অন্য পত্রিকা থেকে

শিল্প কাঁচামাল আমদানিতে ধস

হামিদ বিশ্বাস: শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে ধস নেমেছে। আমদানি হচ্ছে না মূলধনী যন্ত্রপাতি। সঙ্গে এলসিও। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিনিয়োগের সুষ্ঠু পরিবেশ এখনও ফিরে আসেনি। অর্থনীতিবিদ ও বিশিষ্টজনদের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে রাজনৈতিক থমথমে পরিস্থিতি বড় ঝড়ের পূর্বাভাস। সে কারণে দেশে ছোট-খাটো ও বিচ্ছিন্ন বিনিয়োগ ছাড়া বড় কোন বিনিয়োগ নেই।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে বিনিয়োগ হচ্ছে না। পরিবেশ না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে বড় শিল্প স্থাপনের জন্য মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি করছেন না বিনিয়োগকারীরা। আমদানি কমে যাওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকে রিজার্ভের পরিমাণ প্রতিনিয়ত বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, জুলাইয়ে শিল্প স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি কমেছে ৪৯ শতাংশ।

একইসঙ্গে পণ্য আমদানিতে ঋণপত্র (এলসি) খোলার হারও কমেছে ১১ দশমিক ৬১ শতাংশ। অথচ বাংলাদেশ ব্যাংকের গত ২০১৩-১৪ অর্থবছরের এলসি সংক্রান্ত বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে গত অর্থবছরে পণ্য আমদানির জন্য প্রায় ৪ হাজার ২০০ কোটি ডলারের এলসি খোলা হয়, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ১৬ দশমিক ২১ শতাংশ বেশি। আগের ২০১২-১৩ অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৫৯৪ কোটি ডলার। কিন্তু সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি ২০১৪-১৫ অর্থবছরের প্রথম মাসেই আমদানি কমেছে ১১ দশমিক ৬১ শতাংশ। জুলাইয়ে পণ্য আমদানি এলসি খোলা হয় ৩৪৮ কোটি ৭০ লাখ ডলারের।

গত বছরের জুলাইয়ে এ পরিমাণ ছিল ৩৭১ কোটি ৭০ লাখ ডলার। খাতওয়ারি পণ্য আমদানির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত অর্থবছরে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে রেকর্ড পরিমাণ ৩৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়। ওই অর্থবছরের জুলাইয়ে ২৫ কোটি ৫ লাখ ডলারের মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি করেন শিল্পপতিরা। চলতি অর্থবছরে জুলাইয়ে তা ৪৯ শতাংশ কমে ১৩ কোটি ডলারে নেমে এসেছে। আলোচ্য সময়ে পোশাকশিল্পের কাঁচামাল আমদানিও কমেছে। গত বছরের জুলাইয়ে কটন আমদানি করা হয় ১৬ কোটি ৮ লাখ ডলারের।

চলতি বছরের জুলাইয়ে তা কমে হয়েছে ১৪ কোটি ডলারের। তৈরি পোশাকের কাঁচামাল টেক্সটাইল ফেব্রিক্স আমদানিতে এলসি খোলার পরিমাণ ৫২ কোটি ৫ লাখ ডলার থেকে কমে হয়েছে মাত্র ৮০ লাখ ডলার। ওষুধশিল্পের কাঁচামাল ১০ লাখ কমে ৩ কোটি ২ লাখ ডলারের এলসি খোলা হয়েছে। সিমেন্টের কাঁচামাল কিংকার ও লাইমস্টোন আমদানিতে এলসি খোলা হয়েছে মাত্র ১ কোটি ৫০ লাখ ডলারের। অথচ গত বছরের জুলাইয়ে এ পরিমাণ ছিল ৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, গত বছরের জুলাইয়ের তুলনায় চলতি বছরের জুলাইয়ে ৩৪টি পণ্যের মধ্যে চাল ও দুগ্ধজাত পণ্যসহ কয়েকটি পণ্য আমদানি বেড়েছে। সিংহভাগ পণ্য আমদানি হ্রাস পেয়েছে। আলোচ্য সময়ে চাল আমদানিতে ২ কোটি ৮০ লাখ ও দুগ্ধজাত খাদ্য আমদানিতে ২ কোটি ডলারের এলসি খোলা হয়েছে। এছাড়া এ সময়ে ৬ কোটি ৩০ লাখ ডলারের গম, ৪ কোটি ৫০ লাখ ডলারের ভোজ্যতেল ও ২০ লাখ ডলারের শুকনো ফল আমদানি করা হয়েছে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close