জাতীয়

বঙ্গোপসাগরে অংশীদারিত্ব চায় বাংলাদেশ

নিউজ ডেস্ক: সমুদ্রসম্পদ থেকে সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিতের মাধ্যমে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে বঙ্গোপসাগর অংশীদারিত্ব প্রত্যাশা করছে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার সোনারগাঁও হোটেলে ব্লু ইকোনমি নিয়ে ঢাকায় অনুষ্ঠিত কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী বলেন, ব্লু ইকোনমি অবশ্যই সমন্বিত ও জনমুখী হতে হবে।

প্রথমবারের মতো এ কর্মশালার আয়োজন করে বাংলাদেশ, দুই দিনের এই অনুষ্ঠানে ২০টি দেশের ৩০ জনের বেশি বিশেষজ্ঞ ও প্রতিনিধি অংশ নেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সমুদ্র অর্থনীতিতে অংশীজনদের মধ্যে বিভিন্ন মাত্রায় সহযোগিতার ভিত্তিতে অংশীদারিত্ব গড়তে হবে।

এক্ষেত্রে সহযোগিতার একটি ধারণা তুলে ধরে তিনি বলেন, সম্পৃক্ততা, পারস্পরিক আস্থা, শ্রদ্ধা, পারস্পরিক লাভ ও তার সমান বণ্টনের সুনির্দিষ্ট কিছু বৈশ্বিক নীতির ওপর ভিত্তি করে তা হতে হবে। এছাড়া গবেষণা, পর্যবেক্ষণ, তদারকি এবং তথ্য-উপাত্তের বিনিময়ের ক্ষেত্রেও সহযোগিতার সম্পর্ক থাকতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ে ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নির্ধারিত হওয়ায় বাংলাদেশ ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার সমুদ্র অঞ্চল, ২০০ নটিক্যাল মাইলের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং চট্টগ্রাম উপকূল থেকে ৩৫৪ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত মহীসোপানে অবস্থিত সব ধরনের প্রাণিজ ও অপ্রাণিজ সম্পদের ওপর সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার অধিকার পেয়েছে। এতে বঙ্গোপসাগর থেকে বিপুল সম্পদ আহরণের আশা তৈরি হয়েছে এবং তার ওপর জোর দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও। তবে সমুদ্র সম্পদের প্রাপ্যতা, উত্তোলন এবং ব্যবহার সম্পর্কে বাংলাদেশের পর্যাপ্ত দক্ষ জনবল এবং প্রযুক্তির অভাব রয়েছে।

কর্মশালায় আলোচনার ভিত্তিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঊপকূলীয় দেশগুলোর টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আসুন আমরা একযোগে ব্লু অর্থনীতির জন্য বঙ্গোপসাগর অংশীদারিত্ব নিয়ে এগিয়ে যাই। ঢাকা থেকে এই বার্তা নিয়ে যাওয়ার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি। টেকসই উন্নয়ন বিশেষত ২০১৫ পরবর্তী উন্নয়ন লক্ষ্য নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ব্লু অর্থনীতি। এর আগে ছোট দ্বীপ দেশগুলো বিষয়টি নিয়ে নিজেদের ফোরামে আলোচনা করে।

বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, এটা মাছ ধরা নয়। এটা বলতে সমুদ্র সম্পদের ব্যবস্থাপনা কৌশল এবং তার সুফল পাওয়ার বিষয়টিকে বিবেচনায় নেয়া হয়। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমুদ্র বিষয়ক দপ্তরের সচিব খুরশীদ আলম, মন্ত্রণালয়ের ইকোনমিক উইংয়ের মহাপরিচালক রিয়াজ হামিদুল্লাহ বক্তব্য দেন। দুই দিনের কর্মশালার সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন রিয়াজ।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close