অন্য পত্রিকা থেকে

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারে উত্তাল পদ্মা পাড়ি

আজু শিকদার: নৌপথে একের পর ঘটছে দুর্ঘটনা। তবুও যেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ঘুম ভাঙে না! নৌরুটে চলাচলকারীদের সচেতন করতে তাদের নেই কোনো দৃশ্যমান তৎপরতা। একটি দুর্ঘটনা ঘটার কয়েকদিন কিছুটা তৎপর থাকলেও ওই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবার আগের মতো হয়ে যায় সবকিছু।

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাট থেকে আশপাশের কয়েকটি জেলার মানুষ পদ্মা নদী পাড়ি দিচ্ছেন কোনো ধরনের অনুমোদন বিহীন লক্কর-ঝক্কর ইঞ্জিন চালিত ট্রলারে। এতে যাত্রী তোলা, চালকের প্রশিক্ষণ, ধারণ ক্ষমতাসহ কোনো ধরনের আইন-কানুন এ ক্ষেত্রে মানা হয় না। এ কারণে প্রতিনিয়তই এসব ট্রালার ডুবির ঘটনা ঘটছে। কিন্তু নিরাপদ নৌযান চলাচল বিষয়ে বিভিন্ন সভা-সেমিনার হলেও এ বিষয়টি কারো নজরে আসছে না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দৌলতদিয়া ঘাট থেকে অর্ধশতাধিক ইঞ্জিন চালিত ট্রলার বিভিন্ন গন্তব্যে যাত্রী ও মালামাল নিয়ে চলাচল করে। পাবনা জেলার নাজিরগঞ্জ, কাজীর হাট, মানিকগঞ্জ জেলার ঝিটকা, হরিরামপুর, আরিচা, রাজবাড়ী জেলার অন্তার মোড়, গুদার বাজারসহ বিভিন্ন জায়গায় শত শত মানুষ প্রতিদিন এসব ট্রলারে পদ্মা পাড়ি দেয়। পাশাপাশি চরাঞ্চলের হাজারো মানুষ দৈনন্দিন কাজে এসব ট্রলারে যাতায়াত করে।

এসব নৌযানের নেই কোনো কাগজপত্র। নেই যাত্রী পরিবহনের যথাযথ দিক নির্দেশনা, নেই যাত্রীদের জীবন রক্ষাকারী সরঞ্জাম। একটি ট্রলারে কতজন যাত্রী তোলা যাবে তার কোনো নির্দেশনাও নেই। যাত্রী বা মালামাল ইচ্ছামতো তুলে ট্রলারগুলো রওনা দিচ্ছে উত্তাল পদ্মায়। এতে করে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার পরপর দু’দিন দুটি ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটেছে দৌলতদিয়ায়।

দৌলতদিয়া ঘাটে এক ট্রলার চালককে ট্রলারের ফিটনেস বা কাগজপত্রের বিষয়ে তার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি সাফ জবাব দেন, ‘ট্রলারের কোনো কাগজপত্র বা ফিটনেসের দরকার হয় না। যুগের পর যুগ এভাবে চলে আসছে।-তার নাম জিজ্ঞাসা করলে তিনি তার নামটিও না বলে চলে যায়।

স্থানীয় কয়েকজন অভিযোগ করেন, ট্রলার মালিকরা প্রশাসনকে ম্যানেজ দীর্ঘদিন ধরে এভাবে সাধারণ মানুষের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলে পদ্মা পাড়ি দিচ্ছে। তারা আরো বলেন, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে চলাচল কারী লঞ্চগুলোকে বিভিন্ন কাগজপত্রের ত্রুটিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত বিভিন্ন সময় জরিমানা আদায় করে। কিন্তু যাদের কোনো কাগজ পত্রই নেই তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যাবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

বিআইডব্লিউটিএ’র পোর্ট কর্মকর্তা কবির হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, নদীতে চলাচলকারী ইঞ্জিন চালিত কোনো ট্রলারই বৈধ না। আমাদের সংস্থা থেকে স্থানীয় প্রশাসনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে যাতে নদীতে কোনো ভাবেই অনুমোদন হীন নৌযান বা ট্রলার না চলতে পারে। এটা দেখার দায়িত্ব স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের।

দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ পরিদর্শক (এসআই) মোশারফ হোসেন বাংলানিউজকে জানান, এ ধরনের কোনো চিঠি আমরা পাইনি। এদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানার মাধ্যমে বন্ধ করা যেতে পারে। তাছাড়া একজন ট্রলার চালককে নদী থেকে আটকের পর তার বিরুদ্ধে কোনো আইনে মামলা দায়ের করব। এটা দেখার দায়িত্ব বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষের।

এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) জান্নাতুল ফেরদৌস বাংলানিউজকে বলেন, ইঞ্জিন চালিত ট্রলার বন্ধের কোনো দিকনির্দেশনা আমাদের নেই। নির্দেশনা পেলে অনুমোদন বিহীন নৌযানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সূত্র: বাংলানিউজ২৪

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close