গ্যালারী থেকে

বিশ্বকাপ‘১৪ চ্যাম্পিয়ন জার্মানি

ওয়ার্ল্ড কাপ ডেস্ক: মারিও গোৎজের একমাত্র গোলে ব্রাজিল বিশ্বকাপ জয় করে নিলো ইউরোপীয় ফুটবলের মেশিন নামে খ্যাত জার্মানি। গোলশূন্য নির্ধারিত সময়ের খেলার পর অতিরিক্ত সময়ের খেলার ১১৩ মিনিটে গোল করেন গোৎজে। আর এ গোলের মাধ্যমে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ শিরোপার স্বপ্ন চূর্ণ হয়ে যায়। টানটান উত্তেজনার ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও জার্মানির ফরোয়ার্ডদের ব্যর্থতায় কোনো দলই নির্ধারিত সময়ের ৯০ মিনিটে গোল করতে না পারায় অতিরিক্ত সময়ে গড়ায় ম্যাচটি।

অতিরিক্ত সময়ের শুরুতে ৯২ মিনিটেই গোল করে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায় জার্মানি। কিন্তু গোলবারে সতর্ক প্রহরী রোমেরোর দক্ষতায় বিপদমুক্ত হয় আর্জেন্টিনা। এরপর ৯৭ মিনিটে সুযোগ আসে আর্জেন্টিনার পক্ষে। এবার বাউন্স বল থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন রদ্রিগো প্যালাসিও। অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধে ১০৫ মিনিট পর্যন্ত কোনো দলই আর তেমন কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি।

এর আগে গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই গোল করার সুবর্ণ সুযোগ পায় আর্জেন্টিনা। কিন্তু হিগুয়েনের পর লিওনেল মেসিও সুযোগটি কাজে লাগাতে পারেননি। ম্যাচের ৪৮ মিনিটে লুকাস বিগলিয়ার ডিফেন্স ভেদ করা দুর্দান্ত পাস ডিবক্সের ভেতরে পেয়ে যান মেসি। কিন্তু গোলরক্ষক ন্যয়ারের সামনে একলা থাকা মেসির শট গোলবারের পাশ দিয়ে চলে যায়। আবারও হতাশ হতে হয়ে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের।

এর আগে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই এজেকুয়েল লাভেজ্জির বদলি হিসেবে কোচ আলেহান্দ্রো সাবেয়া মাঠে নামান সার্জিও অ্যাগুয়েরোকে। খেলার ৫৬ মিনিটে হিগুয়েনের উদ্দেশ্যে জাবালেতার পাঠানো  লংপাস ডিবক্সের বাইরে দৌড়ে এসে লাফিয়ে ক্লিয়ার করেন জার্মান গোলরক্ষক ম্যানুয়েল ন্যয়ার। হিগুয়েন গোলরক্ষক ন্যয়ারে ধাক্কায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে ফ্রিকিক দাবি করেন। কিন্তু রেফারি হিগুয়েনের দাবি কর্ণপাত করেননি।

৬১ মিনিটে আন্দ্রে শার্লে বল নিয়ে তীব্র গতিতে দৌড়ে যেয়ে বক্সের ভেতরে পাস দেন মেসুত ‍ওজিলেকে। কিন্তু ওজিল বলটি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় গোলবারে শট নিতেও ব্যর্থ হন। এরপর ম্যাচের ৬৪ ও ৬৫ মিনিটে গোল করতে না পারায় হতাশ আর্জেন্টিনার দুজন খেলোয়াড় অবৈধভাবে ট্যাকল করায় হলুদ কার্ড দেখেন। মুলারকে ফাউল করায় মাশ্চেরানো এবং শেয়েন্সটেইগারকে ফাউল করায় সার্জিও অ্যাগুয়েরো হলুদ কার্ড দেখেন।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের উজ্জীবিত দেখালেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আর্জেন্টিনার খেলায় কিছুটা পরিচ্ছন্নতা ও পকিল্পনার অভাব দেখা যায়। ৭৮ মিনিটে গঞ্জালো হিগুয়েনের বিশ্বকাপ খেলা শেষ হয়ে যায়। তার বদলে কোচ সাবেয়া মাঠে নামান রদ্রিগো প্যালাসিওকে। ফাইনালের নায়ক হতে পারতেন হিগুয়েন, কিন্তু গোল করার সহজ সুযোগ নষ্ট করে সাইড বেঞ্চে চলে যান তিনি।

