Featuredঅন্য পত্রিকা থেকে

তিন মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে উপহার পাঠালেন প্রধানমন্ত্রী

ঊর্মি মাহবুব: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুধু একজন রাষ্ট্রপ্রধান-ই নন, একজন মমতাময়ী মাও। শত ব্যস্ততার মধ্যেও খুশির ঈদে তার তিন মেয়ের জন্য তাদের শ্বশুরবাড়িতে উপহার পাঠাতে এতটুকুনও ভুল হয়নি এই মা’র। ২০১০ সালে পুরান ঢাকার নিমতলীতে মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে স্বজন হারানো রুনা, রত্না এবং আছমার দায়িত্ব নিজের কাঁদে তুলে নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এই ট্র্যাজেডির শিকার রত্না, রুনা এবং আছমা জীবনের সুখ আর ফিরে পাওয়ার কল্পনা না করলেও নিজ হাতে তাদের সংসার গড়ে দেন শেখ হাসিনা। স-স্নেহে আগলে নেন তার আঁচলে…। বিয়ের পর থেকে তাদের নিয়মিত খোঁজ-খবর নেওয়াসহ বিভিন্ন উৎসব-পার্বনে মেয়ে, জামাই ও নাতি-নাতনিদের জন্য উহার দেন প্রধানমন্ত্রী।

সোমবার ইফতারের পর রাজধানীর হোসেনী দালান এলাকায় মেয়েদের শ্বশুরবাড়িতে ঈদ উপহার পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আশরাফুল আলম খোকন। তিনি জানান, দিনের হাজারো ব্যস্ততার মধ্যেও প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত তার মেয়েদের খোঁজ-খবর রাখেন। সব সময় তাদের নিয়ে চিন্তিতও থাকেন তিনি।
তাই ঈদ উপলক্ষে মেয়েদের শাড়িও নিজের পছন্দ অনুযায়ী কিনিয়েছেন তিনি। 

আশরাফুল আলম জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পছন্দ দেশীয় এবং ঐতিহ্যবাহী জামদানি শাড়ি। তাই মিরপুরের বেনারসি পল্লি থেকে তিন মেয়ের জন্য তিনটি জামদানি শাড়ি কেনা হয়েছে।

এছাড়া মেয়ের জামাইদের জন্য পাঞ্জাবী কেনা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর এই প্রেস সেক্রেটারি। এদিকে মেয়েদের ছেলে-মেয়ে অর্থাৎ নাতি-নাতনিদের নিয়ে যেন প্রধানমন্ত্রীর আরো বেশি আবেগপ্রবণ।

প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আশরাফুল আলম খোকন বলেন,  রুনার ৪ বছরের ছেলের জন্য নানীর পক্ষ থেকে ঈদের পোশাক পায়জামা পাঞ্জাবী দেওয়া হয়েছে। রত্নার ৩ বছরের মেয়ে জন্য স্কার্ট আর আছমার দুই ছেলের জন্যও পাঞ্জাবী-পায়জামা পাঠানো হয়ছে।

এদিকে উপহার যতোই হোক! মেয়ের বাড়িতে কী মিষ্টি ছাড়া যাওয়া চলে তাই তিন মেয়ের শ্বশুরবাড়ির লোকজনের জন্য ঈদের শুভেচ্ছাসহ পাঠিয়েছেন মিষ্টিও। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল বাশার এসব উপহার ও শুভেচ্ছা নিয়ে শেখ হাসিনার তিন মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে গেছেন বলে জানান আশরাফুল আলম।

২০১০ সালের ৩ জুন পুরান ঢাকার নিমতলীর ৪৩/১, নবাব কাটরা ৫তলা বাড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে রুনা, রত্না এবং আছমার স্বজনসহ ১২৩ জনের প্রাণহানি ঘটে। আপনজন ও সহায় সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যায় কয়েকটি পরিবার। রুনার বিয়ের পানচিনি অনুষ্ঠানের দিন ভবনের নিচে কেমিক্যালের গোডাউন থেকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

অগ্নিকাণ্ডে মা-বাবা স্বজনদের হারিয়ে নিঃস্ব হওয়া রুনা, রত্না ও আছমাকে পরম মমতায় বুকে টেনে নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাদের ‘মা’ হয়ে গণভবনে নিজে উপস্থিত থেকে এই তিন কন্যাকে নতুন করে স্বপ্ন ও সুখের পথ দেখিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

আরও দেখুন...

Close
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close