স্থানীয়

মৌলভীবাজার স্টেডিয়ামে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী মহসিনের মেয়ের রাজসিক বিয়ে

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলীর মেয়ের বিয়ে উপলক্ষে মৌলভীবাজার স্টেডিয়ামে চলছে রাজসিক আয়োজন। হাজার পনের অতিথির ভোজের আয়োজনের পাশাপাশি যাতায়াতের জন্য ভেঙে ফেলা হয়েছে স্টেডিয়ামের সীমানা প্রাচীরের ২০ ফুট। মেয়ের বিয়ে উপলক্ষে বুধবার মৌলভীবাজার সার্কিট হাউসে মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা করেন মহসিন  আলী।

বিয়ের অনুষ্ঠান সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার জন্য সাংবাদিকসহ সবার সহযোগিতা চান মন্ত্রী, যিনি শিশুদের অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে ধূমপান করে এবং সাংবাদিকদের হুমকি দিয়ে সম্প্রতি সমালোচনার মুখে পড়েন। মন্ত্রীর দ্বিতীয় মেয়ে সৈয়দা সানজিদা শারমিনের বিয়ে বৃহস্পতিবার। বর লক্ষ্মীপুর জেলার শ্রীরামপুর গ্রামের জনৈক ইব্রাহিম পাটওয়ারীর ছেলে মোশাররফ পাটওয়ারী।

বুধবার শহরের রঘুনন্দনপুরে মৌলভীবাজার স্টেডিয়ামে গিয়ে দেখা যায়, অনুষ্ঠানে আসা অতিথিদের আপ্যায়নের জন্য তৈরি করা হয়েছে পাঁচটি প্যান্ডেল। একটিতে বর ও বরযাত্রী; একটিতে কনে ও নারীরা; একটি জেলার সাত উপজেলার অতিথি; একটি করা হয়েছে হিন্দু সম্প্রদায় এবং একটি অন্য অতিথিদের জন্য। মাঠের উত্তর দিকে প্রবেশপথে চলাচলের জন্য কর্দমাক্ত স্থানে বালি ফেলা হয়েছে। স্টেডিয়াম এলাকায় ঢুকে যাতে নির্বিঘেœ গাড়ি বেরিয়ে আসতে পারে সেজন্য স্টেডিয়ামের উত্তর দিকে প্রবেশপথের তোরণের পশ্চিম পাশে স্টেডিয়ামের এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের সীমানা প্রাচীরের প্রায় ২০/২২ ফুট দেয়াল ভেঙে ফেলে তৈরি হয়েছে সুড়কি বিছানো রাস্তা।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মিছবাহুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, বিধিসম্মতভাবে স্টেডিয়াম ব্যবহারের আবেদন করা হয়েছে। আমরাও বিধিসম্মতভাবে মাঠ ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছি। অবশ্য সীমানা প্রাচীর ভাঙার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।

সৈয়দ মহসিন আলী বলেন, অনুমতি নিয়ে স্টেডিয়ামে বিয়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে স্টেডিয়ামের কোনও ক্ষতি হচ্ছে না, বরং গর্ত ও কর্দমাক্ত মাঠে বালু ফেলায় স্টেডিয়ামের উন্নতি হচ্ছে। শহরের যানজট এড়াতে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, অতিথিদের যানবাহনের সুবিধার্থে সীমানা প্রাচীরের কিছু অংশ ভাঙা হয়েছে। ওই অংশটি মেরামত করে আবার ঠিক-ঠাক করে দেয়া হবে। বিয়ে উপলক্ষে মন্ত্রীর পরিবারের সদস্য ও দলের লোকজন গত সপ্তাহখানেক ধরে চিঠি এবং মৌখিকভাবে অতিথিদের দাওয়াত দিচ্ছেন। প্রায় ১৫ হাজার কার্ড তারা বিলি করেছেন বলে জানা গেছে।

বিয়েতে খাবারের আয়োজন প্রসঙ্গে মন্ত্রীর ছোট ভাই সৈয়দ সালমান আলী স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, ১৫ থেকে ১৮ হাজার অতিথিকে খাওয়ানোর প্রস্তুতি আছে। মুসলিম অতিথিদের জন্য প্লেইন পোলাও, রোস্ট আর গরুর রেজালা থাকবে। হিন্দু সম্প্রদায়ের  জন্য খাসি ও মাছের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী গরু ও খাসি জবাই করা হবে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে ২৫টি গরু ও ৮০টি খাসি জবাই করা হতে পারে। অতিথি আপ্যায়ণ নিয়ন্ত্রন আইনে ইতোমধ্যে এই ভোজের জন্য ভ্যাটও পরিশোধ করা হয়েছে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close