জাতিসংঘ

জাতিসংঘ থেকে আমিরা হকের পদত্যাগ

আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: প্রায় চার দশকের চ্যালেঞ্জিং ও কর্মমুখর পেশাজীবনের অবসান ঘটিয়ে জাতিসংঘ থেকে বিদায় নিলেন বাংলাদেশি আমিরা হক। আমিরা জাতিসংঘে তার ৩৮ বছরের বৈচিত্র্যময় কর্মজীবনের মধ্যে ২০ বছরই কাটিয়েছেন যুদ্ধ-দ্বন্দ্ব-সংঘাতময় পরিস্থিতিতে। সর্বশেষ ২০১২ সালের ১১ জুন আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পান তিনি।
সম্প্রতি জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ফর ফিল্ড সাপোর্ট পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছার কথা মহাসচিব বান-কি মুনের কাছে জানিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার জাতিসংঘ মহাসিচব এক বিবৃতিতে তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে সংস্থার বিভিন্ন দায়িত্বে, বিশেষ করে শান্তিরক্ষা কর্মসূচিতে আমিরা হকের সুদীর্ঘ সময়ের অবদানের কথা স্মরণ করে তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

Ameerah-Haq-ed4.jpg

বিবৃতিতে বান কি-মুন বলেন, উন্নয়ন, গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা ও মানবাধিকার কর্মকাণ্ডসহ একাধিক দেশে শান্তিরক্ষার কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন আমিরা। তিনি অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে পূর্ব তিমুর, সুদান, আফগানিস্তান, মালয়েশিয়া ও লাওসে দায়িত্ব পালন করেছেন । এজন্য জাতিসংঘের পক্ষ থেকে এবং ব্যক্তিগতভাবে আমি তার কাছে কৃতজ্ঞ।

পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চাইলে মহাসচিবের মুখপাত্র ফারহান হক গণমাধ্যমকে বলেন, পদত্যাগ করলেও আমিরা হক অক্টোবর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন।  এরই মধ্যে এই পদে আরেকজনের মনোনয়ন দেবেন মহাসচিব।

জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত এ কে এ মোমেন গণমাধ্যমকে বলেন, আমিরা হক পদত্যাগ করায় সবচেয়ে বেশী কষ্ট পাচ্ছি আমি। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্বার্থে কাজ করতে তার সর্বাত্মক সহায়তা পেয়েছি সবসময়। তিনি জাতিসংঘ সদর দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকায় আমাদের অনেক সুবিধা হচ্ছিল।

আমিরা হক ১৯৭৬ সালে জুনিয়র প্রফেশনাল অফিসার হিসেবে প্রথম জাতিসংঘে যোগদান করেন। প্রথম ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা মিশনে দুবছর দায়িত্ব পালনের পর তাকে আফগানিস্তানে জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি হিসেবে বদলি করা হয়। ১৯৮০ সালে আফগানিস্তান থেকে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরসংলগ্ন ইউএনডিপির এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের কর্মকর্তা হিসেবে বদলি হন । টানা ১০ বছর দায়িত্বে থাকাকালে তিনি থাইল্যান্ড, মিয়ানমার ও ভূটানের জন্যে আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থার একজন সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করেন। এর মধ্যেই ১৯৮৫ থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত ইউনাইটেড নেশন্স ডেভলপমেন্ট ফান্ড ফর উইমেনে ও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

 ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত তিনি মালয়েশিয়ায় ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি ছিলেন। এর আগে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত তিনি একই দায়িত্ব পালন করেন লাউসে। আমিরা নিউইয়র্কে ইউএনডিপি সদর দপ্তরে ব্যুরো অব ক্রাইসিস প্রিভেনশন অ্যান্ড রিকভারির ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট এডমিনিস্ট্রেটর এবং ডেপুটি ডিরেক্টরের দায়িত্বও পালন করেন। এর পর তিনি আফগানিস্তানে মহাসচিবের ডেপুটি স্পেশাল রিপ্রেজেনটেটিভ ছিলেন । এরপর যুদ্ধ-বিধ্বস্ত সুদানেও মহাসচিবের ডেপুটি স্পেশাল রিপ্রেজেনটেটিভ হিসেবে শান্তিরক্ষী বাহিনীর যাবতীয় কাজের তদারকি করেন তিনি। বর্তমান পদে আসার আগে সর্বশেষ ২০০৯ সাল থেকে তিনি পূর্ব তিমুরে জাতিসংঘ মহাসচিবের স্পেশাল রিপ্রেজেনটেটিভ এবং জাতিসংঘ ইন্টিগ্রেটেড মিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

সাদামাটা জীবন-যাপনে অভ্যস্ত আমিরা হক নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানসহ বাংলাদেশ মিশনের অনুষ্ঠানে অংশ নেন। দুই সন্তানের মা আমিরা যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইয়ো রাজ্যের অক্সফোর্ড সিটিতে অবস্থিত ওয়েস্টার্ন কলেজ থেকে সাহিত্যে স্নাতক পাশের পর ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্ক থেকে ব্যবসা প্রশাসনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন। এরপর তিনি নিউইয়র্কের কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে কম্যুনিটি অর্গানাইজেশন অ্যান্ড প্ল্যানিং বিষয়ে আরেকটি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close