৮৩ মিনিটে ফিলিপ লাম ও মেসুত ওজিলের বোঝাপড়ায় আক্রমণে যায় জার্মানি, ডিবক্সের ঠিক বাইরে বল পান টনি ক্রুস। কিন্তু তার শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে হতাশ হতে হয় জার্মানদের। ৮৬ মিনিটে এনজো পেরেজকে বদলে কোচ সাবেয়া মাঠে নামান ফার্নান্দো গ্যাগোকে। খেলার ৮৮ মিনিটে কোচ জোয়াকিম লো কৌশল বদলে মিরোস্লাভ ক্লোসার বদলে মাঠে নামান মারিও গোৎজেকে।

এর আগে প্রথমার্ধের ম্যাচের ৩ মিনিটে থমাস মুলারকে অবৈধভাবে আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার মার্কোস রোহো বাধা দেওয়া ফ্রিকিক পায় জার্মানি। তবে ফ্রিকিক টনি ক্রুসের ফ্রিকিকি আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের তৈরি দেওয়ালে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বলটি নিয়ে পাল্টা আক্রমণে যান আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকার গঞ্জালো হিগুয়েন। বল নিয়ে ডি বক্সের ভেতরে ঢুকে পড়ে গোলবারের ডানপাশের কোনা থেকে শট নেন। হিগুয়েনের শট অল্পের জন্য জাল খুঁজে পায়নি।

ম্যাচের প্রথম ১৫ মিনিট পর্যন্ত দু’দলই আক্রমণ পাল্টা আক্রমণে যাওয়ার চেষ্টা করলেও মাঠের ডানপাশ দিয়ে আর্জেন্টিনার ফরোয়ার্ডেরা দুবার জার্মানির ডিফেন্স ভেঙ্গে ডিবক্সের ভেতরে ঢুকে পড়ে।

অন্যদিকে আক্রমণে তীক্ষ্ণতা দেখা না গেলেও জার্মানির মাঝমাঠের বল দখলে এগিয়ে রয়েছে। খেলার ২২ মিনিটে জার্মানির মিডফিল্ডার টনি ক্রুসের ভুল ব্যাকপাস থেকে ডিবক্সের ভেতর বল পান আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকার হিগুয়েন। একলা গোলরক্ষককে পেয়েও গোল করার সহজ সুযোগ হেলায় নষ্ট করেন হিগুয়েন। মারাকানা স্টেডিয়ামে উপস্থিত আর্জেন্টিনা সমর্থকরা হতাশায় ডুবে যায় হিগুয়েনের সহজ সুযোগ নষ্ট করা দেখে।

ম্যাচের ২৯ মিনিটে ইতালিয়ান রেফারি নিকোলা রিজ্জলি পকেট থেকে প্রথম হলুদ কার্ড বের করেন। পেছন থেকে লাভেজ্জিকে বাধা দেওয়ায় হলুদ কার্ডের শাস্তি পান বাস্তিয়ান শোয়েন্সটেইগার। খেলার ৩০ মিনিটে মাঠে উপস্থিত আর্জেন্টিনার সমর্থকরা গোল……. চিৎকারে ফেটে পড়েন। লাভেজ্জি নিচু করে দেওয়া ক্রসে পা ছুঁয়ে গোল করেন হিগুয়েন। কিন্তু হিগুয়েনের গোলটি অফসাইডের খাড়ায় পড়ে বাতিল হয়ে ‍যায়।

৩৬ মিনিটে আর্জেন্টিনার ডি বক্সের ভেতর থেকে জোরালো শট করেন আন্দ্রে শার্লে। কিন্তু দারুণ ক্ষীপ্রতায় বলটি পাঞ্চ করে দলকে বিপদমুক্ত করেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক সার্জিও রোমেরো। খেলার ৪০ মিনিটে বল নিয়ে ৬ গজের বক্সের ভেতর ঢুকে পড়ে লাভেজ্জিকে পাস দেন মেসি। গোলবারের খুব কাছে থেকে নেওয়া লাভেজ্জির শট ব্লক করে দেন জার্মান ডিফেন্ডার বোয়াটেং।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close