্যাক্স রেকর্ড পরীক্ষা করে ব্রিটিশ কর্মকর্তারা এর প্রমাণ পেয়েছেন। আর এ ধরনের আবেদনকারীদের বিনিয়োগের অর্থ দেখানোর জন্য একটি সংঘবদ্ধ চক্র ৫০ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত ধার দিচ্ছে বলে অভিবাসন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। 

আগে বিদেশি শিক্ষার্থীরা ব্রিটেনে লেখাপড়া শেষ করে পোস্ট স্টাডি ওয়ার্ক ভিসার আবেদন করতে পারতেন এবং দুই বছর সেখানে বসবাসের সুযোগ পেতেন। কিন্তু এ সুযোগের অপব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় সরকার ২০১২ সালে পোস্ট স্টাডি ওয়ার্ক ভিসা বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকেই উদ্যোক্তা ভিসার আবেদন বেড়ে যায় বলে অভিবাসন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। 

যুক্তরাজ্যের অভিবাসন বিষয়ক মন্ত্রী জেমস ব্রোকেনশায়ার এক বিবৃতিতে বলেন, যারা ব্রিটেনে এসে লেখাপড়া শেষ করে বাস্তবিক অর্থেই উদ্যোক্ত হিসাবে ব্যবসা শুরু করতে আগ্রহী, কেবল তাদের জন্যই উদ্যোক্তা ভিসার সুযোগ রাখা হয়েছে। যুক্তরাজ্য সরকার এই ভিসা দেয় যাতে আবেদনকারীরা নিজেদের পাশাপাশি অন্য অনেকের জন্য কাজের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারেন। কিন্তু এটা স্পষ্ট যে আবেদনকারীদের অধিকাংশই কেবল যুক্তরাজ্যে বসবাসের সময় দীর্ঘায়িত করতে জালিয়াতির মাধ্যমে এই ভিসা নিচ্ছেন।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close