অন্য পত্রিকা থেকে

আইএসআইএস দানবীয় বাহিনীতে ইউরোপীয় কিশোর

 

আইএসআইএস দানবীয় বাহিনীতে ইউরোপীয় কিশোর!

আন্তর্জাতিক ডেস্কপ্রায় পাঁচ হাজার বিদেশি কিশোর ইরাক ও সিরিয়ার দ্য ইসলামিক স্টেট অব ইরাক অ্যান্ড সিরিয়া (আইএসআইএস) জঙ্গি বাহিনীর তালিকায় নাম লিখিয়েছে। আইএসআইএস জঙ্গি বাহিনীতে এই কিশোরদের যোগ দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে চরম অস্বস্তিতে পড়েছে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলো।

যে সব দেশের কিশোররা ইরাক ও সিরিয়াভিত্তিক আইএসআইএসে যুক্ত হচ্ছে, সে দেশগুলোর প্রথম কাতারে রয়েছে- যুক্তরাজ্য, জার্মানি, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস ও ফ্রান্স। ইউরোপীয় কিশোরদের এই ধ্বংসাত্মক জঙ্গি কর্মকাণ্ড সামাজিক অনলাইন গণমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক নেতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি করেছে।

এতদিন বিভিন্ন দেশে যুদ্ধের সময় বিশেষ করে আফ্রিকায় কিশোরদের ব্যবহার নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয়ভুক্ত দেশগুলো। এবার খোদ ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশের কিশোররা ধর্মীয় উন্মাদনায় মেতে ওঠায় ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে এবং তা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশের প্রায় পাঁচ হাজার কিশোর জঙ্গি সংগঠন আইএসআইএসে যোগ দেওয়ায় ইউরোপীয়দের মনে ব্যাপক উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার জন্ম দিয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

সম্প্রতি, বেলজিয়ামের অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত একটি ছবিতে দেখা যায়, ১৩ বছরের স্কুল পড়ুয়া একটি শিশু যুদ্ধের নানা ভঙ্গিতে পোঁজ দিয়েছে। ইউনূস এবাউদ নামের বেলজিয়ামের এই শিশুটি বড় ভাইয়ের পথ অনুসরণ করে আইএসআইএস-এ নিজেকে একজন ‘সাহসী কিশোর যোদ্ধা’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

আরেকটি ছবিতে দেখা যায়, ইউনূস একে-৪৭ রাইফেল নিয়ে উপরের দিকে তাক করে লড়াই করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আরো একটি ছবিতে দেখা যায়, হাতে একটি ভারী অস্ত্র নিয়ে ট্রিগার পয়েন্টে আঙুল ধরে রেখেছে সে। ব্রাসেলসে জন্মগ্রহণকারী ইউনূস এবাউদ সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানায়, এ বছরের শুরুর দিকে সে তার বড় ভাই আবেল হামিদ এবাউদের সঙ্গে সিরিয়ায় এসেছে।

বেলজিয়ামের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, ইউনূস এবাউদ ও আবেল হামিদ এবাউদ দুকানির বাবা মো. উমর প্রায় ৪০ বছর আগে মরক্কো থেকে জীবিকার সন্ধানে বেলজিয়ামে এসেছিলেন। লন্ডন কিংস কলেজের একাডেমিশিয়ান ও সিনিয়র ফেলো সিরাজ মাহের একটি টুইট বার্তায় ইউনূসের বিস্তারিত পরিচয় তুলে ধরেছেন। তার টুইট বার্তাটি তাৎক্ষণিকভাবে টুইটারে ব্যাপক সাড়াও ফেলে।

বর্তমানে আইএসআইএসে ইউরোপীয় যেসব দেশের জঙ্গি রয়েছেন, তার মধ্যে যুক্তরাজ্য শীর্ষস্থানে রয়েছে, যার সংখ্যা প্রায় পাঁচশ। কিন্তু জনসংখ্যার অনুপাতে এ সংখ্যা বেলজিয়ামেরই বেশি। সেখানে আইএসআইএসের বিদেশি জঙ্গির সংখ্যা প্রতি মিলিয়নে ২৭ জন। এই বিশাল অংকের কিশোর যোদ্ধা নিয়ে চরম অস্বস্তিতে রয়েছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ। এখন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অপেক্ষা করছেন, ইউরোপীয় দেশগুলোর সরকার আইএসআইএস থেকে তাদের দেশের কিশোর নাগরিকদের ফিরিয়ে আনতে কী উদ্যোগ গ্রহণ করে!

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close