আরববিশ্ব জুড়ে

বাংলাদেশসহ ৬টি দেশের শ্রমিকের সন্তানদের ফেরৎ পাঠাচ্ছে লেবানন

আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশসহ ৬টি দেশের শ্রমিকদের সন্তান এবং কয়েকটি ক্ষেত্রে তাদের মায়েদের স্বদেশে ফেরত পাঠাচ্ছে লেবানন। পরিবর্তিত নতুন অভিবাসন নীতি অনুযায়ী, লেবাননে জন্মগ্রহণ করলেও, স্বল্প পারিশ্রমিক পাওয়া শ্রমিকদের সন্তান এবং বিশেষ ক্ষেত্রে তাদের স্বামী বা স্ত্রীর ক্ষেত্রে এ আইন প্রযোজ্য হবে। তাদের রেসিডেন্সি পারমিট নবায়ন করা হবে না।

এইচআরডব্লিউ’র মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের ডেপুটি পরিচালক নাদিম হুরি বলছিলেন, লেবানন কর্তৃপক্ষ তাদের প্রণীত নতুন নীতির পক্ষে কোন যুক্তি উপস্থাপন করেনি এবং তাদের উচিত অবিলম্বে এ নির্দেশনা বাতিল করা। কারণ, নতুন এ নীতি পারিবারিক জীবনের অধিকারে হস্তক্ষেপ করছে।

বাংলাদেশ ছাড়া অন্য দেশগুলো হচ্ছে, শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইন, ঘানা, দক্ষিণ সুদান ও মাদাগাসকার। আজ যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) প্রকাশিত এক রিপোর্টে এ তথ্য দেয়া হয়েছে। বিদেশীদের লেবাননে প্রবেশ ও তাদের বসবাসের অনুমতি দেয়ার বিষয়ে তত্ত্বাবধানে থাকা লেবাননের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা ‘জেনারেল সিকিউরিটি’ নতুন এ সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছে।

লেবাননের অভিবাসন নীতি অনুযায়ী, স্বল্প পারিশ্রমিক পাওয়া অভিবাসী শ্রমিকদের কয়েকটি সুনির্দিষ্ট ক্যাটিগরিতে বিশেষ করে গৃহস্থালির শ্রমিকরা তাদের স্বামী বা স্ত্রী বা সন্তানদের রেসিডেন্সি পারমিটের জন্য স্পন্সর হতে পারবেন না। তবে অতীতে লেবাননে জন্মগ্রহণকারী শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য ৪ বছর বয়স পর্যন্ত রেসিডেন্সি পারমিট নেয়ার সুযোগ ছিল এবং এরপর তারা স্কুলে ভর্তি হলে, নতুন করে তাদের জন্য বসবাসের অনুমতি চাওয়ার সুযোগ ছিল। তবে সে আবেদনটা সন্তানের পক্ষ থেকেই করা হতো। কিন্তু নতুন নির্দেশনায় সেসব সুযোগ থাকছে না।

স্বল্প-পারিশ্রমিক পাওয়া অভিবাসী বহু সংখ্যক শ্রমিক, লেবাননে যাদের সন্তান রয়েছে তাদের রেসিডেন্সি পারমিট নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পারিবারিক জীবনের অধিকারের হিসেবে এটা অযথাচিত হস্তক্ষেপ বলে সমালোচনা করছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। ২০১৪ সালের মে মাস থেকে প্রায় ১২ জন নারী অভিবাসী শ্রমিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনকে জানিয়েছেন যে, তারা জেনারেল সিকিউরিটি কার্যালয়ে গিয়েছেন তাদের নিজেদের ও সন্তানদের বসবাসের অনুমতি সংক্রান্ত কাগজপত্র নবায়ন করতে।

ওই নারীদের অধিকাংশই লেবাননে দীর্ঘদিন বসাবাস করছেন। কিন্তু তাদেরকে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। কয়েকজনকে এটাও বলা হয়েছে যে, লেবাননে সন্তান নেয়ার অধিকার তাদের নেই এবং দেশটি ছাড়তে অল্প সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে তাদের। কোন কোন ক্ষেত্রে তাদের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা বা ২ দিন পর্যন্ত সময় দেয়া হয়েছ।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close