অন্য পত্রিকা থেকে

বর্ণিল আলোয় বীরশ্রেষ্ঠদের স্মরণ

ইসমাইল হোসেন: স্তম্ভগুলো স্মৃতির। সন্ধ্যা হলেই আঁধার ফুঁড়ে পিরামিড আকৃতির সাতটি স্তম্ভ হয়ে ওঠে আলোয় রঙিন। সবুজ লতায় মাখা ঝলমলে সে আলো চোখে প্রশান্তি দেয় পথচারীদের। আর এ আলোতেই খুঁজে পাওয়া যাবে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযুদ্ধের সাত বীরশ্রেষ্ঠকে।

স্বাধীনতাযুদ্ধে অসামান্য কৃতিত্বের জন্য মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর, হামিদুর রহমান, মোস্তফা কামাল, মো. রুহুল আমিন, মতিউর রহমান, মুন্সী আব্দুর রউফ ও নূর মোহাম্মদ শেখ উপাধি পান বীরশ্রেষ্ঠ। এই শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণে রাজধানী ঢাকার মো. জিল্লুর রহমান ফ্লাইওভারের প্রবেশমুখ বিমানবন্দর সড়কে রেডিসন হোটেল পেরিয়েই বনানী এমইএস বাসস্ট্যান্ড। আর ফ্লাইওভারে ওঠা-নামার এ স্থানে বিমানবন্দর সড়কের বাঁকে শোভা পাচ্ছে নান্দনিক এ স্মৃতিস্তম্ভ ‘বীরসপ্তক’।

বিভিন্ন স্থানে জাতির এই শ্রেষ্ঠ সন্তানদের সমাধি থাকলেও এ স্মৃতিস্তম্ভ যেন তাদের যুথবদ্ধ রাখার প্রয়াস। গোলাকার সুচালো নেটঘেরা স্তম্ভগুলোর ভিতরে সবুজ লতা যেন তাদের জড়িয়ে রেখেছে বন্ধনে। বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলার সময় উদ্বোধন করা হয় বীরসপ্তক। সন্ধ্যা হলেই ভিন্ন ভিন্ন উচ্চতার সাতটি স্তম্ভে নানান রঙের আলোর প্রক্ষেপণ বর্ণিল করে তোলে এমইএস বাসস্ট্যান্ড এলাকা।

সেদিন মধ্যরাতেও বীরসপ্তকে দেখা গেলো বর্ণিল আলোর খেলা। সাতটি স্তম্ভে আলোর প্রক্ষেপণ চারিদিকের অন্ধকারকেও সৌন্দর্যের সঙ্গী করে তুলেছে। দূর থেকে তাকালেও যেন মনে হয় নিভৃতে আলো ছড়াচ্ছেন সেই সাত বীর সেনা। রাত জেগে বীরসপ্তক পাহারা দিচ্ছিলেন দুই নিরাপত্তাকর্মী কামাল হোসেন ও খলিলুর রহমান।

বাংলানিউজকে তারা বলেন, রাত হলেই একসঙ্গে জ্বলে ওঠে টাওয়ারের বাতি। একেকটিতে একেক আলো দিয়ে স্মরণ কর‍া হয় আমাদের বীরশ্রেষ্ঠদের। স্মৃতিস্তম্ভগুলো ঘিরে রয়েছে প্রাকৃতিক লতাপাতা। লতাপাতাগুলো দিয়ে বোঝানো হয়েছে বীরশ্রেষ্ঠদের আদর্শ। এই আদর্শ ছড়িয়ে যাবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে- এমনটাই ভাষ্য বীরসপ্তক স্থপতির।

সৌন্দর্য ছড়ানোর পাশাপাশি স্মৃতিস্তম্ভগুলো উত্তর ও দক্ষিণ ঢাকার মধ্যে সেতুবন্ধন রচনা করেছে। জীব আর জীবনের প্রতীক গাছ। আর এই স্মৃতিস্তম্ভগুলোকে রূপক অর্থে গাছ হিসেবেই দেখ‍ানো হয়েছে, যা কথা বলবে জীবনের। স্মৃতিস্তম্ভগুলোয় নানান রঙের আলোর প্রতিফলন সফটওয়্যারের মাধ্যমে সাজানো। কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত অ্যাডভান্স এলইডি পদ্ধতি বিভিন্ন দিবসেও আলাদা আলো দিয়ে আলাদা রঙের আবহ তৈরি করতে সক্ষম।

গত বছরের ২৭ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জিল্লুর রহমান ফ্লাইওভারের উদ্বোধন করেন। আর সেনাবাহিনীর স্পেশাল ওয়ার্ক অর্গানাইজেশনের (এসডব্লিউ-ওয়েস্ট) আওতায় এ স্মৃতিস্তম্ভগুলো তৈরি করা হয়। এতে ব্যয় হয়েছে দুই কোটি টাকার ওপর। স্মৃতিস্তম্ভের স্থপতি ছিলেন এহসান খান। আলোর কাজ করেছে এইচ এস ইন্টারন্যাশনাল। সাতটি স্তম্ভের এই ঝিলিমিলি আলো বিমানবন্দর সড়ককেও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। বীরসপ্তক ঘিরে ধাতব জাল ও ফুলের গাছ প্রকৃতির কাছাকাছি নিয়ে যায় দর্শনার্থীদের।

স্মৃতিস্তম্ভের নিরাপত্তাকর্মীদ্বয় জানান, সন্ধ্যা নামতেই দর্শনার্থীদের ভিড় বেড়ে যায়। এখানে এসে ছবি তুলতেও ভুল করেন না কেউ কেউ। এভাবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ছড়িয়ে যাক বীরশ্রেষ্ঠদের আদর্শ-স্মৃতি।

 

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close